১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ । ৪ পৌষ, ১৪২৪

প্রার্থীদের হলফনামা দাখিলের বিধানটি বাতিলের দাবি জাসদের

নিজস্ব প্রতিবেদক | অক্টোবর ১০, ২০১৭ - ৫:০৪ অপরাহ্ণ

নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীদের হলফনামা দাখিলের বর্তমান বিধানটি বাতিল চেয়েছে সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)।

একইসঙ্গে দলটি বর্তমান সংসদীয় আসনের সীমানায় একাদশ সংসদ নির্বাচন চেয়েছে। তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ ভেঙে দেওয়া ও সেনা মোতায়েনের বিপক্ষেও মত দিয়েছে।

রবিবার বিকালে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শরিক দলটি ১৭ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে। জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপ শেষে জাসদ সভাপতি ইনু বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী সংসদ নির্বাচন হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না। আর নির্বাচনকালীন সরকার কী হবে, সেটি যেহেতু নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত নয়, তাই এ বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে আমাদের কোনও আলাপ হয়নি।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কি না জানতে চাইলে ইনু বলেন, আমরা আশাবাদী। গত নির্বাচনে যারা ভোট বর্জন করে আগুন সন্ত্রাস করেছে তারা এবার সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসবেন বলে মনে করি।

রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যে সংলাপ হতে পারে। জাসদও এই ধরনের সংলাপের পক্ষে। তবে, বর্তমানে যেহেতু নির্বাচন কমিশন সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছে কাজেই এখন সংলাপের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।

হলফনামা বাতিলের প্রস্তাবে যুক্তি দিয়ে জাসদ তার প্রস্তাবে বলেছে, প্রার্থীরা নির্বাচনের সময় যে মনোনয়নপত্র জমা দেন, সেখানে  সম্পত্তি ও আয় -ব্যয়ের হিসাব চলে আসে। এজন্য আলাদা করে আর হলফনামার প্রয়োজন নেই।

এদিকে প্রস্তাবে জাসদ সীমানা পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতা করে বলেছে, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি আদমশুমারির সঙ্গে সংযুক্ত। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নতুনভাবে কোনও আদমশুমারি হচ্ছে না। এ জন্য আমরা মনে করি, দশম সংসদ নির্বাচনের সংসদীয় আসন বহাল রেখেই একাদশ সংসদ নির্বাচন করতে হবে।

জাসদের প্রস্তাবে দলছুট এমপিদের সমন্বয়ে জাসদের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনও নামে নতুন দল নিবন্ধনের বিষয়ে পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও সুপারিশ রয়েছে।

প্রসঙ্গত: নিবন্ধিত এ দলটি ভাঙনের পর শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সংসদ সদস্য মইনউদ্দিন খান বাদল ও নাজমুল হক প্রধানের নেতৃত্বে জাসদের আরেকটি অংশ গঠিত হয়েছে। যারা নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদের প্রস্তাবে প্রকারান্তরে দলটির এই খণ্ডিত অংশের নিবন্ধনের বিরোধিতা করা হয়েছে। এ বিষয়ে দলটির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনও সংসদ সদস্য মূল দল থেকে বেরিয়ে নতুন কোনও দল গঠন করে নিবন্ধন চাইলে তার ওই সংসদ সদস্যপদ নতুন দলের নিবন্ধনের জন্য কোয়ালিফাই করবে না বলে বিধান যোগ করতে হবে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, জাসদের পরে ইসির অনুরোধে জেএসডি নামে দলের নিবন্ধন নেওয়া হয়েছে। কিন্তু,নতুনভাবে বিদ্যমান রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বা কাছাকাছি নামে আর কোনও দলকে নিবন্ধন দেওয়া যাবে না।

যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামের অনেকে বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে ভোটের পরিকল্পনা করছে বলেও ইসির কাছে অভিযোগ করেছে জাসদ।

দলটি ইসিকে বলেছে, জামায়াতের কেউ বিএনপি বা অন্য কোনও দলের নামে বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে সে বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে।

জাসদের অন্য প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে―সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ইভিএম ব্যবহার, নিবন্ধিত দলকে ব্যয় নির্বাহে ও প্রচারণায় নিয়মিত অনুদান, দলের অনুদান আয়কর মুক্ত করা, অনলাইনে মনোনয়নের ব্যবস্থা, ভোটে কালো টাকার ব্যবহার রোধে প্রার্থিতা বাতিল, স্বতন্ত্র প্রার্থিতায় ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকার শর্ত বাতিল, জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করা, স্থানীয় ও সংসদ নির্বাচনে স্বপদে থেকে নির্বাচন করায় অযোগ্যতা বিধান, পাবলিক ও বেসরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর ভোটে অংশ নেওয়ার শর্ত শিথিল করা, প্রতীক বরাদ্দের দিনই জোটভুক্তদের প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ রাখা, নির্বাচন আর্কাইভ স্থাপন ইত্যাদি।

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

সর্বশেষ
পঞ্জিকা
ডিসেম্বর ২০১৭
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
« নভে    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১