২০ নভেম্বর, ২০১৮ । ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

ইভিএম অধ্যায়ের যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ডিসেম্বর ১৪, ২০১৭ - ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

সর্বশেষ গত ২০১২ সালে কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ নেতৃত্বাধীন কমিশন রংপুরে ছোট পরিসরে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করছিল। পাঁচ বছর পর আবারও রংপুরেই ইভিএম অধ্যায়ের যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। এরই মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন রংপুরে একটি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। কিন্তু কোন কেন্দ্রে এটি ব্যবহার করবেন বুধবার সেটি নির্ধারণ করেছে ইসি।

জানা যায়, রংপুর সিটি করপোরেশনের ২৫ নং ওয়ার্ডের ১৪১ নং ভোটকেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। ওই কেন্দ্রে ২ হাজার ৫৯ জন ভোটার রয়েছেন। নিউ শালবন ও শালবন এলাকার এসব ভোটার ৬ কক্ষে ইভিএমের মাধ্যমে তাদের ভোট প্রদান করবেন। এই নতুন মেশিনে ভোটদানে ভোটারদের উৎসাহ দিতে বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মক ভোটিংয়ের ব্যবস্থা করছে ইসি। এই এলাকার ভোটাররা এই কয়েকদিন পরীক্ষামূলক ভোট দিতে পারবেন।

ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রংপুর সিটিতে নতুন ইভিএমে (১৪১ নং ভোটকেন্দ্রে) ভোটগ্রহণ হবে। এজন্য ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে নতুন ইভিএমের মাধ্যমে ভোটপ্রদান ও ভোটারদের সচেতন করতে ভিডিও চিত্র তৈরি করা হবে।

জানা গেছে, ইসি ২০১৬ সালে নিজেদের উদ্যোগে ইভিএম বানানোয় হাত দেয়। রংপুর সিটিতে ইসির তৈরি যন্ত্রটির প্রথম পরীক্ষামূলক ব্যবহার হচ্ছে। তবে এই ক্ষেত্রে ফিঙ্গার প্রিন্টের অপশন নাও থাকতে পারে।

ইভিএমের বিষয়ে রংপুর সিটির রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, একটি কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মক ভোটিং চলবে। আমরা এজন্য এলাকায় প্রচারণাও করছি। মক ভোটিংয়ের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে মেশিনের পরিচিত ঘটবে।

এদিকে আসছে জাতীয় নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহারের পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনার মধ্যেও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) বিদ্যমান পদ্ধতির পাশাপাশি ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম।

তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, যদিও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। তারপরও পরবর্তী নির্বাচনে যদি ইভিএম ব্যবহার করতে চাইলে যেনো করা যায়, সেজন্য বিদ্যমান পদ্ধতির পাশাপাশি ইভিএম ব্যবহার করার সুযোগ রাখা হচ্ছে।

জানা যায়, স্থানীয় নির্বাচনে ২০১০ সালে সীমিত পরিসরে ব্যবহার শুরু হলেও বুয়েটের তৈরি ওইসব ইভিএমের কারিগরী ক্রুটির ও রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে ২০১২ সালের পর আর কোনো নির্বাচনে তা ব্যবহার হয়নি। এবার সীমিত পরিসরে মাত্র একটি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার হচ্ছে। তবে নতুন ইভিএম ব্যবহার হবে বলে নিশ্চিত করেছেন ইসির কর্মকর্তারা।

এরআগে বুয়েটের তৈরি ইভিএম প্রথম ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের একটি ওয়ার্ডে ব্যবহার করা হয়। পরে নায়ায়ণগঞ্জের কয়েকটি ওয়ার্ডে, নরসিংদী পৌরসভা ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পুরো নির্বাচন ইভিএমে করা হয়।

বুয়েট ও ইসির মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে ২০১৬ সালে ইসি নিজেদের উদ্যোগে ইভিএম বানানোয় হাত দেয়। এতে জালভোট ঠেকাতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতির সহায়তা নেওয়া হবে। নতুন এ পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে ভোটার পরিচিতি নিশ্চিত করা হবে। গত ১১ মে সিইসি কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসির সামনে তা উপস্থাপনও করা হয়। রংপুর সিটিতে প্রথম যন্ত্রটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার হচ্ছে। তবে এই ক্ষেত্রে ফিঙ্গর প্রিন্টের অপশন নাও থাকতে পারে। দলীয় প্রতীকে ২১ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো রংপুর সিটির ভোট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

সর্বশেষ
পঞ্জিকা
নভেম্বর ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
« অক্টো    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
ছবি গ্যালারি