২২ অগাস্ট, ২০১৭ । ৭ ভাদ্র, ১৪২৪

দুর্নীতির বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-ভুটান

নিজস্ব প্রতিবেদক | জুন ১৫, ২০১৭ - ৫:৪৫ অপরাহ্ণ

পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ও অভিজ্ঞতা দিয়ে দুর্নীতি দমনে এক সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ ও ভূটান।

আজ বুধবার ভুটান দুর্নীতি দমন কমিশন ও বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এবং ভুটান দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে এর চেয়ারপারসন মিস কিনলে ইয়াংজুম স্বাক্ষর করেন।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ, এএফএম আমিনুল ইসলামসহ দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং ভুটানের রাষ্ট্রদূত মি: সোনম টবডেন রেবজি ও ভুটান দুর্নীতি দমন কমিশনের ৪ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

এই সমঝোতা স্মারকে দুর্নীতির প্রাথমিক অনুসন্ধান, সনাক্তকরণ, প্রমাণকরণ, দুর্নীতি প্রতিরোধসহ অভিজ্ঞতার বিনিময়, উত্তম চর্চা, দুর্নীতি প্রতিরোধে শিক্ষা কর্মসূচিসহ ৮টি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এসময় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতির ক্ষেত্রে ছোট-বড় কোনো ইস্যু নয়, দুর্নীতি দুর্নীতিই। এই দুর্নীতিই দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে কেবল দুর্নীতিই দেশের জিডিপি’র ২ থেকে ৩ শতাংশ খেয়ে ফেলছে। তাই দুর্নীতিকে ন্যূনতম প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি দমন করা সত্যিই চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে কমিশন দুর্নীতি দমনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে দুর্নীতি দমনে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে। আমরাও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি অবলম্বন করেছি। বাংলাদেশে দুর্নীতি দমনে এনজিও, সুশীল সমাজ, মিডিয়া তথা সাধারণ মানুষের আকুন্ঠ সমর্থন পাচ্ছি।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা জেনেছি দুর্নীতির মামলায় ভুটানে সাজার হার ৯০%। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় (বিগত পাঁচ মাসে) সাজার হার হয়েছে ৭০%।’

ভুটান দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারপারসন কিনলে ইয়াংজুম বলেন, ‘ভুটান এবং বাংলাদেশের দুর্নীতির প্রক্রিয়া অভিন্ন। ভুটান সরকার দুর্নীতি দমনে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করেছে। ভুটানের দুর্নীতি দমন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এটি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০০৬ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে ছোট-বড় বলতে কিছু ধারণা কর সমীচীন নয়। যে কোনো দুর্নীতিকেই বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই সমঝোতা স্মারকে কৌশল, কর্মসূচি, পদ্ধতি, নতুন নতুন নীতিমালাসহ পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে।এসকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দুদক এবং ভুটান এসিসি একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারবে। এছাড়া পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সমঝোতা স্মারক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি কেনাকাটা, নির্মাণ এবং ঘুষ লেনদেন ভুটানের উল্লেখযোগ্য দুর্নীতির ক্ষেত্র। এছাড়া স্বজনপ্রীতি এবং বিশেষ আনুকল্য ভুটানের দুর্নীতির প্রধান উৎস।

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

সর্বশেষ
পঞ্জিকা
আগস্ট ২০১৭
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
« জুলা    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১