১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ । ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

‘শহীদদের কাছে আমাদের ঋণ অপরিশোধ্য’ঃ রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক | জানুয়ারি ৭, ২০১৮ - ১০:০৬ অপরাহ্ণ

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে বর্তমান সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত দেশের মর্যাদায় নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও আলোকিত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ রবিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া ভাষণে তিনি এই প্রত্যাশার কথা জানান।

জাতির অগ্রযাত্রার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ক্ষমতাসীন দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘শহীদদের কাছে আমাদের অপরিশোধ্য ঋণ। আসুন একাত্তরের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার মধ্য দিয়ে লাখো শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি।’

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জাতীয় সংসদে ভাষণ দেন। তিনি ১৫৭ পৃষ্ঠার ভাষণের সংক্ষিপ্তসার পাঠ করেন। তার অভিপ্রায় অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ ভাষণ পঠিত বলে গণ্য করা হয়। রাষ্ট্রপতির এক ঘণ্টার ভাষণের পর অধিবেশন মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

রবিবার সংসদ অধিবেশনে স্পিকার রাষ্ট্রপতির আগমনের ঘোষণা দিলে সশস্ত্র বাহিনীর একটি বাদক দল বিউগলে ‘ফ্যানফেয়ার’ বাজিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সম্ভাষণ জানান। সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি ঢোকার পর নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। সংসদে রাষ্ট্রপতির জন্য স্পিকারের ডান পাশে লাল রঙের গদি সংবলিত চেয়ার রাখা হয়।

কোনও সংসদের প্রথম ও নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। পরে পুরো অধিবেশনজুড়ে তার ভাষণের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা। আলোচনা শেষে রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

এর আগে বিকাল ৪টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

ভাষণে রাষ্ট্রপতি অর্থনীতি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, খাদ্য-কৃষি, পরিবেশ-জলবায়ু, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরেন। এছাড়া দেশে আইনের শাসন সুসংহত, সমুন্নত রাখা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের কথা তুলে ধরে  বলেন, ‘সংবিধান সমুন্নত ও সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখে ২০১৪ সালে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হয়। বর্তমান সরকারের ওপর দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে সরকারের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিম্নমধ্য-আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এখন জাতির দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে ২০৪১ সালের দিকে-বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হওয়ার মানসে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সরকার উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রেখে জাতির আকাঙ্ক্ষা পূরণে সক্ষম হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের যে পথ আমরা পরিক্রমণ করছি, তা আমাদের বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশ্বসভায় ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামাজিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি সম্মানজনক অবস্থানে সমাসীন হয়েছে। শিগগিরই একটি উন্নত দেশ হিসেবে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’

বাংলাদেশকে উন্নত ও আধুনিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের কাজের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমান সরকার সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অভূতপূর্ব গতিশীলতা সঞ্চারণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও আলোকিত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐকান্তিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।’

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘একটি প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকাশে অবাধ, সুষ্ঠু, ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন যে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা দেশে বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।’

সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা ইস্যু মোকাবিলায় সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সময়োচিত সিদ্ধান্তের কারণেই এ পর্যন্ত খাদ্যের অভাবে কিংবা বিনা চিকিৎসায় বাংলাদেশে আসা কোনও রোহিঙ্গা মৃত্যুবরণ করেননি।’

দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘জাতির পিতা ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারী পলাতক খুনিদের আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা চলমান আছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও হত্যা মামলাটি বিচারিক আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর্যায়ে আছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। বিগত মেয়াদে গৃহীত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার এ লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ফলে দেশে নাশকতামূলক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে এসেছে ও জনজীবনে স্বস্তি বিরাজ করছে।’’

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

সর্বশেষ
পঞ্জিকা
ডিসেম্বর ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
« অক্টো    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ছবি গ্যালারি