এডিবি দিচ্ছে ৮ বিলিয়ন ডলার এবং কার্ডে লেনদেন আবারও বাড়ছে

এডিবি দিচ্ছে ৮ বিলিয়ন ডলার

আঞ্চলিক করিডোরের উন্নয়নে সদস্য দেশগুলোকে আরও ৮ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের রিজিওনাল করিডোর অবকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এই অর্থায়ন করছে এডিবি।

সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) এডিবি’র স্বাধীন মূল্যায়ন বিভাগ (আইইডি) থেকে এক প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এডিবি দিচ্ছে ৮ বিলিয়ন ডলার image source: thefinancialexpress.com
এডিবি দিচ্ছে ৮ বিলিয়ন ডলার

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এডিবি আঞ্চলিক অবকাঠামো উন্নয়নকে আরও বেগবান করতে ৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ ও অনুদান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একইসঙ্গে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কো-ফাইন্যান্সিং করবে তারা।

জানা গেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসারে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) সবসময় সাব রিজিওনাল করিডোর অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় আঞ্চলিক করিডোরের উন্নয়নে আরো ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে এডিবি। প্রতি ডলার সমান ৮৫ টাকা ধরে এই অর্থায়নের পরিমাণ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। এডিবি’র সদস্যভুক্ত ৬৮টি দেশ সহজ শর্তে এ ঋণ ব্যবহার করে আঞ্চলিক করিডোর উন্নয়ন করছে। কনসেশনাল এ ঋণে সুদের হার ২ শতাংশ। এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ব্যবসা-বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ওই ঋণ ব্যবহার করা হয়েছে।

গ্রেটার মেকং সাবরিজিয়ন (জিএমএস) প্রোগ্রামের আওতায় এডিবি সাবরিজিওনাল করিডোরে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন করেছে। কর্মসূচির আওতায় এর আগে ২০১২ থেকে ২০২০ মেয়াদে ১৩০ প্রকল্পে ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছিল এডিবি। প্রতি ডলার সমান ৮৫ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৪ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ আরো প্রসারিত করতে বিভিন্ন ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপও প্রচার করছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এডিবি’র প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রোগ্রামটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। জিএমএস কর্মসূচির আওতায় এডিবিভুক্ত দেশগুলোতে ১৩০টির বেশি প্রকল্পে অর্থায়ন করা হয়েছে। যার পরিমাণ ছিল ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে উপ-অঞ্চলের অর্থনৈতিক করিডোরগুলোতে অবকাঠামো অনেক উন্নত হয়েছে। নতুন ৮ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নে আরো উন্নত হবে অর্থনৈতিক করিডোরগুলো।

এডিবি’র আইইডি মহাপরিচালক ইমানুয়েল জিমেনেজ বলেন, ‘জিএমএস প্রোগ্রাম দেখিয়েছে কীভাবে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা উন্নত করা যায়। সমবেতভাবে এই কর্মসূচির সুবিধা নিতে পারে দেশগুলো। আঞ্চলিক করিডোরে উভয় দেশ লাভবান হবে।’

এডিবি প্রধান মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ এবং প্রতিবেদনের প্রধান লেখক বিন গুয়েন বলেন, আঞ্চলিক চাহিদার কথা বিবেচনা করে পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলো নির্বাচন করা জরুরি। এখানে জাতীয় স্বার্থ না দেখে আঞ্চলিক স্বার্থ দেখা দরকার। দেশ-পর্যায়ের ফলাফল এবং আঞ্চলিক ফলাফলের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট যোগসূত্রসহ আঞ্চলিক উন্নয়ন ফলাফলগুলিকে শক্তিশালী করতে হবে।

আরো জানুনঃ

বাংলাদেশের খবরঃ আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস এবং কুষ্টিয়াতে আজ মুক্ত দিবস

কার্ডে লেনদেন আবারও বাড়ছে

করোনা ভাইরাসের বিস্তার কিছুটা কমে এসেছে। এতে মানুষ আবার ঘরের বাহিরে যাচ্ছে। বাজার, শপিংসহ সব ধরনের কেনাকাটায় স্বশরীরে হাজির হচ্ছে। ফলে সব ধরনের কার্ড ও অনলাইন লেনদেন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। বর্তমানে কার্ডে রেকর্ড পরিমাণ লেনদেন হচ্ছে।

এই তথ্য জানা গিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক এর হালনাগাদ প্রতিবেদনের থেকে ।

জানা গিয়েছে, গ্রাহকেরা এটিএম হতে বেশি টাকা তুলছেন, ক্রেডিট কার্ডেও পরিমানে ভালো খরচ করছেন। ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিনের (সিআরএম) রেকর্ড টাকা লেনদেন হচ্ছে। পয়েন্ট অব সেলস এর (পিওএস) মাধ্যমে কেনা কাটার মধ্যেও হয়েছে রেকর্ড। তবে ই-কমার্স লেনদেন কমে গেছে, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার কারণে ।

কার্ডে লেনদেন আবারও বাড়ছে copyright free image form Wikimedia commons
কার্ডে লেনদেন আবারও বাড়ছে

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এখনো দেশের বড় অংশের মানুষের ব্যক্তিগত লেনদেন নগদ টাকায় সম্পন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি কার্ডের মাধ্যমেও প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়, যা আর্থিক খাতের মধ্যে মোট লেনদেন এর তুলনায় হয়তো সামান্যই থাকতে পারতো,কিন্তু দিনকে দিন এসকল কার্ডের লেনদেন বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর শেষে দেশে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৪২ লাখ ২৫ হাজার ১৬৪। ২০১৯ সাল শেষে ব্যাংক খাতে ডেবিট কার্ডে সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮২ লাখ ৩১ হাজার ৯৩। সেই হিসাবে ১ বছর ৯ মাসে কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৬০ লাখ। একইভাবে সেপ্টেম্বর শেষে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮ লাখ ৩ হাজার ১২৩। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর শেষে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৩৭ হাজার ২০২। ফলে ১ বছর ৯ মাসে ক্রেডিট কার্ড বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ।

সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বর মাসে ডেবিট কার্ডে লেনদেন হয়েছে ২২ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। এর আগে কখনো ডেবিট কার্ডে এক মাসে এত লেনদেন হয়নি। এর আগে গত মে মাসে ২২ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সেপ্টেম্বরে লেনদেন হয় ১ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা। যদিও গত জুনে ক্রেডিট কার্ডে ১ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকার সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল।

ব্যাংকাররা বলছেন, করোনার প্রকোপ কমে আসায় জীবনযাত্রা অনেকটা স্বাভাবিক ধারায় ফিরেছে। আবার অর্থনীতির কর্মচাঞ্চল্যও ফিরে এসেছে। তাই মানুষ খরচও বেশি করছে। এখন আর্থিক লেনদেনে এটিএম, পিওএস, সিআরএমসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রের ব্যবহারএর মাত্রা বেশি হচ্ছে। তাই কার্ডের এই ধরনের লেনদেন বেড়েছে ।

সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার কারণে ই-কমার্সে লেনদেন অনেক কমে গেছে। সেটি না হলে কার্ডে লেনদেন আরও অনেক বাড়তো বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গত সেপ্টেম্বর মাসে ই-কমার্সে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭৭৮ কোটি টাকা। গত জুনেও ই-কমার্স এর লেনদেন এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৭৭ কোটি টাকার মত।

এটিএম থেকে কার্ড দিয়ে গত সেপ্টেম্বরে ১৮ হাজার ৫৯ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একইভাবে পিওএসের মাধ্যমে সেপ্টেম্বরের  ১ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকার মত লেনদেন করা হয়। পিওএস সাধারণত কেনাকাটাসহ বিমানের টিকিট ক্রয়, হোটেল এর ভাড়া দেওয়ার সময় ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ব্যাংকগুলো তাদের শাখায় চাপ কমাতে বিকল্প প্ল্যাটফর্ম স্থাপনে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। ফলে গত সেপ্টেম্বর শেষে এটিএম বুথ বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৪৯৫টি, যা ২০১৯ সালের শেষে ছিল ১০ হাজার ৯২৪। পিওএসের সংখ্যা  যা ২০১৯ সাল শেষে ছিল ৫৬ হাজার ১৩ টি তার পরিমান বেড়ে হয়েছে ৫৮ হাজার ৫২৭,। পাশাপাশি টাকা জমা নিতে ক্যাশ ডিপোজিট মেশিনের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৬৮৯টি এর মত এবং সিআরএম এর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩৪টি। গ্রাহকেরা এখন কম অঙ্কের টাকা জমা দিতে ব্যাংক শাখার চেয়ে যন্ত্রকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

[এডিবি দিচ্ছে ৮ বিলিয়ন ডলার এবং কার্ডে লেনদেন আবারও বাড়ছে ]

অন্যান্য খবর সম্পর্কে জানুন:

প্রথম আলো: পরীমনির বিরুদ্ধে মাদক মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ২ জানুয়ারি