২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ । ৫ আশ্বিন, ১৪২৫

‘কথা বললে তারা কেন উত্তেজিত হয়ে যান?’ঃ অ্যাটর্নি জেনারেল

নিজস্ব প্রতিবেদক | মে ৯, ২০১৮ - ৯:০৪ অপরাহ্ণ

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম  বলেছেন, আমি ধারাবাহিকভাবে যখনই (শুনানিতে) বলতে গিয়েছি  ‘প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল’, তখনই তারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) চিৎকার দিয়ে ওঠেন। অদ্ভুত ব্যাপার! আমি যখনই বলি যে, টাকাটা এসেছিল প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলে এবং সেখান থেকে টাকাটা চলে গেছে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে, তখনই তাদের সমর্থক আইনজীবীরা চিল্লাচিল্লি করে আমার বক্তব্য প্রদানে বাধা সৃষ্টি করে। মাহবুবে আলম প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কথা বললে তারা কেন উত্তেজিত হয়ে যান? আমি বুঝি না।’
বুধবার (৯ মে) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আপিল আদেশের দিন নির্ধারণের পর সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুবে আলম বলেন, ‘হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছিল।সেই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন ও রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যে আপিল ফাইল করা হয়েছিল, সেই আপিলের শুনানি আজ (বুধবার) সম্পন্ন হয়েছে। আজকে খালেদা জিয়ার পক্ষে চারজন আইনজীবীকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়েছে। দুদকের মামলায় খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে আপিলে আমি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে বক্তব্য রেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমার বক্তব্যে আমি উল্লেখ করেছি, দুদকে অন্যান্য যে মামলাগুলো হয়েছে, সেগুলোতে সম্পত্তির বিবরণ দিতে ভুল করা, সম্পত্তির বিবরণী না দিয়ে তথ্য গোপন করা সংক্রান্ত, সেজন্য তাদের সাজা হয়েছে। তবে এই মামলাটির বৈশিষ্ট্য হলো— প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল নামে একটি তহবিল ১৯৯১ সালে খোলা হয়। তারপর বিদেশ থেকে এই তহবিলের নামেই ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার আসে এবং এই অ্যাকাউন্টে ওই টাকা জমা হয়। পরবর্তী সময়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নামে একটি ট্রাস্ট করা হয়। যার পরিচালক ছিলেন খালেদা জিয়ার দুই পুত্র ও জিয়াউর রহমানের একজন আত্মীয়। এই ট্রাস্ট গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর যে এতিম তহবিল, সেখান থেকে পুরো উত্তোলন করা হয়। সেই টাকা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে জমা করা হয়। সেখানেও টাকাটা খরচ করা হয়নি। কিন্তু টাকাটা শরফুদ্দিন নামে এক ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যায়।’

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই আইনি কর্মকর্তা আরও  বলেন, ‘এই টাকা চলে যাওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল থেকে যদি অনুমতি না দিতেন, তাহলে টাকাটা এভাবে আত্মসাৎ হতে পারতো না। কাজেই এই মামলার বৈশিষ্ট্য হলো— রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ হয়ে গেছে এবং যে ফান্ডে টাকা দেওয়া হয়েছে, তা একটি ব্যক্তিগত ট্রাস্ট। খালেদা জিয়ার দুই পুত্র এবং তার এক আত্মীয় তারাই এটার পরিচালক।’

মাহবুবে আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে, পাক-ভারতের ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় কোনও তহবিলের টাকা এভাবে কখনও উত্তোলিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজের পুত্র এবং আত্মীয়ের পরিচালিত একটি ট্রাস্টে চলে যাওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। এটাই আদালতকে বলেছি। অন্যান্য মামলার সঙ্গে এই মামলার তফাৎ এখানেই। এখানে তার যে সাজা দেওয়া হয়েছে, তাতে তাকে যদি এখনই জামিন দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তিনি আর আপিল শুনানি করবেন না এবং এটা কাগজেই রয়ে যাবে। ফৌজদারি কার্যবিধি এখানে ব্যাহত হবে। তাই আমি আদালতকে বলেছি, তারা যেভাবে বিচারিক আদালতে এ মামলার শুনানিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ৯ বছর সময় লাগিয়েছে, এখন জামিন দিলে এই আপিলের আর শুনানি হবে না। তার দণ্ড দেওয়া কাগজেই রয়ে যাবে। কাজেই তিনি যে নিরাপরাধ এটা প্রমাণ করার সুযোগ উনার (খালেদা জিয়ার) আছে। মামলার পেপারবুক তৈরি হয়ে গেছে। এখনই শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করতে পারেন। হাইকোর্ট এই নির্দেশই দিয়েছিলেন, যে কোনও পক্ষ এনিয়ে শুনানি করতে পারে। কিন্তু আপিল শুনানি নিয়ে তাদের কোনও আগ্রহ নেই। তাদের শুধু জামিন নিয়ে অস্থিরতা।’

খালেদা জিয়া জামিন পেলে আপিল শুনানি করবেন না এমন আশঙ্কার কারণ জানতে চাইলে মাহবুবে আলম বলেন, ‘নিম্ন আদালতে তারা মামলাটাকে কোনোমতে এগোতে দেয়নি। জামিন দিলে এখানেও তাই করবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, তার আইনজীবীরা বলছেন, খালেদা জিয়া নিরাপরাধ। নিরাপরাধ যদি হন, তাহলে আপিল শুনানি করতে বাধা কোথায়? আপিল শুনানি করে তারা প্রমাণ করুক, উনি নিরাপরাধ।’

মাহবুবে আলমের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের অভিযোগ— আপনি জামিন শুনানিতে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য রেখেছেন। এর জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমার সম্পূর্ণ বক্তব্য জামিনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। আমি ধারাবাহিকভাবে যখনই বলতে গিয়েছি (শুনানিতে) ‘প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল’, তখনই তারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) চিৎকার দিয়ে ওঠে। অদ্ভুত ব্যাপার। আমি যখনই বলি যে টাকাটা এসেছিল প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলে এবং সেখান থেকে টাকাটা চলে গেছে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে তখনই তাদের সমর্থক আইনজীবীরা চিল্লাচিল্লি করে আমার বক্তব্য প্রদানে বাধা সৃষ্টি করেন। কেন কথাটি বললে, তারা উত্তেজিত হয়ে যান? আমি বুঝি না।’

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

সর্বশেষ
পঞ্জিকা
সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
« আগ    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
ছবি গ্যালারি