১৮ অগাস্ট, ২০১৯ । ৩ ভাদ্র, ১৪২৬

গণপরিবহনে বাধ্যতামূলক লিখতে হবে ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক ‘৯৯৯’

নিজস্ব প্রতিবেদক | মে ৯, ২০১৮ - ৯:২৪ অপরাহ্ণ

যাত্রী হয়রানি রোধে রাজধানীর গণপরিবহনগুলোর ভেতরে বড় করে গাড়ির নম্বর ও ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক ‘৯৯৯’ লেখা বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে একসপ্তাহের মধ্যে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিকে (বিআরটিএ) নির্দেশ দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। গণপরিবহনে যৌন হয়রানি, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও যাত্রী হয়রানিসহ যে কোনও দুর্ঘটনায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীর গণপরিবহনগুলোয় যৌন হয়রানি, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও যাত্রী হয়রানিসহ নানা আপত্তিকর ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। নানা কারণে এসব অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে পারছেন না ভুক্তভোগীরা। জানানো হলেও যথাযথ প্রমাণ না পাওয়ায় ব্যবস্থাও নিতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইতিবাচক প্রচারণা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, মামলা দায়ের ও সাজা দেওয়াসহ নানা উদ্যোগ নিয়েও কোনোভাবেই শৃঙ্খলা ফেরানো যাচ্ছে না গণপরিবহনে। এ অবস্থায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গণপরিবহনের ভেতরে বড় করে বাসের নম্বর ও ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক ৯৯৯ যুক্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিআরটিএ সচিব (যুগ্ম সচিব)  মুহাম্মদ শওকত আলী বলেন, ‘গণপরিবহনে নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক অভিযোগ না পাওয়ায় সংশ্লিষ্টরা ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এ অবস্থায় গণপরিবহনে যেন যাত্রীরা কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ করতে পারেন, সে জন্য বাসে বড় করে গাড়ির নম্বর ও ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক ৯৯৯ নম্বর লেখা থাকে, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুদকের গণ শুনানিতেও বিষয়টি নিয়ে সুপারিশ করা হয়।’

তবে বিআরটিএ সচিব বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনও আমাদের কাছে লিখিত কোনও আদেশ আসেনি। আমরা মৌখিকভাবে একটা নির্দেশ পেয়েই কাজ শুরু করেছি। হয়তো কয়েক দিনের মধ্যে চিঠি পাবো। আমরা বিষয়টি জানিয়ে কয়েক দিনের মধ্যে সব গণপরিবহন মালিক ও সমিতিগুলোকে চিঠি দেবো। তারা যেন তাদের মালিকানাধীন সব গণপরিবহনের ভেতরে বড় করে বাস নম্বর ও ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক ৯৯৯ যুক্ত স্টিকার লাগিয়ে দেন। কেউ যদি অসদাচরণ করে, বাসের ভেতরে যদি কোনও কমপ্লেন করার প্রয়োজন হয়, তাহলে যাত্রীরা বাসের নম্বর উল্লেখ করে হেল্প লাইনে ফোন দিয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণপরিবহনগুলোয় পরিবহন মালিকের নাম ও ফোন নম্বর, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর; চালকের নাম, ফোন নম্বর ও লাইসেন্স নম্বর এবং পুলিশের ফোন নম্বরসহ যাবতীয় তথ্য  উল্লেখ থাকে। যে কেউ চাইলে এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করে রাখতে পারে। প্রয়োজন হলে এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা নেওয়া যায়। কেউ কোনও মালামাল রেখে গেলেও অভিযোগের মাধ্যমে মালামাল ফেরত পাওয়া যায়। এই বিষয়টি চালু করা গেলে বিশৃঙ্খল পরিবহনে কিছুটা হলেও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যাবে। এ অবস্থায় শুধু পরিবহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর কিংবা জাতীয় হেল্প নম্বর নয়, চালক, মালিক ও হেল্পারদের বিস্তারিত তথ্য রাখাও বাধ্যতামূলক করার দাবি যাত্রী অধিকার আন্দোলনের।

এ বিষয়ে যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিল বলেন, ‘বিশ্বের উন্নত দেশগুলোয় এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। দেরিতে হলেও সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। সে জন্য আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে বিষয়টি যেন শুধু উদ্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধতা না থাকে, সে জন্য সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে।’

সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, গণপরিবহনের মালিক, চালক ও হেল্পারদের কাছে তারা অনেকটাই জিম্মি। তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়সহ চলন্ত গাড়িতে যাত্রীহয়রানি থেকে শুরু করে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ঘটনাও ঘটিয়ে থাকে। কিন্তু কোনও নারী বা সাধারণ যাত্রী এমন পরিস্থিতির শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিকার পাওয়ার মতো কোনও মাধ্যম তারা পাচ্ছে না। এজন্য বিভিন্ন সময় যাত্রী সংশ্লিষ্ট সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে সরকারের কাছে নানা দাবি জানানো হয়েছে। বিষয়টি আমলে নিতে যাচ্ছে সরকার।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘আমরা অভিনন্দন জানাই। এই উদ্যোগ আমাদের মালিকদের জন্য ভালো। আমরাও চাই, এমন কিছু বাস্তবায়ন হোক, যেন কেউ যাত্রীদের সঙ্গে অসদারচারণ করলেই হেল্প লাইনের মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে ইনফর্ম করতে পারে। এর মাধ্যমে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আমি মনে করছি। এটা বাস্তবায়ন করতে যা যা করা দরকার, আমরা তা করবো।’

যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এটা যাত্রীবান্ধব উদ্যোগ। এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এই ধরনের দাবিগুলো আমাদের দীর্ঘদিনের। আমরা মনে করি, সরকার সবসময় আমলে না নিলেও বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছে। এটা একটা ইতিবাছক দিক। কিন্তু এই উদ্যোগগুলো মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা অনেক কঠিন। তবে আশা করছি, সরকার এই উদ্যোগ  বাস্তবায়ন করবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের পুলিশের টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজির (টিঅ্যান্ডআইএম) উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) একেএম শহিদুর রহমান বলেন, ‘৯৯৯ জাতীয় হেল্প ডেস্ক। এখানে যে কেউ ফোন করে সহযোগিতা চাইলেই তাকে সহযোগিতা করা হয়। বাসের যাত্রীরাও যেকোনও সহযোগিতা চাইলে পাবেন।’

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

সর্বশেষ
পঞ্জিকা
আগস্ট ২০১৯
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
« ফেব্রু    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
ছবি গ্যালারি