হাফ ভাড়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন এবং রামপুরা ব্রিজে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আন্দোলনের মুখে গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবি মেনে নিল বাস মালিক সমিতি। আগামীকাল বুধবার (১ ডিসেম্বর) থেকে রাজধানীতে শিক্ষার্থীরা কিছু শর্তের ভিত্তিতে অর্ধেক ভাড়ায় চলাচল করতে পারবে।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ এই ঘোষণা দেন।

এর আগে সকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, শিক্ষার্থীদের ভাড়া অর্ধেক করার ব্যাপারে বাস মালিক সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজই এ ব্যাপারে ঘোষণা আসবে।

হাফ-ভাড়া.jpg image_The Business Standard
হাফ-ভাড়া

খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের অর্ধেক বাস ভাড়া আগামীকাল বুধবার থেকে কার্যকর হবে। এটা শুধু রাজধানীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ঢাকার বাইরে এটা প্রযোজ্য হবে না। সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা হাফ ভাড়া দিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে তাদের সঙ্গে ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র থাকতে হবে। এছাড়া সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনে এই ভাড়া কার্যকর হবে না।

ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ার পর বাসে হাফ ভাড়া কার্যকরের দাবিতে বেশ কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। ইতিমধ্যে সরকারি বিআরটিসি বাসে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়া নেওয়া হবে বলে ঘোষণা এসেছে। তবে সব ধরনের বেসরকারি বাসের ভাড়া অর্ধেক নেওয়ার ঘোষণা না আসার কারনে আন্দোলন চালিয়েই যাচ্ছিল শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ পাস বাস্তবায়নে পরিবহন নেতাদের সঙ্গে দুইবার বৈঠক করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই এসব বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠকে উল্টো ভর্তুকি দাবি করেন বাসমালিকরা। সে সময় মালিক সমিতির নেতা এনায়েত উল্যাহ বলেছিলেন, ঢাকায় নগর পরিবহনের যে বাসগুলো চলে, তার মালিকদের ৮০ শতাংশই গরিব। তাই বাস মালিকদের ক্ষতিপূরণ বা ভর্তুকির বিষয়টি নির্ধারণ করেই হাফ ভাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আরো জানুন:

বাংলাদেশের খবর: মূল্যবৃদ্ধি যৌক্তিক বলেছেন অর্থমন্ত্রী এবং বন্ধ হচ্ছে সিটিং সার্ভিস

 

রামপুরা ব্রিজ অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী মাঈনুদ্দিন নিহতের প্রতিবাদে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভে ওই এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভের জেরে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সোমবার রাতে রামপুরায় রাস্তা পার হওয়ার সময় দুটি বাসের প্রতিযোগিতায় চাপা পড়ে নিহত হয় মাঈনুদ্দিন। এ ঘটনার জেরে রাতেই বেশ কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। স্কুলের খাতায় মাঈনুদ্দিনের নাম মঈন ইসলাম। রামপুরার একরামুন্নেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাণিজ্য শাখা থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে। পড়াশোনা শেষ করে হতে চেয়েছিল প্রশাসনের বড় কর্মকর্তা।

রামপুরা-ব্রিজে-শিক্ষার্থীদের-বিক্ষোভ.jpg রামপুরা-ব্রিজে-শিক্ষার্থীদের-বিক্ষোভ.jpg image_the business standard
রামপুরা-ব্রিজে-শিক্ষার্থীদের-বিক্ষোভ

সোমবার রাতে মাইনুদ্দিনের বাড়িতে তার বড় ভাইয়ের শ্যালক বাদশা মিয়া বলেন, মাঈনুদ্দিনের বাবা চায়ের দোকান চালান বাড়ির পাশে তিতাস রোড়েই। রাত ৯টা পর্যন্ত বাবার চায়ের দোকানেই কাজে ব্যস্ত ছিল সে। এরপর দোকান হতে বেরিয়ে বন্ধুর বাড়িতে রামপুরা বাজার এলাকায় যান তিনি। ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় নিহত হয়।

এরপর পথচারীরা মাঈনদ্দিনের ফোন থেকে পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে জানায়। প্রথমে মঈনুদ্দিনের দুলাভাই ঘটনাস্থলে গিয়ে মঈনুদ্দিনের ছিন্নভিন্ন শরীর রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর পরিবারের অন্যান্য লোকজন সেখানে পৌঁছায়।

দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মাঈনুদ্দিন সবার ছোট। বড় ভাই মনির ছোট একটি চাকরি করেন। মূলত সংসার চলে বাবার টিনের ছোট্ট চায়ের দোকানের আয় থেকেই। বড় ভাই ভালো কিছু না করার কারণে এ সংসারের হাল ধরতে চেয়েছিল সে। তাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। প্রায় ১৫ বছর রামপুরা এলাকায় বসবাস করছে তার পরিবার। স্কুল জীবন ও বাবার চায়ের দোকানে সহযোগিতা করার কারণে ওই এলাকার মধ্যে বেশ পরিচিত ছিল মাঈনুদ্দিন। তিনি মেধাবী ছাত্রও ছিল।এদিকে মাঈনুদ্দিন নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে রামপুরা বাজার এলাকায় বেশ কয়েকটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। মধ্যরাত পর্যন্ত এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে দোষীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।এ ঘটনা ঘটার ফলে ঘাতক বাসের চালকটিকে আটক করা হয়েছে বলে তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়েছেন পুলিশ। বাসে আগুন দেওয়া ও ভাঙচুরের বিষয়ে মাঈনুদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা জানান, সহিংস কোনো ঘটনার জন্য পরিবারের কেউ দায়ী নয়। খবর পেয়ে যখন পরিবারের লোকজন মরদেহের কাছে পৌঁছায়, তার আগেই ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনগণ।

[হাফ ভাড়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন এবং রামপুরা ব্রিজে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ]

 

অন্যান্য খবর সম্পর্কে জানুন:

প্রথম আলো: জলবায়ু সম্মেলনে কী পেল বাংলাদেশ

 

বাংলাদেশের খবর সাইটটি ব্যবহার করায় আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে “যোগাযোগ” আর্টিকেলটি দেখুন, যোগাযোগের বিস্তারিত দেয়া আছে।