মূল্যবৃদ্ধি যৌক্তিক বলেছেন অর্থমন্ত্রী এবং বন্ধ হচ্ছে সিটিং সার্ভিস

মূল্যবৃদ্ধি যৌক্তিক বলেছেন অর্থমন্ত্রী : ডিজেলের দাম বাড়ায় গণপরিবহনে ভাড়া বেড়েছে। সাথে পাল্লা করে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। তবে জনগণের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির চাপকে যৌক্তিক বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বুধবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রী গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল copyright free image form Wikimedia commons
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

করোনায় মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে চলে গেছে, চাকরি হারিয়েছে, পণ্যের দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে ডিজেলের দাম বাড়ায় গণপরিবহন এর ভাড়া বেড়েছে। জনগণের ওপর এই চাপ দেওয়াটা কতটা যৌক্তিক এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যবৃদ্ধি যৌক্তিক । সরকার কোত্থেকে টাকা পাবে? রেভিনিউ অর্জন করার ফলেই সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে। তারপরও যতটুকু সম্ভব সরকার এটা সামঞ্জস্য করে দেয়।

তিনি বলেছেন, মূল্যবৃদ্ধি যৌক্তিক , তেলের দাম তো আর আমরা বাড়ায় নি, ভালো দিক দেখবেন কি করে? কোনো জাহাজে যদি করোনা আক্রান্ত কাউকে পাওয়া যায় তাহলে সেই জাহাজ কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। এই যে জাহাজ চলতে পারে না, মাসের পর মাস সাগরে আটকে আছে; সেই চার্জ করা হয়, শিপিং কোম্পানিকে ।  সব একত্র হয়ে চার্জগুলো, পুরো চার্জটা আমরা পাই।  ডিজিলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চাপ না বারিয়ে এর অন্য বিকল্প ছিল কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আমরা স্বীকার করি। যখন দাম কমে আমরা দাম কমাই, যখন বাড়ে বাড়াই। এখন কি পরিমাণ দাম বেড়েছে সেটা জানেন?আগামীতে যে মিটিং হবে তারপর আমরা আপনাদের জানাবো গত দুই বছরে কী পরিমাণ বেড়েছে? আমরা কতটুকু পরিমান বাড়িয়েছি। আপনারা বুঝতে পারবেন তাহলে সরকার কতটা বহন করতে পারে। যারা ভোক্তা, কিছুটা তাদেরকেও কিছু পরিমান বহন করতে হবে। আপনাদের সকলকে বুঝতে হবে এখনকার দাম কত। বাকিটা সরকারকেই নিজে বহন করতে হচ্ছে।

বিপিসি ৪৩ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে, কিন্তু জ্বালানির দাম কমেনি এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুস্তফা কামাল বলেন, সরকার টাকা নিয়ে কী করবে? এই যে সেফটিনেট প্রকল্পগুলো আছে, এগুলো তো সরকার টাকা প্রিন্ট করে চালাচ্ছে না। সরকারকে টাকা আয় করে চালাতে হয়। এগুলো তো শেয়ার করতে হয়। তারপরও সরকার যতটুকু পারে শেয়ারিং করা হয়। ভোক্তার ওপর দেই, সামান্য যেটা না হলে নয় সেটা । জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির হিসাবে ১০ শতাংশ ভাড়া বাড়ার কথা থাকলেও ২৭ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়ে সিপিডির বক্তব্য প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা আমাকে দেখতে হবে। আমি দেখে জবাব দেবো। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নিয়োজিত ব্যাক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করবো। তাদের চার্জ কত করেছে,খরচ কত হচ্চে সেটি আলোচনা করে জানাবো।

বাসভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি পুর্নবিবেচনার দাবি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগে আমাকে জানতে হবে মূল্যবৃদ্ধির কারণ। আমি যদি দেখি কোনো ভিত্তি ছাড়া দাম বাড়ানো হয়েছে, সেটা বিবেচনা করার অবশ্যই সুযোগ রয়েছে। বাজারে কমে ছিলো সেউ সুবিধা আমরা পাইনি কারজ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেক ছিলো। সবাই সুবিধা পেয়েছে। এখন দাম বেড়েছে, কী পরিমাণ বেড়েছে নেটে গেলে পাবেন। আমরা তেল উৎপাদন করি না, আমরা ভোক্তা। আমরা রিসিভিং করি, আমাদের এখানে হাত দেওয়াও সম্ভব নয়। তারপরও আমরা চেষ্টা করবো যে পরিমাণ বাড়বে সে পরিমাণ যেনো আমাদের ভোক্তারা সহ্য করতে পারেন সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখা হয়ে থাকবে। আমি এদেশের একজন নাগরিক এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে এসকল কথা বলছি।

আরো জানুন:

বাংলাদেশের খবর: সারাবিশ্বে করোনার শনাক্ত ও মৃত্যুর হার কমেছে 

 

 বন্ধ হবে সিটিং সার্ভিস

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় আগামী তিন দিনের মধ্যে গেইট লক সার্ভিস  এবং সিটিং সার্ভিস থাকবে না একথা বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

মূল্যবৃদ্ধি যৌক্তিক বলেছেন অর্থমন্ত্রী এবং বন্ধ হচ্ছে সিটিং সার্ভিস image collected and edited for reuse
সিটিং সার্ভিস বাস

বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ এ ঘোষণা দেন। এ সময় রাজধানীতে আর ওয়েবিলে বাস চলবে না বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছিলো, সড়ক পরিবহনের মালিক সমিতির পক্ষ হতে ৩ দিনের মধ্যে ডিজেল আর সিএনজি চালিত বাসের স্টিকার লাগানোর ব্যবস্থা করা হবে।

খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, কোনো ধরনের সিটিং সার্ভিস ও ওয়েবিলের মাধ্যমে কোনো বাস চলবে না। আমরা তিন দিন সময় দেব, এরপর কোনো গেইটলক ও সিটিং সার্ভিসের বাস চললে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএনজিচালিত বাসের সংখ্যা নিয়ে সংবাদমাধ্যের মধ্যে বিভ্রান্তিজাতীয় সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে এসকল কথা  তিনি দাবি করছেন।

এনায়েত উল্যাহ বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বাস-মিনিবাসের ভাড়া পুননির্ধারণ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বলা হচ্ছে, ঢাকা এবং দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসের ৮০-৯০ শতাংশ সিএনজিচালিত। এসব বাসে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু আমরা ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ১২০টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১৩ কোম্পানির ১৯৬টি বাস সিএনজিচালিত পেয়েছি। এটি মোট গণপরিবহনের মাত্র ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ।

[ মূল্যবৃদ্ধি যৌক্তিক বলেছেন অর্থমন্ত্রী এবং বন্ধ হচ্ছে সিটিং সার্ভিস ]

অর্থনীতির আরো খবর সম্পর্কে জানুন:

প্রথম আলো: পোশাক রপ্তানিকে পথ দেখান রিয়াজউদ্দিন

বাংলাদেশের খবর সাইটটি ব্যবহার করায় আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে “যোগাযোগ” আর্টিকেলটি দেখুন, যোগাযোগের বিস্তারিত দেয়া আছে।