২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ । ১১ ফাল্গুন, ১৪২৫

“মোট ঋণের ৫৮ শতাংশ বড় ঋণ”: বিআইবিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক | মে ৮, ২০১৮ - ৬:৪৯ অপরাহ্ণ

মোট ঋণের প্রায় সাড়ে ৫৭ শতাংশই বড় ঋণ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ঋণের ৪০ শতাংশ, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৬৫ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকের ৪৭ শতাংশ এবং বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৭৩ শতাংশ বড় ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৫৮ শতাংশ ছিল বড় ঋণ। যা অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ মে) রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘ক্রেডিট অপারেশনস অব ব্যাংকস’ শীর্ষক বার্ষিক পর্যালোচনা কর্মশালায় এই গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান। সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্বে) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব। এ কর্মশালায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী অফিস থেকে অংশ নেন রাজশাহীর বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের আঞ্চলিক পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বিআইবিএমের অধ্যাপক ও পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন এবং পরামর্শ) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জীর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, ‘ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময়ই বিশেষ সজাগ। এরপরও খেলাপি ঋণসহ বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে। এরইমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে। একইসঙ্গে খেলাপি ঋণ কমাতে বেশ কয়েকটি পদেক্ষপ নিয়েছে।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী বলেন, ‘ক্রেডিট ডিপোজিট রেশিও, শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ সীমা এবং বড় ঋণের বিষয়ে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একইসঙ্গে ঋণের গুণগত মান উন্নয়নের বিষয়ে বিশেষ নজর রাখতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নৈতিকতা সম্পন্ন লোকের অভাব নেই। কিন্তু তারা যথার্থ মূল্যায়িত হন না। বরং, যারা নৈতিকতার সঙ্গে সমঝোতা করে, তারা পেশাগত দিক থেকে এগিয়ে গেছে। যা ব্যাংকিং খাতের জন্য সুখকর নয়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, ‘গ্রামের মানুষ ঋণ কম পাচ্ছে। এতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং কম হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের চিন্তা করতে হবে; কীভাবে সবাইকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা যায়।’

বিআইবিএমের সুপারনিউমারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘গ্রাহকদের মানসিকতার পরিবর্তন হলে কোনও ঋণ খেলাপি হবে না। এতে খেলাপি ঋণ অনেকাংশে কমে আসবে। ব্যাংকের ঋণ খেলাপি রেখে বিভিন্ন দেশে অনেকে বিজনেস ক্লাসে ঘুরে বেড়ায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্দিষ্ট এলাকায় ঋণ দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। আবার একইভাবে নির্দিষ্ট লোককে ঋণ দিচ্ছে। এভাবে বাছ-বিচারহীন ঋণের কারণে একটি বড় অংশ খেলাপি হচ্ছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ইয়াছিন আলি বলেন, ‘কিছু ধূর্ত লোক তার একই সম্পত্তি বারবার দেখিয়ে ঋণ নেয়। এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সিআইবি এর মতো পর্যায়ে যায়নি। বিষয়টি এখন নজর দেওয়ার সময় এসেছে।’

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘ঋণ দেওয়ার আগে গ্রাহকদের ৬ মাসের ব্যাংক লেনদেন খতিয়ে দেখতে হবে। খেলাপি ঋণ মনিটরিংয়ে ডাটা ব্যাংক করতে হবে। গৃহঋণের বিষয়ে বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা, আইনজীবীরা জমি সংক্রান্ত অনেক তথ্য দেন, যা সঠিক নয়। অবশ্যই সরেজমিন পরিদর্শন করে ঋণ দিতে হবে।’

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী বলেন, ‘ব্যাংক জনগণের অর্থ অন্যদের ঋণ দেয়। এ কারণে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ঋণ নিয়ে গ্রাহকরা কারখানা বানালো না দামি পাজেরো জিপ কিনে ঘুরে বেড়াচ্ছে তা ব্যাংককে নজরদারি করতে হবে।’

এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মেহমুদ হোসেন বলেন, ‘সবগুলো ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমানোর চেষ্টা করছে। তবে গুণগত মানের উন্নতি হচ্ছে না। এজন্য ব্যাংক ঋণের বিষয়টি আবার পর্যালোচনা করতে হবে। ত্রুটি-বিচ্যুতি খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

সর্বশেষ
পঞ্জিকা
ফেব্রুয়ারি ২০১৯
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
« অক্টো    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮  
ছবি গ্যালারি