২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ । ১১ আশ্বিন, ১৪২৫

কুষ্টিয়ায় সড়কের বেহাল অবস্থা; দেখার কেউ নেই !

নিজস্ব প্রতিবেদক | মার্চ ২০, ২০১৮ - ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

কুষ্টিয়ার জনগুরুত্বপূর্ণ তিনটি মহাসড়ক কুষ্টিয়া-খুলনা, কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী’র অবস্থা এতোটাই ভয়াবহ যে মানুষ কুষ্টিয়ার নাম শুনলেই ভয় পায়। সড়ক তিনটির ৮২ কিলোমিটারের পুরোটা ধরেই খানাখন্দ ও বালির আস্তরণে সজ্জিত। তবে সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা নিয়ে সড়ক বিভাগও আতঙ্কিত।

কুষ্টিয়া সওজ জানায়, প্রায় দেড় বছর ধরে কুষ্টিয়া-খুলনা, কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের ৫৫ কিলোমিটার এবং কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের ২৭ কিলোমিটার সড়ক যান চলাচলের জন্য পুরোটাই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দফায় দফায় সংস্কার করা হলেও মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের চাপে তেমন একটা সুফল পাওয়া যায়নি। তবে এই অঞ্চলের মানুষ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের মতো দুজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপর ভরসা রেখেও নিরাশ হয়েছেন বারবার। ফলে ক্রমেই তাদের ক্ষোভ বাড়ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তিনটি মহাসড়কের কুষ্টিয়া অংশের ৮২ কিলোমিটার মহাসড়ক যেন এক মহাদুর্ভোগের নাম। কুষ্টিয়ার মহাসড়কের বর্তমান দশা দেখলেই মহাসড়কের প্রতি মানুষের সংগাটিই যেন পাল্টে যাবে। সড়কগুলোতে পাথর ও বিটুমিনের অস্তিত্ব না থাকলেও আছে ৫ ইঞ্চি আস্তরণের এক বিশাল বালিমহাল। এর থেকে অজগাঁয়ের সড়কের অবস্থাও ঢের ভালো। কুষ্টিয়ার সড়কগুলোর মাধ্যমেই দেশের উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ রক্ষা করা হয়।

কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর থেকে ঈশ্বরদী মহাসড়কের ভেড়ামারা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার, একই স্থান থেকে খুলনা মহাসড়কের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার এবং কুষ্টিয়া থেকে রাজবাড়ী মহাসড়কের খোকসা পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার মহাসড়কে হাজার হাজার ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দ রয়েছে। গতকাল রবিবার পর্যন্ত গত এক বছরে এই তিনটি সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে ১০৮ জনের।

তবে সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির উন্নয়নের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে আগেই। কিন্তু কাজ শুরুর কোনো নামগন্ধও নেই। কারণ সবারই অজানা। তবে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এই সড়ক তিনটির দরপত্র আহ্বান করা হলে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কে আগ্রহী ঠিকাদাররা দরপত্রে অংশ নিলেও কুষ্টিয়া-খুলনা ও কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী সড়কের দরপত্রে কোনো ঠিকাদারই অংশ নিচ্ছেন না। কর্মকর্তারা এর কোনো কারণ না জানালেও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ঠিকাদারদের সঙ্গে একটি মহলের সমঝোতা না হওয়ায় দুটি সড়কে কেউ দরপত্রে অংশ নিচ্ছেন না। অন্যদিকে যে সড়কটিতে দরপত্র সম্পন্ন হয়েছে ওই ঠিকাদারকেও কার্যাদেশ দেওয়া যাচ্ছে না।

কুষ্টিয়া উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি সুমন আশরাফ জানান, ‘বাইপাস সড়কটির কথা বলে কুষ্টিয়ার উন্নয়নের জন্য মানুষকে আইওয়াশ করছে কর্তারা। সড়ক-মহাসড়ক নিয়ে তাঁদের ভাবনা-চিন্তা আছে বলে মনে হয় না আমার।’

প্রতিদিন কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় চলাচল করা লালন পরিবহনের বাসচালক আকবর জানান, এই রাস্তা দিয়ে গরুর গাড়িও চলাচল করতে পারবে না। আমরা যাত্রীদের জীবন হাতে করে প্রতিদিন চলাচল করছি।

হানিফ পরিবহনের নিয়মিত যাত্রী সিরাজুম সালেকীন বলেন, আমি নিয়মিত কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাতে যাতায়াত করি। কিন্তু পথে পথে যে এতো দুর্ভোগ আর যন্ত্রণা; তা কল্পনায় করা যায় না।

এদিকে রাস্তায় মাত্রাতিরিক্ত ধুলা-বালির বিরুপ প্রভাবও পড়তে শুরু করেছে এ অঞ্চলে। এ নিয়ে বেশ চিন্তিত কুষ্টিয়ার পরিবেশবিদ ও কলামিস্ট গৌতম রায়। তিনি বলেন, ‘আসলে এতে করে আমাদের পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে। এ এলাকায় গাছ খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। গাছের সবুজ রঙ এখন ধুলায় মোড়ানো।’

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার সরকার বলেন, ‘ইদানীং কুষ্টিয়ায় শ্বাসকষ্ট, যক্ষ্মা, হাঁপানি, ব্রংকাইটিস, সর্দি, কাশি, হাঁচিসহ চোখের রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। ধুলার দূষণ এসব রোগের অন্যতম কারণ। মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।’

কুষ্টিয়া জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘দেড় বছর ধরে ধৈর্য ধরেছি। আর সম্ভব নয়। দ্রুত সড়ক তিনটির স্থায়ী সংস্কারের ব্যবস্থা না করা হলে সব ধরনের যানবাহন চালানো বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করে সড়ক তিনটির জন্য ২৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করানোর পরও নানা কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।’

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

সর্বশেষ
পঞ্জিকা
সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
« আগ    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
ছবি গ্যালারি