২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ । ১১ আশ্বিন, ১৪২৫

গোপনে ক্যামেরায় ছবি তুলতে গিয়ে ধরা খেলেন ইবি প্রক্টর

নিজস্ব প্রতিবেদক | এপ্রিল ১৪, ২০১৮ - ১২:৫৩ অপরাহ্ণ

শিক্ষার্থীর ক্যামেরায় ধরা খেয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমান। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সংহতি জানাতে গিয়ে গোপনে তার মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়ে আন্দোলনকারীদের ছবি তুলেন তিনি।

তার এই ছবি তোলার বিষয়টি ওই মূহুর্তে কেউ বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের মোবাইলে করা ভিডিওতে বিষয়টি ধরা পরে। ১মিনিট ১৪সেকেন্ডর ওই ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়ি পরলে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন প্রক্টর। ভিডিওর ৪৫ সেকেন্ড থেকে ১মিনিট পর্যন্ত তাকে প্রায় ৫-৬টি ছবি ধারণ করতে দেখা যায়। ছবি তোলার সময় তার ক্যামেরার ফ্লাশ লাইট চালু থাকায় ছবি তোলার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে।

সূত্র মতে, গত বুধবার কোটা সংস্কারের দাবিতে খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে ইবির কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। বেলা ১১টা থেকে তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে। প্রক্টর ড. মাহবুব সকাল থেকে বেশ কয়েকবার শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার ব্যর্থ চেষ্টা চালান। বেলা ১টার দিকে তিনি ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আবারো তাদের কাছে যান। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার সময় তিনি পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে ছবি তুলতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের ভিডিওতে ধরা পড়া ওই সময় তার অঙ্গভঙ্গি ছিল খুবই অস্বাভাবিক। বুক বরাবর দু’হাতে ফোন ধরে বার বার এদিক ওদিক তাকিয়ে পর পর শিক্ষার্র্থীদের দিকে ক্যামেরা ক্লিক করতে থাকেন। ছবি তোলা শেষে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যাতে বিষয়টা বুঝতে না পারে সেজন্য তিনি ফোনে কথা বলার ভান করে তার ফোনটি কানে ধরেন।

তবে তার ফোনের ফ্লাশ লাইট অন থাকায় বিষয়টি আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভিডিওতে ধরা পড়ে। ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর শেষের দিকে তিনি মোট ৬টি ছবি তুলেন। পুরো ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফেসবুক পেজে ভাইরাল হয়। এর পর থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন প্রক্টর ড. মাহবুব। এতে কোটা সংস্কার আন্দোলন সম্পর্কে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে তার অবস্থান পরিস্কার হয়ে যায়।

এদিকে গত বুধবার রাত ৯টা ৩৭ মিনিটে আন্দোলনে প্রক্টরের সংহতি ছিল বলে ফেসবুকে পোস্ট দেন এক শিক্ষার্থী। ওই পোস্টটি বেশ কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে ট্যাগ দেয়া হয়। পোস্টে প্রক্টরের বরাত দিয়ে লেখা হয় ‘কোন অবস্থাতেই আন্দোলনরত আমার ছাত্রছাত্রীকে আঘাত করা যাবেনা। পোস্টে একজন শিক্ষার্থী কমেন্ট করেন- ‘ধন্যবাদ স্যার আপনার সন্তানের মত ছাত্রদের রক্ষা করার জন্য।’ তবে ওই পোস্ট আর তার কার্যক্রমে দ্বিমূখী নীতির প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকরা। তারা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে তাদেরকে পরবর্তীতে সনাক্ত করতে ছবি তোলা মেটেও ভালো মানুষের কাজ হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের সাথেও তার দ্বিমূখী নীতির বহিঃপ্রকাশ হলো।’

ছবি তোলার বিষয়ে প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রক্টরের যখন যা করণীয় তাই গ্রহণ করা হয়েছে।’ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনিরাপদ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওখানে বহিরাগতরা থাকতে পারে।’

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

সর্বশেষ
পঞ্জিকা
সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
« আগ    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
ছবি গ্যালারি