আজ শুরু হচ্ছে বুস্টার ডোজ এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ

আজ শুরু হচ্ছে বুস্টার ডোজ এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ,মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সই এবং বেনাপোলএক্সপ্রেস পরিবর্তনে ক্ষোভ যাত্রীদের

কোভিড-১৯-এর টিকার বুস্টার ডোজ এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ আজ রোববার শুরু হচ্ছে। মহাখালীতে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) প্রতিষ্ঠানে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি ও সম্মুখসারির কর্মীদের মধ্যে এ টিকা দেওয়া হবে বলে  স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন।

মানিকগঞ্জের গড়পাড়ায় শুভ্র সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গতকাল শনিবার দুপুরে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথমে ফাইজারের টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এটির অনুমোদন দিয়েছে।

মন্ত্রী জানান, যাঁরা প্রথম দিকে টিকা পেয়েছেন, তাঁরাই বুস্টার ডোজের আওতায় আসবেন। পর্যায়ক্রমে সারা দেশেই এই কর্মসূচি চালু হবে। সরকারের হাতে বর্তমানে ফাইজারের ৬০ লাখ টিকা রয়েছে। আগামী মাসে আরও দুই কোটি টিকা আসবে। মোট চার কোটির অর্ডার ডব্লিউএইচও থেকে আমরা পেয়েছি। এর মধ্যে কিছু পেয়েছি। আরও তিন কোটি আসবে। তাই টিকার কোনো সংকট হবে না।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সই

তিন বছর বন্ধ থাকার পর ফের চালু হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। রোববার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রম বাজার নিয়ে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) সম্পন্ন হয়েছে।

মালয়েশিয়া এর পক্ষে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানান আর বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ এই চুক্তিতে সই করেন।

সমঝোতা স্মারক সই করতে ভোরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। মালয়েশিয়া নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার বিমানবন্দরে এর মধ্যে মন্ত্রী ইমরানকে স্বাগত জানিয়েছেন। শ্রম কাউন্সিলর এর মো. জহিরুল ইসলাম, শ্রম কাউন্সিলর (দ্বিতীয়) মো. হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল আর মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগ এর এবং কমিউনিটি নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

 ২০১৮ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমিক নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। দেশটিতে ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় মালয়েশিয়াপ্রবাসী যেসব বাংলাদেশি শ্রমিক দেশে এসেছিলেন পরে তাদের জন্যও দেশটিতে প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়।

গত তিন বছরে কয়েকবার মালয়েশিয়ার বাজার খোলার খবর শোনা গেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও কর্মী নিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনা হয়। সেখানে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ থেকে সব পেশার কর্মী নেওয়ার অনুমোদন দেয় মালয়েশিয়া সরকার। বিশেষ করে গৃহকর্মী, বাগান, কৃষি, উৎপাদন, পরিষেবা, খনি ও খনন এবং নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি কর্মী নেবে দেশটি।

গত শুক্রবার প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এর সভাকক্ষে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস-২০২১ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মধ্যে মন্ত্রী ইমরান জানিয়েছেন, সিন্ডিকেট ছাড়াই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের মধ্যে কর্মী পাঠাতে দেশটিতে জনশক্তি, কর্মসংস্থান আর প্রশিক্ষণ এর মধ্যে ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীনে ডাটাব্যাংক হতেই বাংলাদেশ কর্মী পাঠাবে।

আরো জানুন:

বাংলাদেশের খবরঃ এডিবি দিচ্ছে ৮ বিলিয়ন ডলার এবং কার্ডে লেনদেন আবারও বাড়ছে

বেনাপোলএক্সপ্রেস পরিবর্তনে ক্ষোভ যাত্রীদের

বেনাপোল বন্দরের গুরুত্ব বিবেচনা করে ব্যবসায়ী আর চিকিৎসা সেবীদের স্বাচ্ছন্দে যাতায়াতে বেনাপোল-ঢাকা রুটে অত্যাধুনিক সুবিধা নিয়ে চালু হয় বেনাপোল এক্সপ্রেস নামে একটি যাত্রীবাহী রেল।

করোনার কারনে ৮ মাস বন্ধ থাকার পর আবারো এরুটে রেল চলাচল শুরু হলেও ইন্দোনেশিয়ার তৈরি রেলটি পরিবর্তন করে নিম্ন মানের রেল সেবায় হতাস ও ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। এছাড়া ষ্টেশনে ইয়ার্ড সংকটে সময় মত রেল পৌছাতে না পারায় ভোগান্তির পাশাপাশি নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে যাত্রীদের। তবে  রেল কর্তৃপক্ষ বলছেন চলমান সমস্যা সমাধানে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

জানা যায়, বেনপোল বন্দরে আমদানি বাণিজ্য থেকে বছরে সরকারের ৬ হাজার কোটি টাকা ও ভ্রমন ক্ষাতে প্রায় ১শ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়। ব্যবসা,শিক্ষা,ভ্রমন  ও চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রতিবছর প্রায় ১৮ লাখ পাসপোর্ট যাত্রী ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করে।  সড়ক পথে যাতায়াতে ফেরিতে দির্ঘসময় ক্ষেপন ও সড়ক দূর্ঘটনা এড়াতে দির্ঘদিন ধরে  যাতায়াতকারী যাত্রীদের দাবী ছিল বেনাপোলঢাকা রুটে রেল সেবার ।

অবশেষে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বেনাপোল বন্দরের গুরুত্ব বিবেচনা করে ২০১৯ সালের ১৭ জুলায় বেনাপোল-ঢাকা রুটে চালু করে বেনাপোল এক্সপ্রেস। রেলটিতে উন্নতমানের এসি চেয়ার কোচ,ক্যাবিন ও নামাজের ব্যবস্থা ছিল।সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ছাড়া ৬ দিন চলাচল করে বেনাপোল এক্সপ্রেস। করোনার কারনে ৮ মাস বন্ধ থাকার পর আবারো গত ২ ডিসেম্বর থেকে এপথে চালু হয়েছে বেনাপোল এক্সপ্রেস। তবে ইন্দানেশিয়ার তৈরী আগের রেলটি পরিবর্তন করে নিম্ন মানের ভারতের তৈরী রেল দেওয়ায় অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়েছেন এরুটের যাত্রীরা। এ রেলটিতে পূর্বের কোন সুবিধা নেই। আগের রেলটি পঞ্চগড় রুটে চালানো হচ্ছে আর সেখানকার রেলটি দেওয়া হয়েছে বেনাপোল রুটে। যাত্রীরা ইন্দোনেশিয়ার তৈরী রেলটি বেনাপোল-ঢাকা রুটে ফিরিয়ে দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।

রেল যাত্রী তৌফিক জানান, বেনাপোল এক্সপ্রেসের পূর্বের রেলটি পরিবর্তন করায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ভোগ করতে হচ্ছে। নামাজের ব্যবস্থা নাই,এসি চেয়ার কোচ নেই, বাথরুম ভালনো। এছাড়া ষ্টেশনে চাহিদা মত এয়ার্ড না থাকায় সময় মত রেল ষ্টেশনে পৌছায় না। সকাল ৯ সটার রেল আসে ১০ টায় আর ১২ টার লের আসে ২ টায়।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, বেনাপোল বাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের রেলটি বর্তমানে উত্তর বঙ্গে নিয়ে গেছেন রেল মন্ত্রী। নিম্ন মানের রেল দিয়েছেন বেনাপোল রুটে। বেনাপোল-ঢাকা রুটে পূর্বের  ফিরেয়ে দেওয়ার দাবী জানাচ্ছি।

বেনাপোল রেল ষ্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, প্রধান মন্ত্রীর বরাদ্ধকৃত রেলটি বেনাপোল যুক্ত করার দাবী জানিয়েছেন যাত্রীরা। এটিতে পূর্বের সুবিধা নেই। বিষয়টি রেলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করানো হয়েছে। বেনাপোল বন্দর থেকে বেনাপোল-ঢাকা রুটে বেনাপোল এক্সপ্রেস,খুলনা-বেনাপোল রুটে বেতনা এক্সপ্রেস ও খুলনা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস চলাচল করে। তবে করোনার কারনে বর্তমানে খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধ রয়েছে বন্ধন এক্সপ্রেস।

[আজ শুরু হচ্ছে বুস্টার ডোজ এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ,মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সই এবং বেনাপোলএক্সপ্রেস পরিবর্তনে ক্ষোভ যাত্রীদের]

অন্যান্য খবর সম্পর্কে জানুন:

প্রথম আলো: সৌন্দর্য যখন বিশ্বসুন্দরীদের বোঝা

বাংলাদেশের খবর সাইটটি ব্যবহার করায় আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে “যোগাযোগ” আর্টিকেলটি দেখুন, যোগাযোগের বিস্তারিত দেয়া আছে।

3 thoughts on “আজ শুরু হচ্ছে বুস্টার ডোজ এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ,মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সই এবং বেনাপোলএক্সপ্রেস পরিবর্তনে ক্ষোভ যাত্রীদের”

মন্তব্য প্রধান বন্ধ আছে।