১৯ অক্টোবর, ২০১৭ । ৩ কার্তিক, ১৪২৪

কুষ্টিয়ায় সড়কের বেহাল দশা; কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | অক্টোবর ১১, ২০১৭ - ৬:১৩ অপরাহ্ণ

কুষ্টিয়া-ভেড়ামারা এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। তবে এ মহাসড়কের মজমপুর, বারখাদা ত্রিমোহনী, তালবাড়ীয়া, কদমতলা,রানাখড়িয়া, শিমুলতলা, বহলবাড়ীয়া,৮ মাইল, নয় মাইল কাচারী, ১০মাইলসহ বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গাচোরা খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। পিচ উঠা এসব স্থানে ইট বিছিয়ে কোনরকমে সংস্কার করা হলেও গর্তের পরিমান বেশি হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। ফলে যাত্রীসাধারনদের ভোগান্তীসহ ক্ষতি হচ্ছে যানবাহন মালিকদের। পাশাপাশি যাত্রীরা আতঙ্কে জীবনের তাগিদে চলাচল করছে। বাসের ভেতরে থাকা অনেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কুষ্টিয়া জেলায় তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতার বাড়ি থাকা সত্ত্বেও এই সড়কের বেহাল দশা মেনে নেয়া যায় না। নেতাদের কি এসব চোখে পড়ে না? আর সওজ কর্তৃপক্ষ কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছে?

বাস যাত্রীদের দাবি, রাস্তা সংস্কারের নামে ইট বিছানোয় প্রচন্ড দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এবড়ো-থেবড়ো রাস্তায় প্রচন্ড ঝাঁকুনি সহ্য করে বাসে চেপে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। এভাবে ইট বিছিয়ে সংস্কারের কারণে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ রাখতে বেগ পেতে হচ্ছে। ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনাও। ভাঙ্গাচোরা সড়কের কারণে কয়েক সপ্তাহে সড়কে দুর্ঘটনাসহ মালামাল বোঝাই ট্রাক বিকল হয়ে পড়তে দেখা গেছে।

ট্রাক চালক সুলতান আলী জানান, কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কের অনেকস্থানে ইটের সলিং। যে কারণে খুব সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হয়। কারণ দ্রুত গতি নিয়ে এসব সলিংয়ের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারাবে নিশ্চিত। মালবোঝাই গাড়ি হেলতে দুলতে থাকে। গাড়ি উল্টে যাবার আশঙ্কা থাকে। প্রতিদিন ১-২টা ট্রাক বা বাস  বিকল হয়ে পড়ে থাকায় দীর্ঘ জানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

কুষ্টিয়া-ভেড়ামারা মহাসড়কে বারখাদা ত্রিমোহনী এলাকার উডল্যান্ড ফ্যাক্টরির সামনে একটি ভুট্টা বোঝাই ট্রাক বিকল হয়ে পড়ে। তিনদিন ধরে রাস্তার মাঝে বিকল হওয়া ট্রাকটি পড়ে ছিল। ফলে এই তিনদিন ধরেই সবসময় যানজট লেগেই ছিল।

স্থানীয়রা জানান, এই কারখানার দুটো গেটের সামনে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি গাছের গুড়ি ভর্তি  ট্রাক দাঁড়ানো থাকে। কারখানার এসব ট্রাকে করে নিয়ে আসা গাছের গুড়ি আনলোড করতে অনেক সময়ের পয়োজন পড়ে। এসবের কারণে তার কারখানার সামনের সড়কের অবস্থা নাজুক।

ইজিবাইক চালক রাসেল মিয়া জানান, গর্ত থাকার কারণে এবং গর্ত ভরাট করতে ইটের সলিং করা হয়েছে। যা কংক্রিটের স্তরের চেয়ে অনেক উঁচু আবার নিচু। এতে ইজিবাইক চলার সময় একদিকে কাত হয়ে পড়ে। প্রায়শই উল্টে পড়ার ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও সড়কে ভাঙাচোরা এবং খানাখন্দের কারণে বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় ভোগান্তি আরো বেড়েছে। কুষ্টিয়া-ভেড়ামারা মহাসড়কের গোবিন্দপুর এলাকায় বাস-ট্রাকের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়। তাদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণে সড়কের দুই দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। শতশত বাসট্রাক রাস্তার দুইদিকে অপেক্ষমান থাকে। ফলে ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীসাধারণ।
আলমঙ্গীর জানান, তিনি ভেড়ামারা যাবেন বলে কুষ্টিয়া থেকে পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন রাত সোয়া নয়টায়। ভেড়ামারায় পৌঁছান রাত দুটোর সময়। আধাঘণ্টার রাস্তায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা লাগায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর। রাস্তা ভাঙ্গাচোরার কারণে পথে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাসহ ট্রাক বিকল হয়ে অন্তত ১০টি ট্রাক রাস্তার ধারে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ভেড়ামারা শাহীন হ্যাচারি ও পোল্ট্রির মালিক শাহীনুর রহমান বলেন, “সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুষ্টিয়ার মজমপুর থেকে প্রাগপুরগামী লোকাল বাসে উঠি। দীর্ঘ যানজটের কারণে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভেড়ামারায় পৌঁছাই।”

নিরাপদ সড়ক চাই কুষ্টিয়ার আহ্বায়ক কেএম জাহিদ মনে করেন, সড়ক মহাসড়কের এমন অবস্থার কারণে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। এ থেকে যেন পরিত্রাণ পাওয়াই যাচ্ছে না। গত কয়েকদিনে বেশ কিছু সড়ক দুর্ঘটনাসহ সড়কেই যানবাহন বিকল হয়েছে। এসব সড়ক মহাসড়কের নির্মাণের সময় দুর্নীতিকেই দায়ী মনে করেন তিনি। ভেড়ামারা লালন শাহ সেতু এলাকার সড়ক তো এখনো মসৃন রয়েছে। অর্থ খরচ করে যদি টেকসই মজবুত সড়ক নির্মাণ করা যায় তাহলে একদিকে যেমন মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে।

মহাসড়কে ইট বিছিয়ে সংস্কারের বিষয়ে সওজ বিভাগ বলছে, বড় আকারের গর্ত, ইট কিংবা পাথরের খোয়া দিয়ে ভরাট করে বিটুমিন কার্পেটিং করলে সেটি ৭ থেকে ৮ দিনের বেশি টেকসই হয় না। বর্ষার দিনে বিটুমিনের কাজ টেকে না। যে কারণে ইটের সলিং করে মহাসড়কের গর্ত ভরাট করা হয়।

কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় এসব মহাসড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তের কারণে যানবাহন উল্টে পড়ে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে সেজন্য ইট বিছিয়ে সংস্কার করা হয়। এছাড়া বর্ষার সময় বিটুমিনের সংস্কার টেকসই হয় না, খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বড় গর্তে বিটুমিন পাথর দিয়ে সংস্কার করলে বেশি দিন টেকে না। সোলিং বা হেরিং বন্ডের সংস্কার দীর্ঘস্থায়ী হয়।

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

সর্বশেষ
পঞ্জিকা
অক্টোবর ২০১৭
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
« সেপ্টে    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১