স্মার্টফোন আমাদের গোপনে যে সকল ক্ষতি করে যাচ্ছে !

স্মার্টফোন আমাদের সকলের জীবনকে অনেক সহজ করে তুলেছে। এখন আমরা পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকা যে কারও সঙ্গে কেবল একটি বাটন চাপ দেওয়ার মাধ্যেমে যোগাযোগ করতে পারি। সেকেন্ড এর মধ্যে ইন্টারনেট থেকে যেকোনো ধরনের তথ্য পেতে পারি। এতসব সুযোগ-সুবিধা এর পাশাপাশি আরেকটি বাস্তবতা হলো যে, স্মার্টফোন আমাদের কিছু গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি এর মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

একটানা ফোনে স্ক্রলিং করলে তা ঘাড়ে ব্যথা আর শুষ্ক চোখের কারণ হয়ে যেতে পারে। এর ক্ষতিকর দিক শুধুমাত্র শারীরিক অসুস্থ হয়ে জাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনলাইনে খুব বেশি তথ্য গ্রহণ করে থাকলে তা চাপের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে তুলতে পারে। এমনকী আপনি নিজেকে নিরাপত্তাহীন ভাবে ভাবতে শুরু করতে পারেন।

তাই স্মার্টফোন কেন কম ব্যবহার করতে হবে তার ৬টি কারণ সম্পর্কে জেনে নিন –

স্মার্টফোন চোখের ক্ষতি করেঃ

আমাদের চোখ অনেক নাজুক। স্মার্টফোন এর ব্যবহার কমিয়ে না আনলে এর নীল পর্দা খুব সহজেই চোখের ক্ষতি করতে পারে। ফোনের মধ্যে থাকা স্ক্রিন ফোটোরিসেপ্টরের ক্ষতি, মাথাব্যথা, অস্পষ্ট দৃষ্টি আর এমনকি শুষ্ক চোখের জন্য দায়ী হতে পারে। আপনার মধ্যে যদি এমন কোনো উপসর্গ দেখা দেয় তবে হতে পারে সেজন্য ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের জন্য দায়ী। তাই আপনার চোখদুটিকে বিরতি দিন। আপনার কাছ থেকে ২০/২৫ মিটার দূরত্বে রাখা কিছুতে ফোকাস করুন আর চোখে থেকে সকল ক্ষতি কমানোর জন্য নিয়মিত চোখ এর পরীক্ষা করুন।

স্মার্টফোন কব্জিতে ব্যথা হতে পারেঃ

স্মার্টফোন <span style="font-weight: 400;">অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে চোখের ক্ষতি হয়</span>
স্মার্টফোন অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে চোখের ক্ষতি হয়

আপনি যদি দিনে ৫-৬ ঘণ্টা বা তার অধিক সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তাহলে আপনি ভবিষ্যতে অনেক খারাপ অবস্থার শিকার হতে পারেন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে কার্পাল টানেল আর কব্জিতে ব্যথা উভয়ই কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান একটি সমস্যা। কব্জিতে ব্যথা, অসাড়তা ও সূঁচ ফোটার অনুভূতি এর মতো সমস্যা হতে পারে। আপনি যদি এ সকল ধরনের কোনো উপসর্গ অনুভব করে থাকেন, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকদের পরামর্শ নিন এবং ফোন ব্যবহারের সময় আস্তে আস্তে কমিয়ে আনুন। পিঠের আর ঘাড়ের ব্যথার জন্যও দায়ী হতে পারে স্মার্টফোনের অতিরিক্ত পরিমানে ব্যবহার।

স্মার্টফোন ত্বকের ক্ষয় হতে পারেঃ

কিছু গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে যে, স্মার্টফোন বিভিন্ন ধরণের জীবাণু আর ব্যাকটেরিয়ার আবাসস্থল। এই জীবাণুগুলো আপনার ত্বকে স্থানান্তরিত হয়ে যেতে পারে। ফলে তা ত্বক এবং অন্যান্য ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। যখন আপনি,আপনার ফোনটি আপনার কানের কাছে ধরে রাখেন তখন গালের মাধ্যমে জীবাণুগুলো আপনার ত্বকের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়। ফলে ত্বকের মধ্যে দাগ এবং ব্রণ দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে অকাল বার্ধক্যও দেখা অনেক বেশি দিতে পারে। ঝুঁকি কমাতে হলে অ্যালকোহল ওয়াইপ দিয়ে আপনার ফোন নিয়মিত পরিষ্কার করে রাখুন।

স্মার্টফোন ঘুম ব্যাহত করেঃ

স্বাভাবিকভাবে এবং সুস্থ উপায়ে কাজ করার জন্য একজন মানুষকে নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। কিন্তু গভীর রাতে অতিরিক্ত পরিমানে স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে অনেকের ঘুমে সমস্যা দেখা দেয়। হয় তারা তাদের স্মার্টফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে থাকে অথবা তারা ঘুমের জন্য খুব প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। ঘুম অনিয়মিত অনিয়মিত হলে তা আপনাকে খিটখিটে এবং বদমেজাজী এর কারন করে তোলে। এটি অনেক সময় অতিরিক্ত পরিমানে খাওয়ার প্রবণতাও তৈরি করে থাকে।

স্মার্টফোন স্ট্রেসের কারণ হতে পারেঃ

স্মার্টফোন আপনাকে দুটি উপায়ে স্ট্রেসের কারনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। প্রথমত অনিদ্রার কারণে আর দ্বিতীয়ত ইন্টারনেট থেকে অতিরিক্ত তথ্য গ্রহণের ফলে। আপনি আপনার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল কিংবা ইন্টারনেটে স্ক্রল করলে উভয়ই আপনাকে নানানভাবে অভিভূত করতে পারে এবং কর্টিসল এর মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে। স্মার্টফোনে আসক্তি উদ্বেগ এবং বিষণ্নতার কারণ হতে যেতে পারে।

স্মার্টফোন ব্যাকটেরিয়ার গুদাম ঘরঃ

স্মার্টফোন এর স্কিন নিয়মিত পরিস্কার করা প্রয়োজন
স্মার্টফোন এর স্কিন নিয়মিত পরিস্কার করা প্রয়োজন

আমেরিকার  University of Arizona এর একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, একটি টয়লেট সিট এর উপরিভাগে যে পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া থেকে থাকে তার থেকে ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে আমাদের এসকল স্মার্টফোনে। আমাদের টয়লেট আমরা নিয়মিত পরিষ্কার করলেও স্মার্টফোন পরিষ্কার একদমই করা হয়না। আর টয়লেট সিট যতই পরিষ্কার থাকুক আমরা অবশ্যই কোন সময় সেখানে কেউ মুখ ঘষিনা। কিন্তু কোনো সঠিক পদ্ধতি এর পরিষ্কার ছাড়াই আমরা আমাদের ফোন সারাদিন হাতে রাখি আর কল আসলে মুখে লাগিয়ে থাকি।

স্মার্টফোন কে ফেলে রেখে সারাদিন এর জন্য দূরে থাকা এখন আমাদের মধ্যে আর কারও পক্ষেই এত সহজ নয়।

 তাই স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা যে সকল নিয়ম মেনে চলতে পারি সেগুলো হলো –

  • খাওয়ার সময় ফোন ব্যবহার করবেন না।
  • সকালে ঘুম হতে জেগেই ফোন ঘাটতে শুরু করবেন না।
  • ঘুমানোর পূর্বে সোশ্যাল মিডিয়াতে স্ক্রল করবেন না।
  • ঘুমানোর কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা আগে আপনার  সেলফোন ব্যবহার বন্ধ করুন।

 অতিরিক্ত সবকিছুই আসলে কোনো না কোনোভাবে আমাদের খারাপ কিছুই ডেকে আনে। তাই এসকল বিষয়ে সাবধান হোন। প্রয়োজনের বেশি আর দরকার ছাড়া স্মার্টফোন এর ব্যবহার আস্তে আস্তে সকলেই কমিয়ে আনুন। সময় থাকতেই স্মার্টফোনের খারাপ দিক সম্পর্কে নিজে আরো বেশি সচেতন থাকুন। আশেপাশের সকলকেও সচেতন করুন।

স্মার্টফোন সর্ম্পকে আরও জানতেঃ

আমাদের অন্যান্য আর্টিকেল:

বাংলাদেশের খবর সাইটটি ব্যবহার করায় আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে “যোগাযোগ” আর্টিকেলটি দেখুন, যোগাযোগের বিস্তারিত দেয়া আছে।