২২ Jun, ২০১৮ । ৮ আষাঢ়, ১৪২৫

‘যুব সমাজকে অপসংস্কৃতির প্রভাব মুক্ত হয়ে স্বাধীন চিন্তার অধিকারী হতে হবে’ঃ কুষ্টিয়ায় রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক | জানুয়ারি ৭, ২০১৮ - ৯:৪০ অপরাহ্ণ

‘যুব সমাজের শক্তি ও সম্ভাবনাকে দেশ গঠনের কাজে লাগাতে হবে।’ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ।

এসময় তিনি আরো বলেন, ‘যুব সমাজকে অবশ্যই অপসংস্কৃতির প্রভাব মুক্ত হয়ে স্বাধীন চিন্তার অধিকারী হতে হবে।’

প্রায় দেড়যুগ পর রোববার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সমাবর্তনে ৯ হাজার ৩৭২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞানী ও গবেষক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মান্নান। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী। এতে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা।

অনুষ্ঠানে জাতি গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘উন্নত জাতি গঠনে উন্নত নাগরিক চাই। আর উন্নত নাগরিক গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য। জাতীয় সমস্যার আলোকে কার্যকর নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন শক্তির সৃজন, প্রায়োগিক সুফলদানে সক্ষম বৈচিত্রধর্মী গবেষণার জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল।’

এসময় রাষ্ট্রপতি জেল জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘১৯৭৬ সালে ময়মনসিংহে ৭ মাস জেল খাটার পরে আমাকে কুষ্টিয়ায় ট্রান্সফার করা হয়। এর চার মাস পর আবার আমাকে রাজশাহীতে ট্রান্সফার করা হয়। রাষ্ট্রপতি বলেন, জীবনে ধরা খাওয়ার মতো কোনো কাজ করিনি। তবে একটি কাজ করতে গিয়ে ধরা খেয়েছি। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া থেকে রাজশাহীতে ট্রান্সফার করার সময় ডানো দুধের কোটায় এক হাজার টাকা গোপনে রেখে দিয়েছিলাম। পরে এটা পুলিশের কাছে ধরা পড়ে যায়। ডিআইজি প্রিজন এজন্য এক হাজার টাকা কনফিসকেট করে। পরে আমাকে শাস্তি স্বরুপ রাজশাহীতে কনডেম সেলে পাঠানো হয়।’

কুষ্টিয়ার জেল জীবনের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ‘কুষ্টিয়ার কারাগারে থাকার সময় ১৯৭৬ সালের ১৩ জানুয়ারি আমার কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এসময় স্ত্রীর কাছ থেকে চিঠি আসে মেয়ের নাম রাখার বিষয়ে। আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না মেয়ের নাম কি রাখা যায়। এসময় ওই কারাগারে আমার সাখে আরও তিন জন ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘কুষ্টিয়া যেহেতৃ নদীয়া জেলায় অবস্থিত ছিল তাই অবশেষে জেলার নামে মেয়ের নাম রেখে দিলাম নদীয়া। কারাগার থেকে মুক্ত করার ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী রাশেদা খানম বিশেষ ভূমিকা রাখেন বলে তিনি এসময় জানান।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির স্ত্রী রাশেদা খানম ও মেয়ে স্বর্ণা হামিদ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ ম্যুরাল, দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল, পরমানু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনসহ কয়েকটি স্থাপনা উদ্বোধন করেন। বেলা সোয়া বারটায় সমাবর্তনের মূল মে  আগমন করেন।

সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল বলেন, ‘তোমরা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করবে, কিন্তু প্রযুক্তি যেন কখনই তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে। মনে রেখো আধুনিক প্রযুক্তি কিন্তু পরজীবী প্রাণীর মত, সেগুলো তোমার পুষ্টি খেয়ে বেঁচে থাকে। তোমরা সবাই জানো এই দেশটির অর্থনীতি তিনটি পিলারের একটি হচ্ছে গার্মেস শ্রমিক দ্বিতীয়টি হচ্ছে চাষী তৃতীয়টি হলো প্রবাসী শ্রমিক। তোমাদের মত কিংবা আমাদের মত শিক্ষিত মানুষ যারা মস্তিস্ক দিয়ে কাজ করি তারা কিন্তু অর্থনীতির চতুর্থ পিলার হতে পারেনি। আমাদের চতুর্থ পিলার হতে হবে, আমাদের মেধাকে নিয়ে দেশের শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাড়াঁতে হবে। যতক্ষন পর্যন্ত আমরা সেটি করতে না পারব, ততক্ষন দেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালন করা হবে না।’

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

সর্বশেষ
পঞ্জিকা
জুন ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
« মে    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
ছবি গ্যালারি