সানগ্লাস বা রোদচশমা ব্যবহারের উপকারিতা !

বাইরে এখন প্রচন্ড রোদের তাপ। তাই যারা প্রতিনিয়ত ঘরের বাইরে যান তাদের জন্য সানগ্লাস বা রোদ চশমা অতি গুরত্বপূর্ণ একটি অনুসঙ্গ।

 

চোখে যাতে অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি ভাবে না পড়ে বা ধুলোবালি এর কারনে চোখের কোন ক্ষতি না হয়, তার দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। এর জন্য চশমা কেনার সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল ভালো ভাবে রাখতে পারেন। এর মধ্যে চশমায় অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধক কি না আর চশমা মুখের গড়নের সঙ্গে যায় কি না, সে দিকগিলো বিবেচনায় রাখতে হবে।

 

রোদচশমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো বাঁধাধরা এর নিয়ম নেই। ব্যবহারিক দিক থেকে যেটি সুবিধাজনক আর মুখের সঙ্গে মানানসই হবে সেটি কেনা যেতে পারে। বাজারে পুরুষ এবং নারীদের জন্য আলাদা রকমের রোদচশমা রয়েছে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে পছন্দমতো রোদচশমা কিনতে পারেন আগ্রহী সকল ব্যক্তিরা।

 

চোখের পাশাপাশি চারপাশের ত্বক রোদে পুড়ে যাওয়া এর থেকে রক্ষা করতে রোদচশমা ব্যবহার জরুরি৷ প্রখর রোদে চশমা চোখকে আরাম প্রদান করে থাকে৷ তবে সকল ধরনের রোদচশমা আরাম না দিয়ে ক্ষতিও করতে থাকতে পারে৷ যেমন বাঁকা গ্লাস অথবা ফ্রেম শক্ত হলে চোখের জন্য ব্যথা হওয়ার কারন হতে পারে। এসকল বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে৷

 

ভালো রোদচশমা এর লেন্স থেকে অতিবেগুনি রশ্মির ৯৯ থেকে ১০০ শতাংশ আটকে দিতে পারে। এ ছাড়া দৃশ্যমান রোদের ৭৫ হতে ৯০ শতাংশ থেকে চোখকে আড়াল করেও রাখে। এই রোদচশমা রং আর আলো শোষণে সঠিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিকৃতি ও অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত। আলো আর রং সঠিকভাবে বুঝতে হলে ধূসর সানগ্লাস ভালো হয়ে থাকে।

 

সানগ্লাস বা রোদচশমা কেনার আগে যেগুলো মনে রাখতে হবে :

 

১. রোদচশমার লক্ষ্য মূল হচ্ছে চোখের সুরক্ষা। প্রখর রোদে এর সময় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি যাতে চোখে না পড়ে, সে জন্য চশমা কেনার সময় সেটি আলট্রাভায়োলেট লাইট থেকে সুরক্ষিত কি না, তা অবশ্যই যাচাই করে দেখে নেবেন।

 

২. চশমার ফ্রেম আপনার মুখের গড়নের সঙ্গে মিল হয় কি না, সেটি দেখে নিন। মুখের আকারের সঙ্গে চশমার ফ্রেমের আকার বাছাই করতে কয়েকটি চশমা পরে দেখুন। মুখ বড় হয়ে থাকলে বড় ফ্রেম নিন। মুখের গড়ন ছোট হলে ছোট ফ্রেম এর চশমাই ভালো। চশমা কিনতে যাওয়ার আগে নিজের মুখের সঙ্গে কেমন ধরনের চশমা মানাবে, তা ধারণা করে নিন।

ধূলাবালি ও বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া থেকে এই  সানগ্লাস চোখকে রক্ষা করে।

৩. ফ্রেম কিসে তৈরি হয়, সে বিষয়গুলো বিবেচনায় নিন। কারণ, ফ্রেমের কারণে চশমা পরে থাকতে অস্বস্তি মনে হতে পারে। চশমার ব্যবহার, যত্ন আর স্বস্তির কথা বিবেচনায় ফ্রেমের উপাদান কিসে তৈরি হয়, সেটি ঠিক করে নিন। আপনার সঙ্গে অব্যশই মানানসই হবে, এমন ধরনের ধাতব, প্লাস্টিক অথবা টাইটেনিয়াম এর ফ্রেম নিতে পারেন।

 

৪. গ্ল্যামার হিসেবে চশমার লেন্সের বিভিন্ন রং হতে বেছে নিতে পারেন। সবুজ, ধূসর, বাদামি, হলুদ, সোনালি, গোলাপি বা নীল এসকল রঙের মধ্যে থেকে পছন্দ করুন।

 

৫. চশমা কেনার সময় ভালো মানের চশমা এর সঙ্গে কোন প্রকার আপস করবেন না। চশমা যাতে কিছুদিন টেকে, এই ধরনের চশমা কিনুন।

 

সানগ্লাস ব্যবহার এর কারনঃ

ফ্যাশন বলুন অথবা প্রয়োজন বলুন ‘সানগ্লাস‘ একটি অতীব জরুরি একটি জিনিস। অনেকে ফ্যাশন হিসেবে এটা ব্যবহার করেন, আবার কেউ বা প্রয়োজনে।

তবে এটা সত্য যে এটা শুধু ফ্যাশনই নয়, একইসাথে চোখের জন্য ভালো। গরমে কড়া রোদে যান বা শীতকালের নরম রোদে যান সানগ্লাস আপনাকে যথেষ্ট প্রটেকশন দিবে।

এখন আমাকে অনেকে আপনি প্রশ্ন করতেই পারেন যে গরমকালে প্রচন্ড রোদ থেকে বাঁচার জন্য এই জিনিসটি প্রয়োজন, কিন্তু শীতকালে কিসের প্রয়োজন হতে পারে? শীতকালে এর সময় আপনি অথবা আমি সবাই জানি সবকিছু শুষ্ক থাকার ফলে প্রচুর ধূলাবালি সৃষ্টি হয় যেটা আপনার চোখের জন্য ক্ষতিকর হয়ে থাকে।

 

তাই গ্রীষ্মকাল ছাড়াও বছরের প্রত্যেকটা সময় সানগ্লাস একটি প্রয়োজনীয় জিনিস। প্রচন্ড ধূলাবালি, বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া, সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্নি চোখের জন্য খুব খারাপ। তাই সানগ্লাসের প্রয়োজনীয়তা অনেক।

সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি সব বয়সের মানুষের চোখের জন্যই ক্ষতিকর। চোখের কর্ণিয়া ও রেটিনার জন্য এই রশ্মি ক্ষতিকর। সরাসরি সূর্যের আলো চোখে পড়লে মাইগ্রেনের সমস্যাও হতে পারে।

আবার দেখা যায় যে রোদে বের হলে আমাদের চোখ কুচকে তাকাতে হয়। এতে চোখের পাশের পাতলা চামড়ায় ভাঁজ পড়ে যায়। সানগ্লাসের প্রয়োজনীয়তা বুঝতেই পারছেন।

তরুণ-তরণীদের মধ্যে সানগ্লাসের জনপ্রিয়তা এমনিতেই বেশি। সবার চেহারা এক নয়। তাই বুঝেশুনে সানগ্লাস কেনা উচিত। সেটা নিয়ে পরের টপিকেই কথা হবে।

 

সানগ্লাস ব্যবহারের কিছু নিয়মঃ

 

শুধু কিনলেই হবেনা, সানগ্লাস ব্যবহারের কিছু নিয়ম কানুন আপনার মেনে চলা উচিত। সেগুলো নিয়ে নিচে আলোচনা করলাম। চেষ্টা করবেন নিম্নোক্ত নিয়মগুলো মানতে।

১। কারো সাথে মনের ভাব প্রকাশের সময় সানগ্লাস খুলে কথা বলুন

যখন কারো সাথে সামনাসামনি কথা বলবেন চেষ্টা করবেন রোদচশমা খুলে কথা বলার। এটা চোখে রেখে কারো সাথে কথা বলবেন না। এটা একদম সুন্দর দেখাবেনা।

কারণ একজন মানুষ অন্য মানুষের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পছন্দ করে। তাই কারো সাথে মনের ভাব প্রকাশ করার সময় চোখ ঢাকা থাকলে অসৌজন্যতা প্রকাশ পায়।

২। পারফেক্ট শেড বাছাই করতে হবে

অফিসিয়াল কোনো ট্যুর এবং বন্ধুবান্ধবের সাথে ট্যুরে একই সানগ্লাস ব্যবহার করাটা ভালো দেখাবেনা। তাই সেই মোতাবেক অনুযায়ী কিনবেন।

অফিসের ক্ষেত্রে কিনলে এক কালারের কিনবেন। জমকালো বা কালারফুল এক্ষেত্রে ভালো লাগবেনা। আর বন্ধুবান্ধবের সাথে ট্যুরে গেলে চোখে যা ভালো লাগবে তাই কিনতে পারেন।

যেখানে রোদ নেই সেখানে চশমা খুলে রাখা ভালো

৩। আয়না হিসেবে অন্য আরেকজন লোকের চশমা ব্যবহার করবেন না।

 

অনেকেরই এই স্বভাব আছে। আরেকজনের চশমা একটু গ্লাস রিফ্লেকশন থাকলেই নিজের চেহারা দেখতে ইচ্ছে করে। এটা আসলে চশমার ব্যবহারকারীকে লজ্জ্বিত করে।

উনি হয় সেটা অপছন্দ করতে থাকতে পারেন, নতুবা বিব্রত বোধ করে থাকতে পারেন। তাই এ সকল ব্যাপারগুলো একটু খেয়াল রাখবেন।

৪। শুধুমাত্র বাহিরে থাকাকালীন সময়ে ব্যবহার করুন

ঘরে বা মার্কেটে অথবা যেখানে রোদ নেই সেখানে চশমা খুলে রাখাটা ভালো। অনেকে নিজেকে একটু স্মার্ট দেখাতে যেয়ে এই ভুলগুলো  করে থাকেন।

কিন্তু রোদ ছাড়া সানগ্লাস পরে থাকাটাখাপ খায়না পরিবেশের সাথে। আশেপাশের অনেকেই আবার এই ব্যাপারটা পছন্দ করে থাকেন না।

৫। সানগ্লাসটি সবসময় মাথায় রাখবেন না

অনেকে চশমা মাথায় রাখতে পছন্দ করেন। এটা বাজে স্বভাব। যতটুকু পারেন এই স্বভাবটা পরিত্যাগ করুন। রোদচশমার মাথায় লাগিয়ে রাখার জিনিস না। তাই প্রয়োজনে চোখে রাখুন, নাহলে হাতে রাখুন।

মাঝেমাঝে মাথায় রাখতে পারেন। সানগ্লাসের মূখ্য উদ্দেশ্য ফ্যাশন নয়। তাই সেটা চোখে রাখুন। চোখকে রক্ষা করুন রোদ এবং ধুলাবালি থেকে। যাহোক, লেখা আর বড় করতে চাচ্ছিনা। পরবর্তী কোনো লেখা নিয়ে হাজির হবো। ভালো থাকবেন।

 

সানগ্লাস বা রোদচশমা সর্ম্পকে আরও জানতেঃ

আমাদের অন্যান্য আর্টিকেল:

 

বাংলাদেশের খবর সাইটটি ব্যবহার করায় আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে “যোগাযোগ” আর্টিকেলটি দেখুন, যোগাযোগের বিস্তারিত দেয়া আছে।