১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ । ৪ পৌষ, ১৪২৪

প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন কার্যকর হয়নি, অভিযোগ সংগঠনগুলোর

নিজস্ব প্রতিবেদক | ডিসেম্বর ৪, ২০১৭ - ১২:০০ অপরাহ্ণ

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে ২০১৩ সালে প্রণীত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন কার্যকর হয়নি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠনগুলো।২৬তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ১৯তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে রোববার আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক সমাবেশে এই আইনকে ‘কাগুজে’ আইন হিসেবে আখ্যা দিয়ে  প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠনগুলোর পরিষদ পিএনএসপির নেতারা বলেছেন, তারা এমন আইন চান না।

বিকালে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে এই সমাবেশে যোগ দেন নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ করিম, সমাজসেবা কার্যালয় অঞ্চল-৬  এর সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা এম শহিদুজ্জামান। পিএনএসপির সভাপতি ওসমান খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব।

সালমা মাহবুব বলেন, “আজকে আমরা এসডিজি নিয়ে কথা বলছি, তাতে সমাজের সব স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণের কথা বলা হচ্ছে। আমাদের জন্য আইন হল চার বছর আগে, কিন্তু কোথায় কী হল? কোথায় আমাদের প্রতিনিধি? এই আইন তো কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের অংশগ্রহণ কোথায়? এমন কাগুজে আইন তো আমরা চাইনি।”
প্রতিবন্ধী দিবসের অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রাপ্তবয়স্ক কোনো নাগরিককে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিবন্ধী নাগরিকরা।

এ বিষয়ে সালমা মাহবুব, “আজকের অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দিতে ডাকা হল এক শিশু কন্যাকে, যার কিনা ভোটাধিকার নেই। নাগরিকদের অংশীদারিত্ব নিয়ে কথা বলতে যার আসলে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আজও আমরা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো জবাব পাইনি।”

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামলে চলা এই নারী বলেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষার ওই আইন বাস্তবায়নের পথে সরকারের ‘সদিচ্ছার অভাব’ রয়েছে।
২০১৩ সালে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট (এনডিডি) আইন প্রণীত হয়, গঠিত হয় এনডিডি ট্রাস্ট। এই ট্রাস্টের কার্যক্রম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয় সমাবেশে।

সালমা মাহবুব বলেন, “এখনো এনডিডি ট্রাস্টের সাংগঠনিক কাঠামো ঠিক হল না। জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনও আমাদের বিভিন্ন দাবি, পরামর্শ শুনছে না। সেখানে আমাদের প্রতিনিধিত্বও নেই সেভাবে।”

তিনি বলেন, “জাতিসংঘ ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার যতই দাবি করুক না কেন, চিত্রটা কিন্তু ভিন্ন। রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের অংশগ্রহণ এখনও পুরোপুরিভাবে নিশ্চিৎ হতে পারেনি। প্রতিবন্ধী নাগরিকদের সুবিধার জন্য গণপরিবহন ব্যবস্থা, বিল্ডিং কোড প্রণয়ণের কাজও হয়নি।  এভাবে প্রতিটি পদে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। ”
তার এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত পোষণ করে পিএনএসপির সভাপতি ওসমান খালেদ বলেন, “সামাজিক, সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় আমাদের সঙ্গে আসলে সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের অংশগ্রহণ বড় দরকার। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে একদিন আইন কার্যকর হয়ে যাবে।”

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে এনডিডি ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, “সরকার সবার আগে প্রতিবন্ধী শব্দটা বাদ দিতে চায়, এটা ভীষণ অপমানজনক। আমরা তাদের বলতে চাই, বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন নাগরিক।

“এই নাগরিকদের অনেক অভিযোগ আছে। তবে আমরা বলতে চাই, রাষ্ট্র তাদের কোনোভাবেই কেবলমাত্র ভাতাভোগী করে রাখতে চায় না, তাদের সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের জন্য যে স্কুলগুলো আমরা চালু করেছি, সেগুলোর মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে আমরা কাজ করছি।”

পরে অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন ‘বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন’ নাগরিক মো. আখতারুজ্জামান, শারমিন সুলতানা, আইরিন আজিজ শাম্মী, শারমিন আক্তার ও স্বপ্না আখতারসহ অন্যান্য শিল্পীরা।

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

সর্বশেষ
পঞ্জিকা
ডিসেম্বর ২০১৭
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
« নভে    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১