২১ Jul, ২০১৮ । ৫ শ্রাবণ, ১৪২৫

ধর্ষনে জড়িতদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | এপ্রিল ২, ২০১৮ - ৬:৫১ অপরাহ্ণ


নারী ও শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে রয়েছে সরকার। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ধর্ষণের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থায় পদক্ষেপ নিতে কঠোর অবস্থানে বর্তমান সরকার। এজন্য যা যা করণীয়, তাও গ্রহণ করছে তারা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে সরকারের এই অবস্থানের কথা জানা গেছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পরে হত্যার প্রবণতা সমাজে ছড়িয়ে পড়ায় সরকারের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। যে কারণে সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে এ বিষয়ে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মানবধিকার সংগঠন—আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন মাসে সারাদেশে ১৮৭ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৯ জনকে একং আত্মহত্যা করেছেন দুইজন। এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে ২১ নারীর ওপর। যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ২৭ জন নারী। প্রতিবেদনে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের হত্যা এবং নির্যাতনের সংখ্যা আশঙ্কাজনক বলে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত তিন মাসে ৪২২ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে।

গত দুই তিন দিনে এক থেকে দেড় বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও একাধিক ধর্ষককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনেছে।

অবশ্য সরকারের সংশ্লিষ্টরা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করতে রাজি নন। তারা বলেন, সমাজে কিছু ঘৃণ্য ব্যক্তির এই ধরনের অপকর্ম আগেও ছিল। তবে, আগে এ ধরনের ঘটনা বেশিরভাগ গ্রাম্য সালিশি বা অন্যভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হতো। ফলে এটি ফলাও করে প্রচার হতো না। কিন্তু বর্তমান সরকার এর বিরুদ্ধে কঠোর হয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার কারণে এটি সামনে চলে আসছে। এগুলো দৃশ্যমান হওয়ার মানে হচ্ছে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

জানতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির প্রধান ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘সরকার আগে থেকেই এ ব্যাপারে কঠোর। সরকার চায় এটা বন্ধ হোক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সেভাবেই নির্দেশনা দেওয়া আছে। তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘যেকোনও ধরনের অপরাধীকে সরকার আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর। সরকার কোনও অপরাধীকে ছাড় দিচ্ছে না। ধর্ষণ ও হত্যার ব্যাপারে যতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন, সরকার ততটাই কঠোর। জড়িতদের আইনের আওতায় আনাসহ এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।’

ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ড বেড়ে গেছে, এমন তথ্য প্রসঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ধর্ষণ বা খুন বেড়ে গেছে, এটা বোধহয় সত্য নয়। আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে চুপিসারে মানুষ মিটমাটের নামে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করতো। সরকারের কঠোর মনোভাবের কারণে এখন সেটা হচ্ছে না। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে সরকার কঠোর মনোভাব পোষণ করেছে। দরকার হলে আরও কঠোর হবে। এগুলো বন্ধ করার জন্য যত করণীয় দরকার হয়, সরকার সেই ব্যবস্থা নেবে।’

ধর্ষণের ঘটনায় সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘ধর্ষণ বা যৌন হয়রানি বেড়েছে পরিসংখ্যান তা পুরোপুরি বলে না। বিষয়টির জন্য সরকার কঠোর হওয়ায় আপনাদের কাছে দৃশ্যমান হয়েছে হয়তো। তবে এটা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই অপরাধীদের সরকার মোটেও ছাড় দেবে না। ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের যেন দ্রুত বিচারের আওতায় আনা যায়, তার জন্য সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক ঘটনায় দ্রুত বিচার করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকারের এই মনোভাব অব্যাহত থাকবে।’

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

সর্বশেষ
পঞ্জিকা
জুলাই ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
« মে    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
ছবি গ্যালারি