২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ । ১১ আশ্বিন, ১৪২৫

‘এই দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসবে’: শিশু-কিশোরদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | মার্চ ২৭, ২০১৮ - ১২:৫৭ অপরাহ্ণ

শিশু-কিশোরদের দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও মমত্ববোধ নিয়ে বেড়ে উঠে বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বে আত্মমর্যাদা নিয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাধীনতার পর ৪৭ বছরের অভিযাত্রায় যে সাফল্য বাংলাদেশ অর্জন করেছে, আগামী দিনে তাকে আরো এগিয়ে নিতে নতুন প্রজন্মকে তৈরি হতে বলেছেন তিনি।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সোমবার সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ঢাকা জেলা প্রশাসন আয়োজিত শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব সময় নিজেদের বিজয়ী জাতি হিসেবে চিন্তা করে আত্মপ্রত্যয় নিয়ে চলবে, তোমরাই এ দেশকে গড়ে তুলবে, এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘এই দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসবে। আগামী দিনে এই দেশকে তোমরা গড়ে তুলবে। আমরা যেখানে রেখে যাব, সেখান থেকে তোমরাই দেশকে আরো উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

শিশু-কিশোরদের লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হয়ে মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করার এবং শিক্ষকদের কথা মেনে চলারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজকের শিশু তোমরা, যারা এখানে উপস্থিত এবং যারা সারা দেশে রয়েছে, সবাইকে আমি এটাই বলব, আজকের শিশুই তো আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।’ শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর মতো প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বড় বড় বিজ্ঞানী, খেলোয়াড়, সংস্কৃতিকর্মী—অনেক কিছুই এই শিশুরা হতে পারবে।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকলে একটা বিষয় লক্ষ রাখবেন, আপনাদের শিশুরা যেন কোনোভাবেই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বা মাদকে আসক্ত না হয়। তারা যেন মন দিয়ে লেখাপড়া শেখে, মানুষের মতো মানুষ হয়।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদেরকে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, এখন আমাদের লক্ষ্য এই বাংলাদেশকে বিশ্ব সভায় মর্যাদার আসনে নিয়ে আসা। ইতিমধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে পেরেছি। কারো কাছে হাত পেতে নয়, কারো কাছে মাথা নত করে নয়, আমরা মর্যাদার সঙ্গে বিশ্বে চলব। কারণ, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি।’

পঁচাত্তরের বিয়োগান্তক অধ্যায় স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দুঃখের বিষয় ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।’ তিনি বলেন, তিনি এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় সে সময় প্রাণে বেঁচে যান এবং ছয় বছর রিফিউজি হিসেবে বিদেশে কাটাতে হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাঁকে (শেখ হাসিনা) ১৯৮১ সালে দলের সভাপতি নির্বাচিত করায় তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশে আসার পর বাংলাদেশের জনগণের দুঃখ-দুর্দশা ঘোচানো আর ছোট্ট ছোট্ট শিশু-কিশোরদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নেই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০২১ সালে যখন আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করব তখন বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত দেশ। ২০২০ সালে আমরা আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করব, আর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। আর সেই দেশ আমরা ইনশাআল্লাহ গড়ে তুলব।’

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী সালাম গ্রহণ করেন এবং কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এ সময় গ্যালারিতে মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়। মঞ্চে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে সারা দেশের স্কুল-কলেজ এবং মাদরাসা পর্যায়ে শুদ্ধসুরে জাতীয় সংগীত গাওয়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী ১১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী দলগতভাবে স্বর্ণ, রোপ্য এবং ব্রোঞ্জ পদক প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে শিশু-কিশোর সমাবেশের উদ্বোধন করেন। এর পরই সমবেত কণ্ঠে শুদ্ধসুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা : এর আগে সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে রাজধানীর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরেকবার ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

মুক্তিযোদ্ধাদের শুভেচ্ছা উপহার প্রধানমন্ত্রীর : এদিকে দেশের সব মুক্তিযোদ্ধাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তাঁর শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে মোহাম্মদপুরের গজনভী রোডে শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ফুল, ফল ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রাইভেট সেক্রেটারি (এপিএস) সাইফুজ্জামান শিখর, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন, প্রটোকল অফিসার খুরশিদ-উল-আলম ও অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার গাজী হাফিজুর রহমান গতকাল সকালে উপহারসামগ্রী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে হস্তান্তর করেন।

ডাকটিকিট অবমুক্ত :  বিকেলে গণভবনে একটি স্মারক ডাকটিকিট, একটি উদ্বোধনী খাম ও একটি ডাটা কার্ড অবমুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ইউনেসকোর স্বীকৃতি উদ্‌যাপন উপলক্ষেও প্রধানমন্ত্রী একটি স্মারক ডাকটিকিট, একটি উদ্বোধনী খাম ও একটি ডাটা কার্ড অবমুক্ত করেন। অবমুক্ত করা প্রতিটি টিকিট ও উদ্বোধনী খামের মূল্য ১০ টাকা এবং প্রতিটি ডাটা কার্ডের মূল্য ৫ টাকা। এতে দুটি বিশেষ সিলমোহর ব্যবহার করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

সর্বশেষ
পঞ্জিকা
সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
« আগ    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
ছবি গ্যালারি