২৫ এপ্রিল, ২০১৯ । ১২ বৈশাখ, ১৪২৬

‘‘স্যরি’ বললেই কি পার পাওয়া যায়?’ঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | মে ৬, ২০১৮ - ৫:৫৪ অপরাহ্ণ

এক নারী সাংবাদিকের সঙ্গে কথোপকথনের জন্য ‘স্যরি’ বলেছিলেন ডিআইজি মিজান। তবে ‘স্যরি’ বললেও তাকে মাফ করা হবে না। তদন্ত চলছে, প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

শনিবার (৫ মে) বাংলা এডাডেমিতে ‘গৌরব ৭১’ শীর্ষক আলোচনা, গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে গত ৩ মে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এক নারী সাংবাদিকের সঙ্গে কনভারসেশন (কথোপকথন) হয়েছে। এ জন্য আমি স্যরি।’

‘স্যরি’ বলে পার পেয়ে যাবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “‘স্যরি’ বললেই কি পার পাওয়া যায়? ‘স্যরি’ বলে যদি মাফই পাওয়া যাবে তাহলে দেশে আইন-কানুন থাকার কী দরকার! তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। প্রমাণিত হলে ‘স্যরি’ বললেও তাকে মাফ করা হবে না, অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”দুদক কার্যালয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডিআইজি মিজানকে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মিজান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার সম্পদের ব্যাপারে দুদক কর্মকর্তারা দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন। ট্যাক্স ফাইলের বাইরে আমার আর কোনও সম্পদ নেই।’

উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি এক নারী অভিযোগ করেন, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করেন। এরপর তাকে শারীরিক নির্যাতন করেছেন। এমনকি মিথ্যা মামলায় তাকে জেলও খাটিয়েছেন। রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার লালমাটিয়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে একসঙ্গে তারা বসবাসও করেছেন। ওই নারী আরও অভিযোগ করেন, তিনি তার ফেসবুক পেজে নিজেকে মিজানের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে একটি ছবি প্রকাশের পর খেপে যান ডিআইজি পদমর্যাদার এই পুলিশ কর্মকর্তা।

বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে এ নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়। এ অবস্থায় পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ) মইনুর রহমান চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শাহাবুদ্দিন কোরেশী এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের এসপি মিয়া মাসুদ হোসেন।

অভিযোগ ওঠার পরপরই ডিআইজি মিজানকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার পদ থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন

সর্বশেষ
পঞ্জিকা
এপ্রিল ২০১৯
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
« ফেব্রু    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
ছবি গ্যালারি