২০ নভেম্বর, ২০১৮ । ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

শেষ মুহূর্তে জমজমাট মেলা !

নিজস্ব প্রতিবেদক | ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৮ - ১০:০১ অপরাহ্ণ


শেষ মুহূর্তে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছে বাণিজ্য মেলায়। রাজধানীবাসীর ঢল যেন এখন বাৎসরিক এই আয়োজনে। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ঠাসা ভিড়ে বিকিকিনিও জমজমাট। মেলার শেষ মুহূর্তে এসে ক্রেতাদের ভিড় সামাল দিতে ঘাম ছুটছে বিক্রেতাদের। গৃহস্থালি, আসবাবপত্র, প্রসাধনী, জুতা, শীতের কাপড়, শাড়ি, খেলনা, খাবার, হস্তশিল্প, জুয়েলারি— মেলার সব স্টলই ছিল লোকে লোকারণ্য।

বছরের প্রথম দিন থেকে শুরু হওয়া বাণিজ্য মেলা শেষ হওয়ার কথা ছিল বুধবার (৩১ জানুয়ারি)। ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেলার মেয়াদ চার দিন বাড়িয়েছে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। সেই হিসেবে মেলা শেষ হচ্ছে রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি)। একদিকে মেলার শেষ সময়, অন্যদিকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন— দুইয়ে মিলে আজ শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। আর এসব ক্রেতাকে টানতে ছিল বিভিন্ন কোম্পানির অফারের ছড়াছড়ি।

শুক্রবার সকাল থেকেই শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় আর ক্রেতা-দর্শনার্থীর সমাগমে মুখরিত ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। প্রতিটি স্টল-প্যাভিলিয়নেই ক্রেতাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। মেলা শেষ হওয়ার মাত্র একদিন বাকি থাকায় ক্রেতাদের মধ্যেও যেমন ছিল প্রয়োজনীয় পণ্যটি কেনার তাড়া, তেমনি বিক্রেতাদেরমধ্যেও শেষ পর্যন্ত যতটাসম্ভব নিজেদের পণ্য বিক্রি করেই মেলা শেষ করার তাগাদা ছিল।

“গৃহস্থালী পণ্যের দোকানে ভিড় একটু বেশিই ছিল মেলায় আগত দর্শনার্থীরা জানান, বাণিজ্য মেলায় প্রায় সব কোম্পানিই অংশ নেয় বলে প্রতিটি কোম্পানিই চেষ্টা করে নতুন নতুন ডিজাইনের পণ্য নিয়ে আসতে। তাদের পর্যবেক্ষণ, মেলায় এমন অনেক পণ্যই থাকে যেগুলো বছরের অন্য সময় পাওয়া যায় না। নতুন ডিজাইনের হওয়ায় এসব পণ্যের চাহিদা বেশি। তাই স্টক শেষ হওয়ার আগেই ক্রেতারা তা কিনে নিচ্ছেন। আর মেলায় প্রতিযোগিতামূলক দামের বিষয়টিও মাথায় সব ক্রেতাদেরই।

মেলায় প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাগম থাকলেও তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আর সব স্টলেই মানুষের ভিড় থাকলেও গৃহসামগ্রীর স্টল ও প্যাভিলিয়নে ভিড় ছিল একটু বেশিই। দেশি-বিদেশি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকানগুলোও পিছিয়ে ছিল না এ ক্ষেত্রে। মেলা-ফিরতি মানুষের হাতেও গৃহস্থালী পণ্যই বেশি দেখা গেছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক পণ্য, প্রেশার কুকার, জুস মেকার, জুস ব্লেন্ডার, ওভেন, রাইস কুকার, ইস্ত্রি, ইন্ডাকশন চুলা, ফ্যান প্রভৃতি।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, মেলার শুরু থেকেই স্টলগুলোতে বিভিন্ন পণ্যে ছাড় ও অফারের ছড়াছড়ি থাকলেও শেষদিকে এসে তা আরও বেড়েছে। স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলো যেন ছাড়ের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

“মানুষের ভিড়ে মেলা প্রাঙ্গণে পা ফেলা দায় জানতে চাইলে এশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বলেন, ‘মেলার শেষ দিনে জমজমাট বেচাকেনা চলছে। মেলা নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। এ বছর বেচাকেনা ভালোই হয়েছে।’ সময় আরও কয়েকটা দিন বাড়লে ভালো হতো বলে মনে করছেন তিনি।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, ‘আগের বছরগুলোর মতো এ বছরও মেলায়ও তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, ফেব্রিক্স পণ্য, হস্তশিল্পজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহস্থালী ও উপহার সামগ্রী, চামড়াজাত পণ্য, সিরামিকের তৈজসপত্র, প্লাস্টিক পণ্য, কসমেটিকস, হারবাল ও প্রসাধনী সামগ্রী, খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, জুয়েলারি, নির্মাণ সামগ্রী ও আসবাবপত্রের স্টল ছিল। আগের বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি ছিল বেশ ভালো।’

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

সর্বশেষ
পঞ্জিকা
নভেম্বর ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
« অক্টো    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
ছবি গ্যালারি