শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বাবা-মার করণীয়!

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে দীর্ঘ ১৭ মাস শিশুরা বাইরে বের হতে পারেনাই। ঘরবন্দী থাকার এই সময়টাতে শিশুরা ইন্টারনেট নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

পড়াশুনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চলেছে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম। এর আওতায় শিশুরাও ছিল। ফলে একটা দীর্ঘ সময় ইন্টারনেটে কাটিয়েছে শিশুরা। যা শিশুদের ইন্টারনেট আসক্তির নতুন কারণ। তাই আপনার শিশুর ইন্টারনেট ব্যবহার ও আসক্তি কমানোর জন্য আপনার নজরদারী দরকার।

শিশুর নিরাপত্তায় বাবা-মার করণীয়

শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারে বাবা-মা কে নজরদারী খুব দরকার। শিশুরা নেট ব্যবহারের সময় কোন ঝুকিঁতে বা আসক্ত হয়ে পড়ছে না তো?

বর্তমানে সাইবার অ্যাবিউজ খুব কমন ব্যাপার। এটা শিশুদের জন্য একটা হুমকির জায়গা। বাচ্চারা এত বেশি অ্যাডিকশন, যে ইন্টারনেট ছাড়া থাকতেই পারে না।

অভ্যাসগত পরিবর্তন ও একটু সচেতন হলেই শিশুদের জন্য ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এতে করে শিশুদের সাথে পরিবারের  বন্ধন মজবুত হবে। এর মধ্যে রয়েছে-

প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করুন

শিশুদের ব্যবহৃত  ডিভাইসে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা সবথেকে নিরাপদ। জিমেইলে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সিস্টেম আছে। যা ব্যবহার করে শিশু কী দেখছে তার উপর নজরদারি করা সম্ভব। শিশুদের যে ডিভাইসটি দেয়া হলো সেটি চালু করতে হলে একটি ই-মেইল অ্যাড্রেস দরকার হয়। শিশুদের ই-মেইল অ্যাকাউন্টটি খোলার সময় তার জন্ম তারিখটি সংযুক্ত করুন। বয়স ১৩ বছরের নিচে হলে, গুগল বলবে  অ্যাকাউন্টটি প্যারেন্টাল কন্ট্রোলের অধীনে। আপনি করতে চান কিনা।

সেক্ষেত্রে জানতে চাওয়া হবে যে, ওই অ্যাকাউন্টটি অন্য কার অ্যাকাউন্টটির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে। অর্থাৎ সেখানে যেকোন একজন অভিভাবকের ই-মেইল অ্যাকাউন্ট চাইবে। এখানে বাবা কিংবা মায়ের একটা ই-মেইল অ্যাকাউন্ট দেয়ার সুযোগ থাকে।

শিশুর ব্যবহারিত ডিভাইসে জিমেইলটি লগ-ইন করুন। তাহলে শিশুরা এটি দিয়ে কী কী খুঁজলো, কী কী অ্যাপ ইন্সটল করলো। এবং ইউটিউব-ফেসবুকে কী দেখলো-সব কিছু তখন অভিভাবকের ই-মেইল অ্যাড্রেস থেকে দেখা যাবে। শিশুর লোকেশন শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ ইন্সটল করুন

প্যারেন্টাল সেফ ব্রাউজার অ্যাপস যদি শিশুর ডিভাইসে ইন্সটল করেন। তাহলে এটি ব্যবহার করে কোন ধরণের অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট দেখতে পারবে না শিশুরা। অনেক সময় দেখা যায় যে, বাবা বা মায়ের ডিভাইস-ই শিশু ব্যবহার করে থাকে। সেক্ষেত্রে সেফ ব্রাউজার-প্যারেন্টাল কন্ট্রোল নামে একটা অ্যাপস আছে। সেটি মোবাইল, ল্যাপটপ বা পিসিতে ইন্সটল করে যখন বাচ্চারা ব্যবহার করবে তখন সেটি চালু করে রাখা সম্ভব। 

চাইল্ড ভার্সন অপশনটি ব্যবহার করুন

শিশুর ইন্টারনেটের আসক্তি Copyright by pxfuel.com
শিশুর ইন্টারনেটের আসক্তি

ফেসবুক এবং মেসেঞ্জার এর ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের চাইল্ড ভার্সন আছে। সেক্ষেত্রে বাচ্চাদের একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে দেয়া যায় যেটি তারা ব্যবহার করলেও অভিভাবকদের সুপারভাইজ করার সুযোগ থাকে।

ইন্টারনেটের সংযোগ নেয়ার সময় সচেতন হোন

যে কোম্পানির কাছ থেকে ইন্টারনেটের সংযোগটি নিচ্ছেন তাদের সেফ ইন্টারনেট ফিচারটি আছে কিনা সেটি জেনে নেয়াটা ভাল। এই ফিচারটি থাকলে সার্ভিস প্রোভাইডারদের কাছ থেকেই কিছু সাইট বা কন্টেন্ট ব্লক করে দেয়ার ব্যবস্থা থাকে।

শিশুর নেট ব্যবহারের সময় বেধে দিন

শিশুরা কতক্ষণ অনলাইন  থাকবে তার একটা নির্দিষ্ট সময় বেধে দিন। ইন্টারনেটের সংযোগ বাসায় কখন কখন থাকবে আর কখন থাকবে না সেটির একটা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে। সংযোগ দাতাদের পোর্টালে ঢুকে একটা আবেদনের মাধ্যমে সংযোগের সময় নির্ধারণ করে দেয়া যায়। সামাজিক মাধ্যমগুলোতেও প্যারেন্টাল কন্ট্রোল এবং বয়স নির্ধারণের ব্যবস্থা আছে। এটি চালু থাকলে কোনভাবেই কিছু কন্টেন্ট শিশুদের কাছে আসবে না।

শিশুর সাথে আপনিও থাকুন

নেট ব্যবহারের সময় আপনিও শিশুর সাথে বসুন। শিক্ষামূলক বিভিন্ন চ্যানেল এবং ওয়েবসাইট রয়েছে। তাদেরকে সেগুলো দেখতে উৎসাহিত করুন। নতুন কিছু শিখতে বা তৈরি করতে তাদেরকে আগ্রহী করে তুলুন। ইউটিউব কিংবা অন্য সাইটগুলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী যে বিষয়গুলো দেখে সেই একই ধরণের বিষয় বা কন্টেন্টগুলোই পরামর্শ বা সাজেশান্স হিসেবে আসতে থাকে। আর এজন্যই শিশুদের আগ্রহ অনুযায়ী ভাল ও শিক্ষামূলক কন্টেন্ট দেখতে উৎসাহিত করলে তাদের কাছে সেসব কন্টেন্টই আসবে।

আপনি কী দেখছেন সে বিষয়েও সতর্ক হোন

বাড়িতে মাত্র একটি ইন্টারনেটের সংযোগ থাকার কারনে সবাই একই ওয়াইফাই শেয়ার করে ব্যবহার করে। প্রতিটি রাউটারে একটা নির্দিষ্ট আইপি নম্বর বা অ্যাড্রেস থাকে। বাড়ির বাবা-মা বা প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্যরা যদি এই সংযোগ ব্যবহার করে উল্টা-পাল্টা কিছু সার্চ করে বা দেখে, তাহলে সেগুলো আইপি অ্যাড্রেসে জমা হয়। এ কারণে অন্যদের সার্চ করা কন্টেন্ট শিশুদের সামনে চলে আসে। শিশুদের এর থেকে দূরে রাখতে আপনারাও সতর্ক হওন ।

এছাড়াও যে বিষয় গুলোতে নজরদারী বাড়াতে হবে তা হলো-

শিশুদের হাতে মোবাইল তুলে দেওয়ার আগে একটু ভেবে নিন। আপনার শিশুটার বয়সই বা কত তাকে আপনি মোবাইল দিচ্ছেন? আমরা শিশুদের মোবাইল তো দিচ্ছিই তার সাথে চাহিদার তুলনায় বেশি রিচার্জ দিচ্ছি। আপনার বাচ্চার আদেও কি মোবাইল প্রয়োজন বা যে পরিমাণ রিচার্জ আপনি দিচ্ছেন সেটার। 

মোবাইল ফোনে কথা বলা ছাড়াও ফোন দিয়ে ছবি তোলা বা ভিডিও করা যায়। এসব প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহারে সাবধানতা ও সচেতনতা প্রয়োজন। হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবারের মাধ্যমে কার সঙ্গে যুক্ত হবে, কতটুকু ব্যবহার করা যাবে, ভিডিও কল করা যাবে কি না?এসব ব্যাপারে অভিভাবকদের উচিত বাচ্চাকে সঠিক ধারণা দেওয়া। ছবি বা ভিডিও পাঠানোর ক্ষেত্রেও যে সচেতন থাকতে হবে তা অভিভাবক বাচ্চাকে বুঝিয়ে দেবেন।

আরও দেখুন:

এভাবে আপনার নজরদারী ও সচেতনা আপনার শিশুর নেট ব্যবহারকে করবে ঝুঁকিমুক্ত। 

শিশুর ইন্টারনেটের ব্যবহার সম্পর্কে আরও জানতে:

 

বাংলাদেশের খবর সাইটটি ব্যবহার করায় আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে “যোগাযোগ” আর্টিকেলটি দেখুন, যোগাযোগের বিস্তারিত দেয়া আছে।