Category Archives: সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ এই ক্যাটাগরিতে পাওয়া যাবে।

রাজনীতির শব্দকোষ [ Glossary of Politics ]

একটি রাজনীতির শব্দকোষ [ Glossary of Politics ] উন্নয়ন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মী, লেখক সহ সকলের সুবিধার্থে এই শব্দকোষটি কাজে লাগবে আশা করা যায়। যদি আপনার কোন প্রত্যাশিত শব্দ আপনি খুঁজে না পা, তবে আমাদের জানিয়ে বাধিত করবেন। আমরা খুব দ্রুত সেই শব্দটি যোগ করবো। এই আর্টিকেলটির উন্নয়ন কাজ চলমান। রাজনীতি বিষয়ক নতুন নতুন শব্দ ও তার অর্থ জানতে নিয়মিত ভিজিট করুন।রাজনীতির শব্দকোষ

রাজনীতির শব্দকোষ

অ দিয়ে সকল রাজনৈতিক শব্দ

অক্ষশক্তি [ Axis Power ]

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় গড়ে ওঠা জার্মানি, ইতালি ও জাপানের ঐক্যজোট। ১৯৩৬ সালে ইতালি আবিসিনিয়া আক্রমণ করলে স্পেন ও জার্মানি ব্যতীত ইউরোপের অন্যান্য সকল রাষ্ট্রই ইতালির বিরোধিতা করে। এই সময় থেকেই ইতালি ও জার্মানির ঐক্য ও সহযোগিতা আরম্ভ হয়। এই ঐক্য ‘রোম-বার্লিন অক্ষশক্তি’ নামে অভিহিত হয়। পরবর্তীকালে জাপানও এই জোটে যোগদান করে।

অছি পরিষদ [ Trusteeship Council ]

আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার বঞ্চিত যে সমস্ত জাতি বা অঞ্চলের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব জাতিসংঘের ওপর অর্পিত, সে-সমস্ত জাতি বা অঞ্চলের দেশের রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং যাতে তারা যথাসম্ভব সত্বরতার সঙ্গে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে, তার জন্য কাজ করাই অছি পরিষদের দায়িত্ব। অছি পরিষদ জাতিসংঘের । গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ।

অজ্ঞেয়তাবাদ :

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবকিছুকে একদিন জানা যেতে পারে, এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে অস্বীকার করার নামই হল অজ্ঞেয়তাবাদ (Agnosticism) | অজ্ঞেয়তাবাদীদের মতে বহু কিছুই চিরকাল মানুষের অজ্ঞাত থেকে যাবে। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী টমাস হেনরি হাক্সলি (১৮২৫-৯৫) ‘অজ্ঞেয়তাবাদ’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করলেও গ্রিক দর্শনে এই মতবাদের সন্ধান মেলে।

গ্রিক দার্শনিক পাইরো (খ্রিস্টপূর্ব ৩৬৫-২৭৫) বলেন যে, ‘বস্তুত, কিছুই জানার আমাদের সাধ্য নেই। সুতরাং বস্তুজগৎ নিয়ে ভেবে কোনো লাভ নেই। খামোকা অশান্তি। তবে অজ্ঞেয়তাবাদকে একটি দার্শনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর প্রথম প্রয়াস পান ডেভিড হিউম (১৭১১-৭৬) ও ইমান্যুয়েল কান্ট (১৭২৪-১৮০৪)। কান্ট বলেন যে, যুক্তিমাত্রই দ্বন্দ্ব বা বিরোধিতার দ্বারা বিভক্ত।

এই প্রহেলিকার কবল থেকে মুক্তি পেতে হলে বুঝতে হবে যে, ‘নিজ সত্তায় বস্তু (Thing in itself)’ এবং ‘দৃশ্য (Phenomenon)’ এক নয়; নিজ সত্তায় বস্তু’ বস্তুত অজ্ঞেয়। এভাবে অজ্ঞেয়তাবাদ বিজ্ঞানকে সীমাবদ্ধ করে দেওয়ার প্রয়াস পায়; যুক্তিবাদকে বর্জন করতে শেখায় এবং বস্তুর, বিশেষত সমাজের বস্তুগত নিয়মসমূহ থেকে মানুষের দৃষ্টি ও চেতনাকে ফিরিয়ে নেয়।

অতিমানব [ Superman ]

জার্মান দার্শনিক নিতসেই প্রথম ‘অতিমানব’-এর কল্পনা করেন। তাঁর মতে মানুষ নৈতিক শক্তি ও প্রাণশক্তির চরম বিকাশসাধনের মাধ্যমে অতিমানবে পরিণত হতে পারে। আত্মশক্তি বৃদ্ধি ও অগ্রগতিই হল মানুষের অতিমানব হওয়ার সাধনার পদ্ধতি ও লক্ষ্য। অনেকের মতে, এই মতবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েই ইতালিতে ফ্যাসিবাদী বেনিটো মুসোলিনি এবং জার্মানিতে হিটলারের অভ্যুদয় ঘটে। অবশ্য একথা স্বীকার করতেই হবে যে, নিতসের দর্শনের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ছিল মানুষের চূড়ান্ত ও কল্যাণকর গঠন ও বিকাশ। ধ্বংসাত্মক বা অকল্যাণকর অতিমানব সৃষ্টি তাঁর চিন্তায় ছিল। না।

অতিশুদ্ধচারিতা:

অর্থাৎ কোন ব্যক্তি বা গোষ্টির মধ্যে শতকরা একশো ভাগ সৎ গুণাবলি দাবি করার প্রবণতা। অনেকে মনে করেন যে, সমাজ পরিবর্তন বা কোন বৃহৎ কাজের নেতৃত্বদানকারী নেতা বা কর্মীদের মধ্যে দোষ-ত্রুটির লেশমাত্রও থাকা উচিৎ নয়। অতিশুদ্ধাচারিতার নেতিবাচক হল এই যে, দোষ-গুণ-সমন্বিত মানবসমাজে ১০০% শুদ্ধ মানুষ পাওয়া কার্যত প্রায় অসম্ভব।

দোষ-গুণের ব্যাপারটা অনেকটা আপেক্ষিকও বৈকী। ফলে, অতিশুদ্ধাচারীরা বৃহৎ কোনো সংগঠন গড়ে তুলতে প্রায়শই অসামর্থ্য হয়। যার পরিনামে তারা হতাশগ্রস্থ হয়ে পড়েন। অতিশুদ্ধচারিতার সমালোচকরা মনে করেন যে, সর্বগুণান্বিত মানুষ নিঃসন্দেহে শ্রেষ্ঠ; কিন্তু সেরূপ পাওয়া না গেলে, যাদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ভালো বা মহৎ কাজটি সম্পাদনের অনুকুল গুণাবলির ভাগ বেশি, তাঁদেরকেই নেতা কর্মী হিসেবে করা যায়।  এ ধরণের কর্মীদের ছোটখাটো দোষগুলোকে বড় করে না দেখে, সেগুলোকে ধীরে ধীরে সংশোধন চেষ্টা করাই বরং বিধেয়।

অদৃশ্য রফতানি [ Invisible Export]:

একটি দেশ সরাসরি পণ্য রফতানির মাধ্যমে যে-আয় করে, তা হল প্রত্যক্ষ রফতানিলব্ধ আয়। কিন্তু ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম, বৈদেশিক ঋণের সুদ, বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগ বাবদ আয়, ব্যাংক, শিপিং সার্ভিস ইত্যাদি বাবদ আয়, ট্যুরিজম বাবদ আয়ই প্রভৃতি পণ্য রফতানি-বহুর্ভূত আয়ই হল অদৃশ্য রফতানি বাবদ আয়।

অদ্বৈতবাদ [ Monism ]:

একটি পদার্থ (element) বা একটি সচেতন মূল উৎস থেকেই যাবতীয় বস্তুর উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে—এই মতবাদ।

অধিবিদ্যা [ Metaphysics ]:

এই দার্শনিক মতবাদ অনুযায়ী বস্তু ও বস্তু সম্পর্কে ধারণা পরস্পরবিচ্ছিন্ন ব্যাপার; ধারণা ভাব আসে আগে, বস্তু আসে পরে এবং ভাবের সঙ্গে বস্তু সম্পর্কহীন। Metaphysics শব্দটির শাব্দিক অর্থ ‘বস্তু-জগতের ঊর্ধ্বে’, অর্থাৎ বাস্তব ঊর্ধ্বের জগৎ সম্পর্কে আলোচনা। অধিবিদ্যা কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। খ্রিস্টপূর্ব সালে অ্যারিস্টটলের রচনায় দেহাতীত বস্তু অর্থাৎ যা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের ঊর্ধ্বে, তা বোঝানোর প্রথম শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

অনাক্রমণ চুক্তি [ Non-aggression Pact ]:

দুই বা ততোধিক দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ না বরং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি করবে—এই মর্মে সম্পাদিত চুক্তি।

অনাস্থা প্রস্তাব [Vote of No-confidence]:

সাধারণত কোন আইন পরিষদের সদস্যরা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে যে-প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাকেই বলে অনাস্থা প্রস্তাব। এই প্রস্তাবের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ বা দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পড়লে সরকারের পতন ঘটাই নিয়ম। কোন কোন দেশে রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা পাশ করতে হলে শুধুমাত্র সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হলেই চলে না, দুই-তৃতীয়াংশ বা তিন চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন সংগঠনেও কমিটি বা কোন কর্মকর্তা-বিশেষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনের ব্যবস্থা থাকতে দেখা যায়।

অনুদান [ Grant-in-Aid]:

কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের রাজস্ব-ঘাটতি পূরণের উদ্দেশ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা সরকারের তরফ থেকে যে-সাহায্য প্রদান করা হয় তাকেই বলে অনুদান। অনুরূপভাবে, ধনী দেশসমূহ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থ-সংস্থাসমূহ অনুন্নত বিশ্বের সদস্যদেরও অনুদান দিয়ে থাকে।

অনুন্নত বিশ্ব :

এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার যেসব দেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দিক থেকে বিশ্বের সাধারণ অগ্রগতির স্তরের তুলনায় পিছিয়ে আছে, সেসব দেশকেই সমন্বিতভাবে অনুন্নত বিশ্ব বলে অভিহিত করা হয়। উৎপাদনযন্ত্র ও প্রক্রিয়ার বিচারে এসব দেশ পশ্চাৎপদ এবং শোষণ, দারিদ্র্য ও পরনির্ভরতা এসব দেশের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। এসব দেশের প্রায় সবকটিই দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় পর্যন্ত কোনো-না-কোনো বিদেশী শক্তির উপনিবেশ ছিল।

সামাজিক-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও এসব দেশের অপর প্রধান বৈশিষ্ট্য। এসব দেশের সাধারণ মানুষের দারিদ্র্য ক্রমবর্ধমান। বস্তুত, পৃথিবীর উন্নত দেশসমূহ তাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল সংগ্রহ এবং শিল্পোৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের বাজার হিসেবে ব্যবহার করার জন্যে এসব দেশের রাজনৈতিক-সামাজিক অনিশ্চয়তা, প্রযুক্তিগত পশ্চাৎপদতা, শোষণ, দারিদ্র্য ও পরনির্ভরতাকে বিভিন্ন কৌশলে টিকিয়ে রাখার প্রয়াস পায়।

এসব দেশকে কেউ স্বল্পোন্নত দেশ (Less Developed Countries বা LDC. কেউবা উন্নয়নশীল দেশ (Developing Countries) নামে অভিহিত করেন। এই অনুন্নত দেশসমূহ ‘তৃতীয় বিশ্ব’-এরও অন্তর্গত বটে, কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের সব দেশের উন্নয়নের পর্যায় একইরূপ নয়।

যেমন : তৈলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ, ভারত, চীন, কোরিয়া ইত্যাদিকেও তৃতীয় বিশ্বের দেশ বলে বিবেচনা করা হলেও, কার্যত, এসব দেশের অনেকেই সম্পদশালী এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকেও অন্যান্য দরিদ্র-অনুন্নত দেশসমূহের তুলনায় অনেক অগ্রসর। তাই অনুন্নত দেশসমূহ এবং তৃতীয় বিশ্ব হুবহু সমার্থক ব্যাপার নয়।

অনুপ্রবেশ [ Infiltration ] :

কোনো দেশ বা সংগঠনের অভ্যন্তরে শত্রুপক্ষ অথবা ভিন্ন দেশ বা সংগঠনের ব্যক্তি বা চরদের গোপনভাবে ঢুকে পড়াকেই বলে অনুপ্রবেশ। অন্তর্ভুক্তিকরণ বা গ্রাস Annexation. অন্য রাষ্ট্রের মালিকানাধীন বা কোনো রাষ্ট্রেরই মালিকানাধীন নয় এমন এলাকা জবরদখল করে নিজ এলাকাভুক্ত করে নেয়ার নামই গ্রাস।

এরূপ গ্রাস বা অন্তর্ভুক্তির সময় মূল মালিক-রাষ্ট্রের কোনো অনুমতি গ্রহণ করা হয় না। এরূপ গ্রাসের বৈশিষ্ট্য হল এই যে, গ্রাসকৃত এলাকাকে গ্রাসকারী রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করা হয়। গ্রাস যুদ্ধকালীন সামরিক দখল বা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানাধীন অথবা অনুরূপ অন্তর্বর্তীকালীন বা মধ্যবর্তী কোনো অবস্থা নয় ।

অপরাধী প্রত্যার্পণ [ Extradition ] :

এর অর্থ হল কোনো ব্যক্তি যদি কোনো রাষ্ট্রে অপরাধ করে অন্য রাষ্ট্রে পালিয়ে যায়, তা হলে দ্বিতীয় রাষ্ট্র কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রথম রাষ্ট্রের হাতে হস্তান্তর। এ ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট আন্তর্জাতিক আইন না থাকায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে প্রত্যার্পণ চুক্তি সম্পাদিত হয়। এসব চুক্তি অনুযায়ী রাজনৈতিক অপরাধী ছাড়াও অন্যান্য মারাত্মক অপরাধীদের প্রত্যার্পণের রীতি প্রচলিত আছে।

অপারেশন ঈগল [ Operation Eagle ] :

১৯৪০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এ-যাবৎকালীন ইতিহাসের সর্বাধিকসংখ্যক বিমানের বহর নিয়ে হিটলারের নাৎসিবাহিনী ইংল্যান্ডের ওপর আক্রমণ চালায় এবং বেপরোয়া বোমাবর্ষণ করে। এই বিমান হামলাই ইতিহাসে অপারেশন ঈগল নামে খ্যাত। শোনা যায়, হিটলারের বিমান বাহিনী (লেফট্ ভাফে)-র প্রধান মার্শাল গোয়েরিং স্বয়ং এই অভিযান পরিচালনা করেন।

আরও শোনা যায় যে, হিটলার ১৯৪০ সালের ক্রিসমাস (২৫ ডিসেম্বর) দিবসের বৈকালিক চা বাকিংহাম প্রাসাদেই গ্রহণ করবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু কয়েক হাজার বিমানের এই আক্রমণ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, হিটলারের স্বপ্ন ভেঙে যায় এবং ফলে উইনস্টন চার্চিল ব্রিটিশ জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে মূর্ত হয়ে। ওঠেন।

অপারেশন জোনাথন [ Operation Jonathon] :

সত্তরের দশকে তেলআবিব থেকে প্যারিসগামী এয়ার ফ্রান্সের একখানি বিমানকে পি. এল. ও. এবং পশ্চিম জার্মানির বাদের-মেইনহফ-এর সন্ত্রাসবাদীরা ২৫৬ জন যাত্রীসহ উগান্ডার এন্টেবি বিমানবন্দরে অবতরণ করায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলের জেনারেল হেড কোয়ার্টার্স ইউনিটের কমান্ডোবাহিনী অতর্কিত পালটা হামলা চালিয়ে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে বিমানদস্যুদের হত্যা করে এবং যাত্রী ও বিমানকে মুক্ত করে ফেরত নিয়ে আসে। ছিনতাই মোকাবেলার ইতিহাসে এই বিস্ময়কর ঘটনাই ‘অপারেশন জোনাথন’ নামে খ্যাত।

অপারেশন জ্যাকপট [ Operation Jackpot ] :

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা অপারেশনসমূহের সম্মিলিত সাঙ্কেতিক নাম ছিল অপারেশন জ্যাকপট। ভারতীয় সমরবিদরাই এই নামকরণ করেছিলেন। এমনিতে জ্যাকপট শব্দটির অর্থ হচ্ছে এমন পাত্রবিশেষ যার মধ্যে সৌভাগ্য সঞ্চিত হতে থাকে।

অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম [ Operation Desert Storm ] :

১৯৯১ সালে ইরাক আকস্মিকভাবে কুয়েত দখল করে নিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কুয়েত থেকে ইরাকি বাহিনীকে হটানোর জন্যে যে-সামরিক অভিযান শুরু করে, সেটারই কোড নাম ছিল অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম বা অপারশন মরুঝড়। এই অপারেশনের নামে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন কর্তৃত্বাধীনে বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এবং ইরাক-কুয়েত যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও এসব বাহিনী বহাল রাখা হয়।

অপারেশন বারবারোসা [ Operation Barbarossa ] :

সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে হিটলার যে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিলেন, তারই সাঙ্কেতিক নাম ছিল। অপারেশন বারবারোসা। সম্ভবত এটাই ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও বৃহত্তম স্থলযুদ্ধ ।

অপারেশন ব্লু স্টার [ Operation Blue Star ]:

১৯৪৭ সাল থেকেই ভারতীয় পাঞ্জাবের শিখরা স্বায়ত্তশাসনের দাবি করে আসছে। ১৯৭৩ সালের পর শিখদের চরমপন্থি নেতা জর্নাল সিং ভিদ্রেনওয়ালের নেতৃত্বে শিখরা ‘স্বাধীন খালিস্তান’-এর জন্যে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৮২ সালে ভিদ্রেনওয়ালে তাঁর সমর্থকদের নিয়ে শিখদের প্রধান ধর্মপীঠ অমৃতসরস্থ স্বর্ণমন্দিরে আশ্রয় নিয়ে স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে থাকেন।

১৯৮৪ সলের ৫-৭ জুন ভারতীয় সেনাবাহিনী স্বর্ণমন্দিরে অভিযান চালায় এবং প্রচও নৃশংসতার সাথে বিদ্রোহীদের দমন করে। শিখদের পবিত্র ‘আকাল তখত্’ রক্ষা করতে গিয়ে অসংখ্য শিখ প্রাণ হারায়। স্বয়ং জর্নেল সিং ভিদ্রেনওয়ালেকে হত্যা করা হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই অভিযানেরই কোড নাম ছিল অপারেশন ব্লু স্টার। ভিদ্রেনওয়ালের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে শিখরা ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকেই গুলি করে হত্যা করে।

১৯৮৫ সালের ২৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সাথে মধ্যপন্থি শিখ নেতা সন্ত হরচাঁদ সিং লাঙ্গোয়ালের এক চুক্তি হয়। চুক্তির ২৭ দিন পর (২০.৮.৮৫) লাঙ্গোয়াল আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। ফলে অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে এবং স্বর্ণমন্দিরে চরমপন্থিরা পুনরায় ঘাঁটি গাড়ে। এমতাবস্থায় ৯-১৮ মে, ১৯৮৮ ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনী পুনরায় স্বর্ণমন্দিরে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণমন্দিরকে মুক্ত করে। তবে শিখরা স্বাধীন খালিস্তানের দাবি কখনোই পরিত্যাগ করেনি।

অবচেতন [ Sub-Conscious]:

মানসিক অবস্থাকে সাধারণত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা : চেতন, অচেতন ও অবচেতন। চেতনতার আওতাভুক্ত হল সেসব বিষয়, চিন্তা ও উপলব্ধি, যেগুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সাধারণভাবে অবগত এবং যেগুলোর ভিত্তিতে উক্ত ব্যক্তির সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমাদি সাধারণভাবে পরিচালিত হয়। অচেতনতার আওতাভুক্ত হল সে-সমস্ত বিষয়, চিন্তা ও উপলব্ধি, যেগুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অবগত নয় এবং তার সিদ্ধান্ত ও কার্যে যেগুলোর কোনো দৃশ্যমান প্রভাব নেই।

আর অবচেতনতার আওতাভুক্ত হল সে-সমস্ত বিষয়, চিন্তা ও উপলব্ধি, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মস্তিষ্ক-প্রক্রিয়ায় সঞ্চিত আছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেগুলো সম্পর্কে ঐ সময় পর্যন্ত সাধারণভাবে অবগত নয়। অবচেতন বিষয়, চিন্তা ও উপলব্ধি, বিশেষ অবস্থায় চেতনতার পর্যায়ে চলে আসতে পারে। আর অবচেতন প্রেক্ষিতসমূহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অজান্তেই তার সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে। এমতাবস্থায়, তার ঘোষিত বক্তব্য ও কার্যক্রমের তুলনায়, তার প্রকৃত কার্যক্রমকে অনেক সময়ই স্ববিরোধী মনে হতে পারে।

অবতারবাদ :

অনেকে মনে করেন যে, ভগবান বা সৃষ্টিকর্তা মানবকুলকে সঠিক পথে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যে মাঝে মাঝে মানুষ বা অপর কোনো জাগতিক রূপ নিয়ে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন যেমন : হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন যে, শ্রীরামচন্দ্র, শ্রীকৃষ্ণ প্রমুখ আসলে মনুষ্যরূপে স্বয়ং ভগবান। খ্রিস্টানরাও যীশুর অবতারত্বে (Incarnation) বিশ্বাস করেন। মানুষ বা জাগতিক কোনো প্রাণী বা বস্তুকে ভগবানরূপে কিংবা ভগবানের ন্যায় সকল দোষ-ত্রুটি-ভুল-ভ্রান্তির ঊর্ধ্বে এবং সর্বজ্ঞ ও মহাক্ষমতাবান বলে বিবেচনা করাই হল অবতারবাদ।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও অনেক সময় দেখা যায় যে, কোনো নেতাবিশেষকে তাঁর অনুসারীরা অবতারের মতোই দোষ-ত্রুটি-ভুল-ভ্রান্তির ঊর্ধ্বে বলে বিবেচনা করেন, তাঁর চিন্তা ও বক্তব্যকে অভ্রান্ত বলে জ্ঞান করেন এবং তাঁকে ও তাঁর আজ্ঞাকে অন্ধভাবে অনুসরণ করেন, ঠিক যেমনটি করা হয় অবতারের ক্ষেত্রে। এরূপ ক্ষেত্রে, নেতা সমষ্টির প্রতিনিধি না হয়ে, সমষ্টির ঊর্ধ্বে এক একক পরিচালক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। অনেক সময় নেতৃত্বের ব্যক্তিকরণের নামে এরূপ অবতাররূপী নেতৃত্ব চেপে বসে।

প্রথমত, এরূপ অযৌক্তিক নেতৃত্ব প্রায়শই জাতির বিপর্যয়ের কারণ হয়। দ্বিতীয়ত, এরূপ নেতৃত্ব কোনো সময়ে কোনো কারণে অপসৃত হয়ে গেলে, বিকল্প নেতৃত্বের অভাবে গোটা সাংগঠনিক বা রাষ্ট্রীয় কাঠামোও ধসে পড়তে পারে। অনুন্নত বিশ্বের রাজনীতিতে এই প্রবণতা প্রায়শই লক্ষ করা যায়।

অবমূল্যায়ন, মুদ্রার [ Devaluation ]:

এটা হল কোনো দেশের মুদ্রার মূল্য অন্য কোনো দেশের মুদ্রা বা মুদ্রা-ধাতু (স্বর্ণ, রৌপ্য ইত্যাদি)-এর তুলনায় হ্রাস করা। কোনো দেশে লেনদেনের ভারসাম্যের ক্ষেত্রে বিরূপ অবস্থা দেখা দিলে, রফতানিকে উৎসাহিত করা এবং আমদানিকে নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অবমূল্যায়নের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশের পণ্য বিদেশীরা কম দামে আমদানি করতে পারে; অপরদিকে বিদেশ থেকে উক্ত দেশে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বেশি পড়ে।

বলাবাহুল্য, অবমূল্যায়ন সমস্যার কোনো স্বাভাবিক সমাধান নয়। বারংবার অবমূল্যায়ন করা হলে, বিদেশের কাছে অবমূল্যায়নকারী দেশের মুদ্রা সম্পর্কে আস্থাহানি ঘটে। তা ছাড়া অবমূল্যায়নের ফলে অভ্যন্তরীণ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায় এবং আনুপাতিক হারে মানুষের আয় না বাড়লে মানুষের কষ্টও বৃদ্ধি পায়। শুধুমাত্র লেনদেনের ভারসাম্যের ক্ষেত্রে মৌলিক ব্যত্যয় দেখা দিলেই মুদ্রার অবমূল্যায়ন করা যেতে পারে।

অবরোধ [ Blockade ] :

সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ইত্যাদির সাহায্যে শত্রুপক্ষ বা শত্রুদেশকে এমনভাবে ঘিরে রাখা যাতে ঐ শত্রুপক্ষ বাইরের সাথে সংযোগ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয় এবং তাদের অস্ত্রশস্ত্র, রসদ, জ্বালানি ইত্যাদির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অবরোধের উদ্দেশ্য শত্রুকে দুর্বল ও দিশেহারা করে তোলা কিংবা নতিস্বীকারে বাধ্য করা।

অবস্থান ধর্মঘট :

এরূপ ধর্মঘটে শ্রমিকরা কারখানা বা কর্মস্থল ত্যাগ করে যাওয়ার বদলে সেখানেই অবস্থান করে। কর্মস্থল ত্যাগ করলে মালিক বা কর্তৃপক্ষ নতুন শ্রমিক নিয়োগ করে কারখানা চালাতে পারে, এই আশঙ্কাতেই শ্রমিকরা অবস্থান ধর্মঘটের কৌশল অবলম্বন করে। ১৯৩৪ সালে পোল্যান্ডের কয়লাখনির শ্রমিকেরা দাবিপূরণের উদ্দেশ্যে ধর্মঘট করে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত খনির মধ্যেই অবস্থান করে। এটাই ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম অবস্থান ধর্মঘট। পরবর্তীকালে অবস্থান ধর্মঘটের কৌশল সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

অবাধ অর্থনীতি [ Free Economy ] :

সমাজতান্ত্রিক বা রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির বিপরীতে পুঁজিবাদী অর্থনীতিকে বোঝানোর জন্যেই এই কথা প্রচলন করা হয়। অবাধ বা মুক্ত অর্থনীতিতে উৎপাদন ও বিপণনের ওপর মূলত রাষ্ট্রের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না; ক্রেতাসাধারণের গড় চাহিদাই উৎপাদনের রকম ও পরিমাণ নির্ধারণ করে। তবে, বাস্তবে বিশ্বের সকল রাষ্ট্রেরই উৎপাদন ও বিপণনের ওপর কিছু-না-কিছু নিয়ন্ত্রণ থাকেই এবং বিভিন্ন দেশে, এমনকি উন্নত পুঁজিবাদী দেশসমূহেও এখন রাষ্ট্র ক্রমশ অধিক থেকে অধিকতর হারে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করছে।

Economics, অর্থনীতি

জার্মানির সিলভিও গোসেল (১৮৬২-১৯৩০) প্রমুখ অবাধ অর্থনীতির প্রবক্তারা মনে করেন যে, অর্থনৈতিক বৈকল্যের চিকিৎসার প্রধান উপায় হল নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট হারে মুদ্রামান হ্রাস করা এবং এর ফলে সৃষ্ট ফাঁক পূরণের জন্যে নয়া মুদ্রা বাজারে ছাড়া। এই ব্যবস্থায় মুদ্রার সার্কুলেশন বেড়ে যাবে, কারণ জনসাধারণ চাইবে মুদ্রামান কমার আগেই তা দিয়ে কোনো-না-কোনো দ্রব্য কিনে ফেলতে। মুদ্রার এই গতিশীলতা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গতি সৃষ্টি করবে এবং ফলে কোনো অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা দেবে না।

অবাধ প্রতিযোগিতা :

তত্ত্বগতভাবে এমন একটা পরিস্থিতি, যে-পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও বণ্টনের ওপর সরকারের কোনোপ্রকার হস্তক্ষেপ থাকে না, বরং সরবরাহ ও চাহিদার শক্তিসমূহ এবং মূল্য প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাধীন গতিতে চলতে পারে এবং পারস্পরিক প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে গুণগত ও পরিমাণগত বিকাশলাভ করে।

অবাধ বাণিজ্য [ Free Trade ] :

বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিনা বাধায় ও বিনা শুল্কে বাণিজ্য। সপ্তদশ অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপে বাণিজ্যনীতির উদ্ভব ঘটে। তখন ইউরোপীয় দেশসমূহে ব্যাবসা-বাণিজ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার নীতিই প্রচলিত ছিল। এর বিপরীতেই দেখা দেয় অবাধ বাণিজ্যনীতি। ইংল্যান্ড প্রভৃতি যেসব দেশে পণ্য উ ৎপাদনব্যবস্থা বিশেষ লাভ করে, সেসব দেশের উদ্যোগেই অবাধ বাণিজ্যের নীতি উৎসাহিত কারণ ঐসব দেশে উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ তখন দেশের বাজারে বিক্রি প্রয়োজীয়তা দেয়।

এই প্রয়োজন থেকেই অবাধ বাণিজ্যনীতির উদ্ভব এবং ইংল্যান্ড তার নেতৃত্ব গ্রহণ করে। শতাব্দীর অষ্টম দশক পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যনীতি বিশেষ প্রাধান্য লাভ করেছিল। সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিসহ পৃথিবীর বিভিন্ন বিপুল শিল্পোন্নয়ন প্রয়াস কিন্তু উন্নততর কল-কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের অসমান প্রতিযোগিতায় কুলিয়ে উঠতে না পারায় দুর্বলতর দেশসমূহের শিল্পোন্নয়ন প্রায়শই বাধাপ্রাপ্ত হতে থাকে।

সুতরাং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি রাষ্ট্র বিদেশী পণ্যের ওপর উচ্চহারে আমদানি শুল্ক ধার্য করে দেশের রাখার মহাযুদ্ধের পর উচ্চহারে শুল্ক বসিয়ে অসমান দেশের শিল্পকে রক্ষা প্রয়াস পেয়ে আসছে।

অভিজাততন্ত্র:

যে রাস্ট্রিয় ব্যবস্থায় শুধুমাত্র অভিজাত শ্রেণীরই কর্তৃত্ব বহাল সেই ব্যবস্থাকেই বলে অভিজাততন্ত্র। প্রাচীন গ্রীসে দাস-মালিকেরা মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫ হওয়া সত্ত্বেও, শুধুমাত্র তারাই ছিল ভোটের অধিকারী এবং প্রতিনিধিত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার একমাত্র হর্তাকর্তা।

জনসংখ্যার শতকরা ৯৫ জন অর্থাৎ দাসদের নাগরিক অধিকার দান দূরের কথা, তাদের মানুষ বলেই গণ্য করা হত না। প্রাচীন ভারতেও রাষ্ট্র পরিচালিত হত ক্ষত্রিয় ব্রাহ্মণদের দ্বারা। বিপুল সংখ্যক বৈশ্য ও শুদ্রদের রাস্ট্রীয় ব্যাপারে কোন এখতিয়ার ছিলো না।

অভিব্যক্তিবাদ [ Expressionism ] :

বিংশ শতাব্দীর প্রথম শিল্প ও সাহিত্যে এই ধারার উদ্ভব ঘটে। জার্মানির এফ. অস্ট্রিয়ার কোকোচকা, রাশিয়ার শ্যাগাল প্রমুখ ছিলেন প্রথম প্রবক্তা। অঙ্কনশিল্পে ভ্যানগগ, সাহিত্যে স্ট্রিন্ডবার্গ, ভাস্কর্যে ল্যামব্রাক, চলচ্চিত্রে আর. ওয়েইন, সঙ্গীতে শোনবার্গ প্রমুখ অভিব্যক্তিবাদের অনুশীলন করেন।

অভিব্যক্তিবাদীদের দর্শন ‘আমাদের হৃদয়ই একমাত্র প্রতিবিম্ব বাকি সব নিয়ম-কানুন অনর্থক, অগ্রহনীয়’। অভিব্যক্তিবাদীদের মতে যাই-ই ঘটুক-না কেন, যা সৃষ্টি করেছেন যেভাবে করেছেন সেটাই একমাত্র সত্য। এই বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে অভিব্যক্তিবাদীরা এমন বস্তু সৃষ্টি করেন, যা প্রায়শই বাস্তবের সঙ্গে সম্পর্কহীন অথবা বাস্তবের পরিবর্তিত বা অতিরঞ্জিত রুপ।

 

আরও পড়ুন:

চরমপত্র, মে মাস ১৯৭১ – এম আর আখতার মুকুল

চরমপত্র হলো এম আর আখতার মুকুল রচিত ও উপস্থাপিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। চরমপত্র একটি অনুষ্ঠান যা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু হওয়ার দিন ২৫শে মার্চ থেকে শুরু করে ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার দিন পর্যন্ত প্রতিদিন প্রচারিত হয়েছে। চরমপত্র খ্যাত ব্যক্তি গেরিলা ১৯৭১ সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এম আর আক্তার মুকুল,পুরো নাম মুস্তাফা রওশন আখতার মুকুল, যা আমাদের অনেকেরই অজানা।

বাংলাদেশের বিভিন্ন পরিক্ষায় প্রশ্ন আসে – চরমপত্র কি বা চরমপত্র কী ? চরমপত্র অর্থ কি ? চরমপত্র বলতে বোঝায় ?  চরমপত্র কে পাঠ করতেন? চরমপত্রে কি পাঠ করা হতো? চরমপত্র খ্যাত ব্যক্তি কে? চরমপত্রের শেষ দুটি লাইন কোন ভাষায় ছিল? মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বেতারের ভূমিকা, চরমপত্র পাঠ, চরমপত্র ও জল্লাদের দরবার, ইত্যাদি। এই আর্টিকেল গুলো পড়লে সেসব উত্তরও পরিস্কার হয়ে যাবে। চরমপত্র ডাউনলোড করা দরকার হলে, চরমপত্র pdf download খোঁজা দরকার নেই, এখান থেকেই কপি করতে পারবেন।

চরমপত্র, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র

মে মাস ১৯৭১

চরমপত্র,  ২৫ মে ১৯৭১ :

ঢাকা শহর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ভয়ানক দুঃসংবাদ এসে পৌঁছেছে। গত ১৭ই এবং ১৮ই মে তারিখে খোদ ঢাকা শহরের ছ’জায়গায় হ্যান্ড গ্রেনেড ছোঁড়া হয়েছে। এসব জায়গার মধ্যে রয়েছে প্রাদেশিক সেক্রেটারিয়েট, স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান, হাবিব ব্যাংক, মর্নিং নিউজ অফিস, রেডিও পকিস্তান আর নিউ মার্কেট। পাকিস্তানী হানাদার সৈন্যদের দখলকৃত ঢাকা নগরীতে মুক্তিফৌজদের এধরনের গেরিলা তৎপরতা সামরিক জান্তার কাছে নিঃসন্দেহে এক ভয়ঙ্কর দুঃসংবাদ বৈকি।

তবে যে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ সদম্ভে ঘোষণা করেছিলেন যে, ঢাকা নগরী সম্পূর্ণ করায়ত্ত আর জীবন যাত্রা ‘স্বাভাবিক’ হয়ে গেছে। তা’হলে মুক্তিফৌজদের এধরনের কাজকর্ম সম্ভব হচ্ছে কিভাবে? এছাড়া ঢাকা শহরে এর মধ্যেই নাকি মুক্তিফৌজের পক্ষ থেকে প্রচারপত্র পর্যন্ত বিলি করা হয়েছে। এই না বলে প্রশাসন ব্যবস্থা আবার চালু করা হয়েছে?

তা’হলে পাকিস্তানী জেনারেলদের নাকের ডগায় কীভাবে মুক্তিফৌজওয়ালারা প্রচারপত্র বিলি করতে পারে? আপনাদের ‘অশান্তি কমিটি’-মাফ করবেন, তথাকথিত ‘শান্তি কমিটির’ তথাকথিত নেতৃবৃন্দ করে কি? এদের ঘেটি ধরে active করতে পারেন না? জনসাধারণের উপর নাকি এদের দারুণ প্রভাব? এদের অংগুলি হেলনে নাকি বাংলাদেশ ওঠাবসা করছে!

না, না, না ও ব্যাপারে আপনারা কিস্সু চিন্তা করবেন না। আপনারা ভুল করে একটা সাধারণ নির্বাচন নিজেদের তত্ত্বাবধানে করিয়েছিলেন। আর সেই নির্বাচনে আপনাদের পৌ-ধরা নেতারা সব বাঙালিদের ‘বিশ্বাস ঘাতকতার জন্যে হেরে গেছে। বাংলাদেশের ভোটাররা সব মহাপাজী-একেবারে পাজীর পা-ঝাড়া। না হলে কক্সবাজারের ফরিদ আহমেদ, সিলেটের মাহমুদ আলী, চট্টগ্রামের ফ, কা, চৌধুরী, ঢাকার খাজা খয়েরউদ্দিন, মোহাম্মদপুরের গোলাম আজম আর পাকিস্তান অবজার্ভার হাউসের মাহবুবুল হকের মতো নেতারা নির্বাচনে হেরে যায়?

আর নির্বাচনে এরা হারলেই বা কি আসে যায়- এরা তো এক একজন বিরাট দেশপ্রেমিক। আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধররা এদের নাম চমৎকারভাবে মীরজাফরের সঙ্গে পড়ে মুখস্থ রাখবে- তাই না? যাক্ যা বলছিলাম। ব্রাদার মিঠা খান, সরি জেনারেল মিঠা খান- একেই তো

এম আর আখতার মুকুল

দু’মাসের যুদ্ধে তোমার প্রায় হাজার কয়েক সৈন্য মারা গেছে, তার উপরে আবার

বাংলাদেশ দখলের যুদ্ধেরও সমাপ্তি ঘটাতে পারোনি। এবার খোদ শহরেই মুক্তিফৌজ ছোকড়াদের গেরিলা action! তাহলে কি বুঝবো তোমার সৈন্যরা মুক্তিফৌজ যোদ্ধাদের সামান্যতম ক্ষতি পর্যন্ত করতে পারেনি। ওকি আঁতকে উঠো না। ঢাকার আর্মানীটোলা আর কুর্মিটোলার সামরিক ছাউনির কাছে আজমপুর গ্রামে গেরিলারা যে টহলদার হানাদার সৈন্যদের হত্যা করেছে, সেকথা

কাউকে জানাবা না। কেমন কিনা, এবার খুশি হয়েছো তো। মরুভূমির উটপাখির মতো

তুমি মুখটা বালুর মধ্যে লুকিয়ে ফেলো, কেউই তোমাকে দেখতে পাবে না। ছিঃ ছিঃ ছিঃ। এতে লজ্জার কি আছে? খোদ ঢাকাতেই যখন গেরিলা action শুরু হয়েছে, তখন নারায়ণগঞ্জেও যে একটু বড় আকারে ওসব হবে তাতে সন্দেহ নেই। তাই নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর উপরে আভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন সংস্থার টার্মিনালটার ক্ষতি একটু বড় রকমেরই হয়েছে।

যাক লেঃ জেনারেল নিয়াজী এর মধ্যেই সামরিক হেলিকপ্টারে বাংলাদেশের কয়েকটা শহর সফর করে হানাদার সৈন্যদের মনোবল তৈরীর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি যে আবার কয়েকটা খারাপ সংবাদ নিয়ে এলেন। বর্ষার আগেই হানাদার সৈন্যরা ক্যান্টনমেন্টে ফিরে যাবার জন্যে অস্থির হয়ে উঠেছে। কেননা মুক্তিফৌজের চোরাগোপ্তা মারের চোটে ওরা ছোট ছোট দলে টহল দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের নদীর সাইজ দেখেই নাকি ওরা ভিমূরি খেয়ে পড়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে চরমপত্র মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপক ভাবে অনুপ্রাণিত করতো।

মিঠা খান ভাইয়া। শুনলেও হাসি পায়। ঢাকার কাছে পালাতে তোমার নির্দেশেই তো হানাদার সৈন্যরা সাঁতার কাটা আর ছোট নৌকা চালানো শিখছে। আরে ও সাঁতার তো মায়ের পেট থেকে পড়েই শিখতে হয়। বাংলাদেশের ছেলেগুলো তো পাঁচ বছর বয়স থেকেই সাঁতার শেখে। এ তো আর পাঞ্জাবের এক হাঁটু পানিওয়ালা নদী নয় এ যে বিরাট দরিয়া। শুনেছি তোমার হানাদার সৈন্যরা যখন চাঁদপুর থেকে বরিশাল যাচ্ছিল তখন তারা ভেবেছিল তারা বোধ হয় বঙ্গোপসাগরে এসে গেছে।

ওদের একটু ভালো করে ভূগোল শিখিয়ে দিও- ওটা তো মেঘনা নদী। আর শোনো, একটা কথা তোমাকে গোপনে বলে দি। বাংলাদেশের বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা আর মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ মহকুমায় এক ইঞ্চি রেল লাইন কোনো সময়ই বসানো সম্ভব হয়নি। ওখানে অনেক নদীর নাম পর্যন্ত নেই- গ্রামের নামেই নদীর নাম। এসব এলাকার হাটগুলো পর্যন্ত নদীর উপরে বসে, বুঝেছ অবস্থাটা। এখানেই একটা নদী আছে- নাম তার আগুনমুখো। নাম শুনেই বুঝেছো বর্ষায় ওর কি চেহারা হবে?

না, না, তোমাকে ভয় দেখাবো না। একবার যখন হানাদারের ভূমিকায় বাংলাদেশের কাদায় পা ডুবিয়েছো- তখন এ পা আর তোমাদের তুলতে হবে না। গাজুরিয়া মাইর চেনো? সেই গাজুরিয়া মাইরের চোটে তোমাগো হগ্গলরেই কিন্তুক এই ক্যাদোর মাইধ্যে হুইত্যা থাকোন লাগবো।

[ চরমপত্র,  ২৫ মে ১৯৭১ – স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ]

চরমপত্র, ২৬ মে মে ১৯৭১ :

সামরিক সাহায্যের বদৌলতে আধুনিক মারণাস্ত্রে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর অবস্থা এখন একেবারে ছেরাবেরা হয়ে গেছে। বাংলাদেশে স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে পদানত করতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী এরকম একটা বিপর্যস্ত অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে। কুর্মিটোলা, ময়নমতী, যশোর, চট্টগ্রাম রংপুরের সামরিক ছাউনী এলাকার গোরস্তানগুলো পাকিস্তানের হানাদার জওয়ানদের কবরে ভরে গেছে।

এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন রণাঙ্গন থেকে হানাদারের করা পিআইএ বিমানে পাকিস্তানী সামরিক অফিসারদের কফিন পাকিস্তানে আত্মীয়স্বজনদের পাঠানো হচ্ছে। লাহোর, সারগোদা, লায়ালপুর, মুলতান, শিয়ালকোট, কোহাট, পেশোয়ার, কোয়েটা, লারকানা, শুক্কুর প্রভৃতি এসব কফিন পৌঁছানোর ঘরে কান্নার রোল গেছে।

মাত্র লড়াইয়ে বাংলাদেশে হানাদার পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর অফিসারসহ কয়েক হাজারের জওয়ান নিহত হয়েছে। সৈন্য আহত হয়েছে। তাই আজ বাংলাদেশে হানাদার অধিকৃত শহরগুলোতে রোজই সামরিক বাহিনীর সংগ্রহের টহল দিচ্ছে।

এম আর আখতার মুকুল

চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে বেপরোয়া হত্যালীলা চালিয়ে জেনারেল টিক্কা খান, জেনারেল মিঠা জেনারেল পীরজাদার দল বাংলাদেশকে পদানত করবার দেখেছিল, আজ ভেঙ্গে খান হয়ে গেছে। সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী মুক্তিযোদ্ধাদের তৎপরতায় হানাদার সৈন্যের অস্থির হয়ে উঠেছে। অতর্কিত আক্রমণে প্রতিদিনই ঢাকা শহরের আর্মানীটোলায় আর কুর্মিটোলার অদূরে আজমপুর গ্রামে টহলদারী সৈন্যদের দল নিশ্চিহ্ন

এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে কুর্মিটোলার সামরিক ছাউনীতে শোকের ছায়া এল। একদল সৈন্য অনার দেখাবার জন্য নিলো। আখাউড়া সেক্টর থেকে হানাদারদের গোটা কয়েক সাঁজোয়া গাড়ি মন্থর গতিতে আর ময়নামতীর উপর দিয়ে দাউদকান্দি ঢাকার দিকে এগিয়ে কাচপুরের ফেরি পার বাওয়ানী মিলের দিয়ে যাত্রাবাড়ীর দিয়ে ঢাকা হাটখোলায় প্রবেশ করলো। প্রায় জনশূন্য ঢাকার রাস্তায় দু’চারজন পথচারী কনভয়টা মন্থর যাওয়ায় অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখলো।

গাড়িটার কনভয়টা ধীরে ধীরে বিধ্বস্ত ঢাকা নগরীর মাঝ দিয়ে মন্থর গতিতে এগিয়ে গেল। মাঝে মাঝে রাস্তার দু’ধারে টহলদারী সৈন্যরা ‘এ্যাটেনশন পজিশনে’ স্যালুট দিয়ে সম্মান দেখাচ্ছে। শেষ অবধি কনভয়টা এয়ারপোর্ট হয়ে কুর্মিটোলার সামরিক ছাউনিতে গিয়ে হাজির হলো। সমগ্র এলাকায় নীরবতা নেমে এল। এরপর শুরু হলো আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শন।

আবার কনভয়টা এগিয়ে চললো তেজগাঁ বিমান বন্দরের দিকে। বিমান বিধ্বংসী কামান, মর্টার, ট্রেঞ্চ আর বাংকার দিয়ে ঘেরাও করা বিমান বন্দরে যখন কনভয়টা গিয়ে পৌঁছলো তখন বিকেলের পড়ন্ত রোদ এসে দাঁড়িয়ে থাকা পিআইএ বিমানের উপর পড়ে চক্ চক্ করছিল। এমন সময় জেনারেল মিঠা খান এসে কফিনে রাখা লাশটার প্রতি সম্মান দেখালো। একটু পরেই বিমানটা স্বদেশে রওনা হলো।

এই বিমানেই ফিরে গেলেন পাকিস্তান আর্টিলারী ডিভিশনের কমান্ডিং অফিসার নওয়াজেশ আলী। তিনি করাচী হয়ে লাহোরে তাঁর স্ত্রী-পুত্র-পরিজনের মাঝে ফিরে গেলেন। তবে জীবিত অবস্থায় নয়। ঐ কফিনটাতেই নওয়াজেশের লাশ রয়েছে। আখাউড়া সেক্টরে তিনি যখন একটা জিপে করে রুটিন-ভিজিটে বেরিয়েছিলেন, তখন অসীম সাহসী মুক্তিযোদ্ধারা একটা ঝোপের আড়ালে বসে তাঁকে হত্যা করতে সক্ষম হয়।

শুধু নওয়াজেশ কেন, গত দু’মাসে পাকিস্তান আর্মির বেশ কিছু কমিশন্ড অফিসারের লাশ বিমানযোগে দেশে পাঠানো হয়েছে। অবশ্য যে হাজার কয়েক আর্মি জওয়ান এর মধ্যেই বাংলাদেশে নিহত হয়েছে তাদের লাশ তো আর স্বদেশে পাঠানোর প্রশ্ন ওঠে না। ওদের লাশ বাংলাদেশেই দাফন করা হচ্ছে। এছাড়াও গত দু’মাসে কয়েক হাজার পাক সৈন্য মুক্তিফৌজের হাতে প্রচণ্ড মারের মুখে আহত হয়ে কাতরাচ্ছে।

এদের জন্যে বাংলাদেশের বেসামরিক লোকদের জোর করে ধরে ধরে রক্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। কিন্তু তবুও পাকিস্তান আর্মি বাংলাদেশে আর হালে পানি পাচ্ছে না। পাকিস্তানের মোট তেরো ডিভিশনের মধ্যে চার ডিভিশন সৈন্য বাংলাদেশে লড়াই করছে। কাশ্মীর ও পশ্চিম পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকা থেকে আর সৈন্য উঠিয়ে বাংলাদেশে আনা সম্ভব নয়।

এদিকে বাংলাদেশেও দ্রুত সৈন্য ক্ষয় হচ্ছে। তাই এখন সেনাপতি ইয়াহিয়া পশ্চিম পাকিস্তান থেকে মিলিশিয়া বাহিনীদের ‘কাফের নিধনের’ কথা বলে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে। কিন্তু এখানে যুদ্ধ জয়ের কোনো আশা নেই দেখে আর মুক্তিফৌজের গেরিলা যুদ্ধের দাপটে এদের মনোবল একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে। তাই বলছিলাম বাংলাদেশে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর অবস্থা একেবারে ছেরাবেরা হয়ে গেছে।

চরমপত্র, ২৭ মে ১৯৭১ :

ঢাকার সংবাদপত্রগুলোর এখন কুফা অবস্থা। পাঞ্জাবের মেজর সিদ্দিক সালেক এ সমস্ত দৈনিক পত্রিকাগুলোর প্রধান সম্পাদকের আসন অলঙ্কৃত করে রয়েছে। কেননা এই মেজর সালেকই হচ্ছেন বাংলাদেশে হানাদার বাহিনীর আর্মি পি.আর.ও। ঢাকার

সংবাদপত্র ছাড়াও বেতার টিভির উপর তার দোর্দণ্ড প্রতাপ। মেজর সালেক প্রত্যেকটি সংবাদের উপর সেন্সরড ও পাসড সিল দিয়ে দস্তখত করলে খবরের কাগজগুলো তা’ছাপাতে পারছে। অবশ্য তিনটা পত্রিকার সম্পাদকের এতে যায় আসে না। কেননা এরা দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও কোনো দিনই সম্পাদকীয় নিবন্ধ লেখেন নি। তাই বলে ভাববেন না যে, এ দু’জনের লেখার ক্ষমতা অদ্ভূত কেবল ইচ্ছে করেই লিখছেন না। আসলে এরা দু’জন ঐ লেখার বিদ্যেটা ছাড়া আর সব কিছুতেই পারদর্শী।

এদের একজনের আদি নিবাস ভারতের বিহার প্রদেশে। নাম- এস.জি.এম. বদরুদ্দিন। ইনিই হচ্ছেন পাকিস্তান সরকার পরিচালিত প্রেস ট্রাস্ট মালিকানার ইংরেজি দৈনিক মর্নিং নিউজ পত্রিকার সম্পাদক। মাস কয়েক আগে এই বদরুদ্দিনই মর্নিং নিউজের ঢাকা ও করাচী এ দু’টো এডিশনের প্রধান সম্পাদকরূপে নিযুক্ত হয়েছেন।

এর কৃতিত্ব হচ্ছে, গত পনেরো বছরের মধ্যে ইনি কোনো সম্পাদকীয় নিবন্ধ লেখেননি। বিদ্যার দৌড় পেটে বোমা মারলে বোমাটাই ভোঁতা হয়ে ফিরে আসবে। কিন্তু তবুও ইনি ইংরেজি মর্নিং নিউজ পত্রিকার সম্পাদক। তাহলে এর আর কি কি যোগ্যতা রয়েছে? প্রথমতঃ ইনি হচ্ছে উর্দুভাষী আঠার বছর ঢাকায় বসবাস করা সত্ত্বেও বাংলা বলতে বা পড়তে পারেন না।

দ্বিতীয়তঃ পাকিস্তানের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল অর্থাৎ পাকিস্তান আর্মির এজেন্ট। আর তৃতীয়তঃ ইনি একটু তরল জাতীয় পদার্থ পানে অভ্যস্ত।

আরেকজন সম্পাদক ফেনী নিবাসী বঙ্গভাষী। কেবলমাত্র লেখার বিদ্যাটা ছাড়া ইনি সমস্ত রকমের বিদ্যায় পারদর্শী। ইনি একদিকে শ্রমিক নেতা ও রাজনীতিবিদ। অন্যদিকে ইনি একজন টাউট সম্প্রদায়ের লোক। ইনিই হচ্ছেন পাকিস্তান অবজার্ভার পত্রিকার বাংলা সংস্করণ দৈনিক পূর্বদেশের সম্পাদক মাহবুবুল হক।

আজ পর্যন্ত জনাব হক পূর্বদেশ পত্রিকায় সম্পাদকীয় নিবন্ধ লেখা তো দূরের কথা, একটা মফস্বল সংবাদ পর্যন্ত লিখতে পারেননি। অর্থাৎ কিনা লেখার ক্ষেমতা নেই। তবে হ্যাঁ ইনি একজন শ্রমিক নেতা। রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের সভাপতি হিসেবে বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনে ইনি যেভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তা মীরজাফরকেও হার মানিয়ে দেয়। এই মাহবুবুল হকের বদৌলতেই বাংলাদেশের রেলওয়ে কর্মচারীরা তাদের ন্যূনতম অধিকার পর্যন্ত আদায় করতে পারেনি।

জনাব মাহবুবুল হক একজন রাজনৈতিক নেতাও বটে। ইনি মনেপ্রাণে একজন খাঁটি জামাতে ইসলামী। অবশ্য নামাজ রোজার বালাই পর্যন্ত নেই। কিন্তু বন্ধু সমাজে ইনি নিজেকে প্রগতিশীল বলে দাবি করে থাকেন। সত্তুরের সাধারণ নির্বাচনে জনাব হক তার মুনিব আর পাকিস্তানের ক্লিক রাজনীতির সদস্য হামিদুল হক চৌধুরীর নির্দেশে ফেনীর একটা আসন থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

জনাব মাহবুব ফেনীতে খুবই জনপ্রিয় কিনা! তাই মাত্র হাজার খানেক ভোটের জন্য তার জামানতটা রক্ষা পেয়েছে। তার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হচ্ছে, তিনি পাকিস্তান আর্মির খুবই আস্থাভাজন লোক। মেজর সালেকের মতো লোকদের সংগে তার বহু আগে থেকেই নিবিড় সম্পর্ক ছিল। অবশ্য বিদেশী দূতাবাসের লোকদের সংগে তার দহরম মহরম রয়েছে।

এছাড়া দৈনিক পাকিস্তানের সম্পাদকের কথা না-ই বা বললাম। এই পত্রিকার সম্পাদক জনাব আবুল কালাম শামসুদ্দিন অনেকদিন আগে থেকেই নিজেই নিজেকে চিঠিপত্র লিখছেন। অর্থাৎ কিনা পত্রিকার সম্পাদকীয় লেখার ব্যাপারটা উনি জুনিয়রদের উপর ছেড়ে দিয়ে সম্পাদকের কাছে চিঠিপত্র লেখার দায়িত্ব নিয়েছেন। সে এক অদ্ভূত ব্যাপার! রোজ এই বৃদ্ধ ভদ্রলোক দোতলার কোণার ঘরটাতে বসে চিঠিপত্র তৈরী করছেন আর নিজের পত্রিকায় ছাপাচ্ছেন।

তাই বলছিলাম, ঢাকার পত্রিকাগুলোর এখন এক কুফা অবস্থা। এসব সংবাদপত্রগুলো এখন হানাদার বাহিনীর কুক্ষিগত। হানাদার বাহিনীর তাবেদাররাই এখন সংবাদপত্রগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। অবশ্য যে ক’টা দৈনিক পত্রিকা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কথা ছাপাতো সেসব পত্রিকাগুলোর ছাপাখানা, মায় অফিস ভবন পর্যন্ত কামানের গোলায় নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। আর এদিকে দালাল মার্কা সংবাদপত্রগুলো চার থেকে ছ’পৃষ্ঠাওয়লা ইস্যু বের করে দালালীর প্রতিযোগিতা করছে।

এরা কয়েকটা জায়গায় স্টাফ রিপোর্টার পাঠিয়ে ‘অবস্থা স্বাভাবিক’ বলে খবর ছাপানোর প্রচেষ্টা করছে। কিন্তু কি লাভ? এখন ঢাকায় গড়ে একটা খবরের কাগজের প্রচার সংখ্যা এক থেকে দেড় হাজারের মতো। কেননা ঢাকায় কাগজ কেনার মতো লোক কই? আর মফস্বলের সঙ্গে ঢাকার তো কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থাই নেই। অবজার্ভার গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স এর মধ্যেই তো ছাঁটাই-এর নোটিশ দিয়েছে।

ভাই ঢাকার পত্রিকাগুলোর সুপ্রিম সম্পাদক মেজর সালেকের কাছে একটা আরজ, যে কোনো একটা খবরের কাগজের ছাপাখানা থেকে তো সমস্তগুলো কাগজই ছাপার ব্যবস্থা করা যায়। কেবল এক দেড় হাজার করে ছাপা হবার পর কাগজের নামের হেড পিস্‌টা বদলে দিলেই তো চলে। খামোখা প্রতিদিন তকলিফ করে জিপে চড়ে প্রত্যেকটা খবরের কাগজ অফিসে ঘুরে বেড়াবার কষ্ট করছেন। পালের গোদা হামিদুল হক চৌধুরীর কাছ থেকে একটা advice নিন। কাজ দিবে।

এই চৌধুরী সাহেবের advice ই তো পূর্বদেশের প্রেস ম্যানেজার আহসান উল্লাহ সেদিন কল্যাণপুরে বাসার অবস্থা দেখতে যেয়ে বিহারীদের হাতে নিহত হলো। পরে লাশ উদ্ধার করে অফিসে নিয়ে আসলে চৌধুরী সাহেব শুধু একটা কথাই বলেছিলেন, “ভালো করে লাশ সনাক্ত করেছো তো? লাশটা কি ঠিকই আহসান উল্লার?”…হত্যাকারী কাকে বলবো?

চরমপত্র, ২৮ মে ১৯৭১ :

ঠ্যালার নাম জশমত আলী মোল্লা। সেনাপতি ইয়াহিয়া এখন ঠ্যালার মুখে পড়েছেন। কেননা বিদেশী মারণাস্ত্রে বলীয়ান হয়ে ইয়াহিয়ার ইঙ্গিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তার সমস্ত শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েও বাংলাদেশকে দখল করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই heeহেএ।

ইয়াহিয়ার এখন চিড়ে চ্যাপ্টা অবস্থা। হাজার হাজার হানাদার জওয়ানদের হতাহত হবার সংবাদ এখন পশ্চিম পাকিস্তানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে সেখানে দারুণ- উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানকার সংবাদপত্রের উপর পূর্ণ সেন্সরশিপ থাকা সত্ত্বেও এরা বিদেশী সংবাদপত্রে প্রকাশিত কিছু কিছু খবর পুনমুদ্রিত করাতেই এই বিদিকিছছি অবস্থা দেখা দিয়েছে।

এছাড়া প্রতিদিনই পি, আই, এ, বিমানে পাকিস্তান সামরিক অফিসারদের লাশ পশ্চিম পাকিস্তানে তাদের আত্মীয়স্বজনদের কাছে পৌঁছাচ্ছে বলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। লাহোরের ‘মিয়ানী সাহেব কবরস্থানে’ রোজই বাংলাদেশ থেকে এসব নিয়ে আসা লাশ দাফন করা হচ্ছে। তাই আজ পাঞ্জাবের ঘরে ঘরে কান্নার মাতম্ পড়ে গেছে।

সেনাপতি ইয়াহিয়া এ অবস্থার মোকাবিলা করতে যেয়ে সেখানকার সংবাদপত্রের উপর দারুণভাবে ক্ষেপে গেছেন। এমনকি লাহোরের সরকার পরিচালিত পাকিস্তান টাইমস এবং ইমরোজ, জামাতে ইসলামীর ‘নওয়ায়ে ওয়াক্ত’ আর ভুট্টো সমর্থক ‘মুসাওয়াৎ’ পত্রিকার উপর সামরিক বিধি জারি করেছেন।

কেননা এসব কাগজগুলো বাঙালি হত্যার ষড়যন্ত্র ‘জি হুজুরের মতো সমর্থন করলেও, এদের প্রোপাগাণ্ডা লাইনটা গড়বড় হয়ে গেছে। আর এর ফলেই পশ্চিম পাকিস্তানে একথা ফাঁস হয়ে গেছে যে, বাংলাদেশে মুক্তিফৌজের হাতে হানাদার সৈন্যরা বেধড়ক মাইর খাচ্ছে আর এ ধরনের গাবুর মাইরের চোটে পাক সেনারা একেবারে ‘ঘাউয়া’ হয়ে উঠেছে।

তাই সেনাপতি ইয়াহিয়া এখন লাহোরের চারটা সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সামরিক আইনে বিচারের কথা ঘোষণা করেছেন। হায়রে দালালী! ‘যার লাইগ্যা চুরি করি সেই কয় চুর’। নিয়তির বিধান কে খণ্ডাতে পারে! ইয়াহিয়ার সমস্ত দালালদের খুব শিগগিরই এ ধরনের অবস্থায় পড়তে হবে।

এদিকে পশ্চিম পাকিস্তানের যেসব শিল্পপতি আর ব্যবসায়ীর দল মাত্র মাস দু’য়েক আগেও হত্যালীলা চালিয়ে বাংলাদেশের বাজার ঠিক রাখার উদ্দেশ্যে জেনারেল ইয়াহিয়াকে সমর্থন জানানোর জন্য প্রাণ জারে জার করেছিল, তারা এখন নাখোশ হয়ে উঠেছেন। কেননা গত দু’মাস ধরে পশ্চিম পাকিস্তানের কোনো শিল্পজাত দ্রব্য আর বাংলাদেশের বাজারে পাঠানো সম্ভব হয়নি।

সেখানকার মিলের গুদামগুলো তৈরি মালে পাহাড় হয়ে রয়েছে। ফলে শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হয়ে গেছে। এছাড়া অনেকগুলো কলকারখানা বাংলাদেশের কাঁচামালের অভাবে লালবাতি জ্বালিয়েছে।

পাকিস্তানের বৈদেশিক বাণিজ্যে এক ভয়াবহ রকমের ‘গ্যানজাম’ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে কাঁচাপাট আর পাটজাত দ্রব্যের রফতানী একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। চা আর চামড়ার সরবরাহ নেই বললেই চলে। তাই বাংলাদেশের দখলকৃত এলাকা থেকে গত দু’মাস ধরে কোনো রফতানী না হওয়ায় পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে এক মারাত্মক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। আর এরই ফল হিসেবে পশ্চিম পাকিস্তানে বিদেশী জিনিষপত্র আমদানী দারুণভাবে নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে।

শুধু তাই-ই নয়, লজ্জার মাথা খেয়ে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা পরিস্কারভাবে বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী নভেম্বর মাসের আগে পাকিস্তানের পক্ষে ধার পরিশোধের কোনো কিস্তি দেয়া অসম্ভব। এমনকি সুদ পর্যন্ত পরিশোধ করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশে যুদ্ধ চালাতে যেয়ে পাকিস্তান সরকারকে প্রতিদিন দেড় কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে বলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাই সেনাপতি ইয়াহিয়ার চ্যালা এম.এম. আহম্মদ ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে যেকোনো শর্তে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে টাকা ধার নেয়ার জন্যে এখন দরজায় দরজায় ‘ল্যালপার’ মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে।

কোনো কোনো দেশ অবিলম্বে বাংলাদেশের সঙ্গে একটা রাজনৈতিক সমঝোতায় আসার জন্য পরামর্শ দেয়ায় আহম্মদ সাহেব তার মুনিব সেনাপতি ইয়াহিয়ার কাছে জরুরি আঞ্জম পাঠিয়েছেন। আর অমনি ‘সোনার চাঁদ পিতলা ঘুঘু’ ইয়াহিয়া ঘোষণা দিয়েছেন যে, ‘হে আমার বেরাদারানে বঙ্গাল, আপনারা যারা সীমান্তের ওপারে চলে গেছেন, তাঁরা তখলিফ করে হানাদার দখলকৃত এলাকায় ফিরে আসুন।

পাক সেনারা বাংলাদেশের শহর এলাকায় হত্যা করার মতো নিরস্ত্র লোকদের হাতের কাছে না পেয়ে পেরেশান হয়ে উঠেছে।’ কিন্তু দিন কয়েক অপেক্ষা করেই খান সাহেব বুঝলেন যে, হ্যাঁ কিছু বাঙ্গালি দখলকৃত শহরগুলাতে ফিরে এসেছে বৈকি। তবে তাঁরা নিরস্ত্র নয়- তাঁরা হচ্ছেন সশস্ত্র গেরিলা যোদ্ধার দল। সাদা পাকা মোটা ভ্রূ দুটো খান সাহেবের আবার কুঁচকে উঠলো।

একটা সাংবাদিক সম্মেলন আহ্বান করে বললেন, স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এলেই ‘দেশপ্রেমিক নির্বাচিত সদস্যদের হাতে ক্ষ্যামতা হস্তান্তর করা হবে।’

কেন আবার কি হলো? পরাজিত রাজনৈতিক নেতাদের হাতে ক্ষমতা দেওয়ার ক্ষ্যামতা হলো না? এইনা বলে বাংলাদেশে ক্ষমতা নেয়ার মতো কেউই নেই? এই না বলে আওয়ামী লীগাররা রাষ্ট্রদ্রোহী আওয়ামী লীগারদের হাতের কাছে পেলে শির কুচাল দেঙ্গা? তাই আওয়ামী লীগ বেআইনী ঘোষণা করেছো? তাহলে আবার দেশপ্রেমিক আওয়ামী লীগারদের খুঁজে বেড়াচ্ছ কেন?

হায়রে ইয়াহিয়া! কত কেরামতি না তুমি জানো! বাম্বু চেনো? এখন বুঝি বায়ু এসেছে। আর সেই বাম্বুর ঠ্যালায় কেরামতি দেখাচ্ছো? কিন্তু বাপধন- ময়না আমার কোনো কেরামতিই যে আর কাজে লাগবে না। এখন বুঝি চান্দি গরম হইছে। আর হেই গরম চান্দি লইয়া পাগল অইয়া তুমি আবোল তাবোল কইতাছো! কিন্তুক একটা কথা কইয়া দেই- ঠ্যালা চেনো? হেই রাম ঠ্যালার নাম কিন্তুক জশমত আলী মোল্লা বুঝছো?

চরমপত্র, ২৯ মে ১৯৭১ :

জেনারেল ইয়াহিয়া খান এখন ঝিম্ ধরেছেন। বাঙালি জাতিকে পদানত করবার সমস্ত প্ল্যান আর ফর্মূলা বানচাল হয়ে যাওয়াতেই জেনারেলের এই অবস্থা হয়েছে। বাংলাদেশে বর্বর আক্রমণ শুরু করবার পর পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা একেবারে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হওয়াতে সেনাপতি ইয়াহিয়া এখন চেখে সরিষার ফুল দেখতে পাচ্ছেন। চারপাশটা কেমন যেন হলদে হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া তরল জাতীয় পদার্থের মাত্রাধিকা ঘটায় তাঁর চোখের সামনে সবকিছু যে ঝাপসা হয়ে আসছে। এখন তিনি ভুট্টো সাহেবকে না চেনার ভান করছেন। বেচারা ভুট্টো সেদিন করাচীতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আসোস করে বলেছেন যে, ইসলামাবাদের এখনকার কায়-কারবার পিপলস পার্টির অজ্ঞাতেই চলছে।

অথচ আগের ওয়াদামতো আওয়ামী লীগ বেআইনী ঘোষণা করার পর পিপলস পার্টিকেই ৩০শে জুলাই-এর মধ্যেই ক্ষমতা দেয়ার কথা।’ ক্ষমতার লোভে ভুট্টো সাহেব এখন ষড়যন্ত্রের কথা ফাঁস করে দিয়েছেন। কিন্তু ভুট্টো সাহেব একটা কথা ষড়যন্ত্র রাজনীতিতে যাঁর জন্ম- ষড়যন্ত্রের মধ্যেই যে তার মৃত্যু! তাই এখন আর কাউ কাঁউ করে লাভ কি?

এদিকে আগায় খান পাছায় খান- খান আব্দুল কাইউম খান আবার খুলেছেন, মাফ্ করবেন ‘মুখ’ খুলেছেন। তিনি আবদার করেছেন- আবার আদমশুমারী করে নির্বাচন করতে হবে। অবশ্য তিনি ইসলামাবাদের সামরিক কর্তৃপক্ষকে আরও ক’টা দিন সবুর করতে বলেছেন। কেননা ‘দন্তবিহীন সীমান্ত শার্দুল’- খান কাইউম খান পরিস্কারভাবে ঘোষণা করেছেন যে, বাংলাদেশ থেকে আরও কিছু বাঙালিকে উচ্ছেদ করবার পর আদমশুমারী ও নির্বাচন করতে ।

আয় মেরে জান, পেয়ারে দামান, খান কাইউম খান, তোমার ক্যারদানী আর কত দেখাবে?

মনে নেই তুমি যখন সীমান্ত প্রদেশের পেরধান মন্ত্রী ছিলে, তখন সেখানকার সাধারণ নির্বাচনে তোমার মনোনীত প্রার্থীরা এক একটা এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা থেকেও বেশি ভোট পেয়েছিল? কিন্তু সত্তুরের নির্বাচনে তোমার মুরুব্বী পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে যে নির্বাচন হয়েছে তাতে বাংলাদেশে তোমার পার্টির প্রার্থীদের অবস্থা একেবারে ছেছছেরা হওয়াতেই কি তোমার উর্বর মস্তিষ্কে নতুন প্ল্যান গজাচ্ছে? কি বুদ্ধি তোমার? এত বুদ্ধি নিয়ে রাতে তুমি ঘুমাও কেমন করে?

জামাতে ইসলামীর জেনারেল সেক্রেটারী তোফায়েল আহমদ আরও এক ডিগ্রি এগিয়ে গেছেন। ইনি ধূয়া তুলেছন প্রথম নির্বাচনের ভিত্তিতে আবার সাধারণ নির্বাচন করতে হবে। এ যেন বাচ্চা মেয়েদের এক্কা দোক্কা খেলা আর কি? থুক্কু দিলেই- ফেন্ পহলেসে।

কিন্তু তোফায়েল আহমদ ভাইয়া; sorry মাওলানা তোফায়েল, পশ্চিম পাকিস্তানে আপনারা যা খুশি তাই করতে পারেন; আপনাদের খাসী ইচ্ছে করলে আপনারা লেজ দিয়ে জবাই করতে পারেন- তাতে আমাদের কিস্সু যায় আসে না। কিন্তু দোহাই আপনার, বাংলাদেশের ব্যাপারে আর মাথা গলাবেন না।

এবারের সাধারণ নির্বাচনে তো আপনাদের Candidate দের অবস্থাটা দেখেছেন? এমনকি মীরপুর-মোহাম্মদপুরের অবাঙ্গালি এলাকা থেকেও আপনার জামাতে ইসলামীর মাইনে করা আমীর গোলাম আজম পর্যন্ত ধরাশায়ী হয়ে পড়লেন। বাংলাদেশের মাটি খুবই পিছলা কিনা? কয়েক কোটি টাকা খরচ করার পরেও তো একজন প্রার্থীও নির্বাচিত করাতে পারলেন না। এই দুঃখেই কি এখনও পর্যন্ত সিনা চাপড়াচ্ছেন?

কিন্তু এদিকে যে, আপনাগো নেতা সেনাপতি ইয়াহিয়া এখন উল্টা-পাল্টা কথা বলতে শুরু করেছেন। সেদিন ভট্ করে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেই বসলেন, ‘শেখ মুজিব আমাকে গ্রেফতার করতে চেয়েছিলেন।’ সম্মেলনে হাজির থাকলে বলতাম, ‘একটু আস্তে কন। ঘোড়ায় হুন্‌লে হাইস্যা দিবো।’ শুধু এখানেই শেষ নয়, ইয়াহিয়া চমৎকার।

মাটিতে পড়ে গেল। ধ্যাত্তারি না। পূর্ব বাংলা থেকে তো ১৫৯-এর মধ্যে ১৬৭টা নির্বাচিত সদস্যই আওয়ামী লীগার। হাতের কাছে যে সব বাঙালি নেতা পাচ্ছি, সব ব্যাটাই তো হারু মিয়ার দল। সঙ্গে সঙ্গে নতুন ফরমান এল- আওয়ামী লীগারদের মধ্যে সবাই খারাপ নয়- দু’চারটা সেই জিনিস পাওয়া যেতেও পারে। বহু খোঁজাখুঁজির পর আড়াইজন পাওয়া গেল। এখন উপায়?

এবার আগাশাহীর কাছ থেকে ‘মেসেজ’ এল। যদি কোনোমতে বাঙালি শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনা যায়। তবে পশ্চিমা দেশ থেকে সাহায্যের ফোয়ারা আসবে। অমনি সেনাপতি ইয়াহিয়া ইয়া-ইয়া করে উঠলেন। করাচীর এক সাংবাদিক সম্মেলনে গলাটাকে একটু Base-এ এনে অক্করে কাইন্দা হালাইলেন। লজ্জার মাথা খেয়ে বাঙালি শরণার্থীদের ফিরে আসবার আবেদন জানালেন।

কিন্তু হিসেবে একটু ভুল হয়ে গেছে গোলাম হোসেন। কেননা করাচীর সাংবাদিক সম্মেলনে যখন তিনি এ আবেদন জানাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই পাকিস্তানী হানাদার সৈন্যরা সীমান্ত এলাকায় বাঙালি শরণার্থীদের উপর বেধড়ক গুলি চালাচ্ছিল। তাই খান সাহেবের এই আবেদন পাকিস্তানের বেতারকেন্দ্রগুলো থেকে হাম্বা হাম্বা শব্দে রব উঠালেও একজন শরণার্থী ফিরে এল না।

তাই এবারে ‘ছত্রিশা মহাশক্তি জীবন রক্ষক বটিকা’ দিয়েছেন। অর্থাৎ কিনা পাকিস্তানী সেনাবাহিনী, অবাঙালি রাজাকার আর মুসলিম লীগের গুণ্ডা, থুক্কু ভলানিটয়ার দিয়ে অনেক ক’টা Reception Counter খুলেছেন। কি বিচিত্তির এই দেশ সেলুকাস্! বাঙালি শরণার্থীরা ইয়াহিয়া খানের প্রেমে গদগদ হয়ে দেশে ফিরে আসুক আর কি? তারপর বুঝতেই পারছেন এদের অবস্থা। তাই বলেছিলাম, বাংলদেশে একটা কথা আছে— জাতেমাতাল তালে ঠিক – J.M.T.T. সেনাপতি ইয়াহিয়ার এখন সেই অবস্থা।

ভাষায় বাংলাদেশের শরণার্থীদের হানাদার দখলকৃত এলাকায় ডেকে পাঠিয়েছেন। সেকি করুণ আবেদন! বাঙালির দরদে তাঁর দু’চোখ দিয়ে অবিরল ধারায় পানি পড়িয়ে পড়লো। তিনি বাঙালি শরণার্থীদের হানাদার দখলকৃত এলাকায় ফিরে আসার আহ্বান জানালেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী আর এক শ্রেণীর অবাঙালি রাজাকার এসব বাঙালিদের মদত্ করবে।

কিন্তু মদত্ জিনিষটা যে কি, তা বাঙালিরা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পেরেছে। তাই সেনাপতি ইয়াহিয়ার কথায় কেউই কান দিলো না। এদিকে লন্ডন টাইম্স পত্রিকা আবার ভাঙা ফুটা করে দিয়েছে। এ পত্রিকায় ২৬শে তারিখের এক খবরে বলা হয়েছে যে, জেনারেল ইয়াহিয়া যখন বাঙালি শরণার্থীদের ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন, ঠিক তখই হানাদার সৈন্যরা সাতক্ষীরা সীমান্তে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে আসা নিরস্ত্র বাঙালি শরণার্থীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে।

ইয়াহিয়া সাহেব জ্ঞানপাপী। যে মুহূর্তে তিনি খবর পেয়েছেন যে বাংলাদেশে ছলে বলে কৌশলে কিছু নির্বাচিত সদস্য জোগাড় করে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলেই, পশ্চিমা দেশগুলো থেকে আবার সমস্ত রকমের সাহায্য পাওয়া যাবে, সেই মুহূর্তেই তিনি ভোল্ পাল্টে ফেললেন।

গেল ২৬শে মার্চ যে আওয়ামী লীগকে তিনি রাষ্ট্রের শত্রু, দেশের শত্রু আখ্যায়িত করে চৌদ্দ পুরুষের বাপান্ত করে ছেড়েছিলেন; এখন আবার সেই আওয়ামী লীগের মাঝ থেকে কিছু কিছু দেশপ্রেমিক সদস্যদের খুঁজে বের করার হুকুম জারি করে পৌঁ-ধরা নেতাদের ভুলতে বসেছেন। কিন্তু দিন দু’য়েকের মধ্যেই আবার ইসলামাবাদে ঘোরতর দুঃসংবাদ এসে পৌঁছলো। বাংলাদেশের দখলকৃত এলাকা থেকে দালালী করবার মতো জনা আড়াই-এর বেশি নির্বাচিত সদস্য পাওয়া যায়নি।

বাকি সদস্যরা সব একেবারে গায়েব হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে হানাদার সৈন্যরা এখন মুক্তিফৌজের গেরিলা মাইরের মুখে একেবারে পাগলা হয়ে গেছে। জেনারেল ইয়াহিয়া, তোমাকে একটা কথা বলতে চাই। হা-ডু-ডু খেলা দেখেছো কখনো? সেই হা ডু-ডু খেলায় কেচ্‌কি বলে একটা প্যাচ আছে। বাংলাদেশে তোমার হানাদার বাহিনী এখন সেই কেচ্‌কিতে পড়েছে। আর তুমি বুঝি হেই কেচকির খবর পাইয়া আউ-কাউ কইর‍্যা বেড়াইতাছো। তাই বলেছিলাম- জেনারেল ইয়াহিয়া এখন ঝিম্ ধরেছেন।

চরমপত্র, ৩০ মে ১৯৭১ :

বাংলাদেশের দখলকৃত এলাকায় আজকাল একটা শব্দের বড্ড বেশি চল্ হয়েছে। শব্দটা হচ্ছে ‘প্রাক্তন’- ইংরেজিতে যাকে বলে Ex কিংবা Former। জেনারেল ইয়াহিয়া খানের হানাদার বাহিনী এসব Former-ওয়ালাদের সংগেই খুব বেশি রকম দহরম-মহরম চালাচ্ছেন। আজকে এসব Former লোকদের কিছু পরিচয় দিতে চাই। অবশ্য এঁদের Informer-ও বলতে পারেন। কেননা দালালীর সংগে সংগে চোকলামি মার্কা খবর সংগ্রহও এদের মস্ত বড় যোগ্যতা।

এদের পরিচয় দিতে যেয়ে কার নাম যে প্রথমে বলবো, সেটাই ভেবে পাচ্ছি না। কেননা এসে এক বড়া। কাকে রেখে কার কথা বলি? যাক্ প্রথমে শুকুয্যাকে দিয়েই শুরু করা যাক। হায় আল্লাহ, শুকুয্যাকে চেনেন না। আঁরার চাঁটগার শুক্কুয্যা। হ-অ-অ বুঝছি ফ কা কইলে চিনতে পারবেন। যিনিই শুক্কুয্যা তিনিই ফা কা- অর্থাৎ কিনা চট্টগ্রামের ফজলুল কাদের চৌধুরী। এই চৌধুরী সাহেব আইয়ুব খানের আমলে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে একবার স্পিকার হয়েছিলেন।

ব্যাস্ আর যায় কোথায়! সারা জীবনের মতো প্যাডের মাণ্ডুলে নিজের নামের পাশে Former Speaker, Pakistan Parliament কথা ক’টা ছাপিয়ে ফেললেন। এবারের সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে জনৈক সাংবাদিক তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন ‘স্যার আপনার Election Prospect টা কি রকম? অমনি বিকট এক অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেন। গলাটা একটু নিচু করে বললেন, ‘আমার Result খারাপ হলে তো Riot শুরু হয়ে যাবে।

আমাদের ফ কা চৌধুরীর যেরকম দশাসই চেহারা, তেমনি মোটাবুদ্ধি। তাই Election-এর সময় উনি তাঁর এলাকার Minority ভোটারদের পরিষ্কার ভাষায় বলে দিলেন, ‘আমি হেরে গেলে কিন্তু আপনাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে হবে, সে বুঝে ভোট দিবেন।’ এদিকে নির্বাচনের ডামাডোলে শেখ মুজিবুরের পক্ষেও আর চট্টগ্রামের গ্রামাঞ্চল সফর করা সম্ভব হলো না। তাই সব্বাই ভেবেছিলেন অন্ততঃ কনভেনশন মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট জনাব ফ কা চৌধুরী এবারে নির্বাচনে জিতবেনই।

কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রার্থী অধ্যাপক মোঃ খালেদ এহেন ফ কা চৌধুরীকে Election-এ ল্যাং মেরে দিলেন। তাই চৌধুরী সাহেব সেই Former Speaker-ই থেকে গেলেন। Current হওয়া আর তার কপালে জুটলো না। পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী যে চট্টগ্রাম থেকে এধরনের একজন পরাজিত নেতাকে দলে ভিড়াতে পারবেন, তা একেবারে সুনিশ্চিত ছিল। ইনি এখন খালি মাঠে গদা ঘুরিয়ে বেড়াচ্ছেন। আর চোখে মুখে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা করছেন।

দু’নম্বরে যাঁর কথা বলবো তিনি নিজেই এক ইতিহাস। লোক চক্ষুর অন্তরালে তিনি পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র রাজনীতির সংগে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন। জীবনে কোনো দিন কোনো প্রত্যক্ষ নির্বাচনে ইনি জয়লাভ করতে পারেননি। তাই নির্বাচন জিনিষটাকে ইনি বরাবরই পছন্দ করেননি। আর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সম্পর্কে এঁর বেশ এলার্জি আছে। এঁর অদ্ভুত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। গরমের সময় একদিন তিনি অফিসে বসে তাঁর পিওনকে একটা ডাব আনতে বললেন। কাচের গ্লাসে সেই ডাবের পানি খেলেন।

খালি গ্লাসটা তখনও তাঁর টেবিলের উপর পড়ে রয়েছে। কিন্তু গ্লাসটার তলায় সামান্য একটু ডাবের তলানী পানি ছিল। এমন সময় পিওনটা এসে খালি গ্লাসটা নিয়ে গেল। মিনিট দু’য়েক পরেই সাহেব গর্জন করে উঠলেন। দৌড়ে পিওন ঘরে প্রবেশ করলো। সাহেব হুংকার দিয়ে বললেন, ‘অর্ধেক গ্লাস ডাবের পানি কি হলো?’ পিওনের চোখ কপালে উঠলো। বেচারা শুধু আমৃতা আমৃতা করে হাত দু’টো কচলাতে লাগলো। সাহেবের হুকুম হলো, ওসব বুঝি না, আমার ডাবের পানি আইন্যা দাও।’

পিওন মুখ কাচুমাচু করে বেরিয়ে যেয়ে নিজের গ্যাটের পয়সা খরচ করে ডাব কিনে এনে পরিবেশন করলো। আর ভদ্রলোক বেশ আরামসে সেই ডাবের পানি খেলেন। হায় খোদা! এখনও একে চিনতে পারলেন না। ইনিই হচ্ছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন ফরিন মিনিষ্টার জনাব হরিবল হক- না, না, না জনাব হামিদুল হক চৌধুরী।

এঁরই পরামর্শে তো’ এবার ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বস্তি এলাকাগুলো হানাদার সৈন্যরা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক্ করে দিয়েছে আর হত্যার তাণ্ডব লীলা চালিয়েছে। এই হামিদুল হক চৌধুরীই তো ঢাকার পাকিস্তান অবজার্ভার, পূর্বদেশ আর উর্দু দৈনিক ওয়াতান ছাড়াও উর্দু এবং বাংলা সাপ্তাহিক চিত্রালির মালিক।

মে মাসের গোড়ার দিকে হঠাৎ করে একদিন দুপুরে দেখা গেল একটা লাল রঙের গাড়িতে চৌধুরী সাহেব নারায়ণগঞ্জের নবীগঞ্জে ঘুরে গেলেন। সে রাতেই নবীগঞ্জের আকাশ আগুনের লেলিহান শিখায় লাল হয়ে উঠলো। পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর আক্রমণে নবীগঞ্জের শত শত সুখের সংসার লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল।

জনাব চৌধুরী করিৎকর্মা লোক। তাই নিজের আইন ব্যবসা আর খবরের কাগজের ব্যবসা ছাড়াও ছাপাখানা, প্যাকেজেস ইন্ডাস্ট্রিজ, চা বাগান মায় চিটাগাং রিফাইনারির জন্য আমদানীর বিরাট ইম্‌পোর্ট লাইসেন্স পর্যন্ত রয়েছে। আর এদিকে কবে গাওয়া ঘি দিয়ে ভাত খেয়েছিলেন- সে ঘি-এর গন্ধের কথা তিনি এখনো বড় গলায় বলে বেড়াচ্ছেন।

তিনি হচ্ছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন ফরিন মিনিস্টার। আর এই ফরিন মিনিস্টার থাকার সময়েই তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরলোকগত পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন ফস্টার ডালেসের সংগে সিয়াটো চুক্তিতে দস্তখত করেছিলেন। এছাড়া সুয়েজ খাল সংকটের সময় পাকিস্তানের এই ফরিন মিনিস্টারই সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নাসেরকে বিরাট ধাপ্পা দিয়েছিলেন। এ ধাপ্পাবাজী ধরা পড়লে বহু বছর পর্যন্ত পি.আই.এ. বিমানের কায়রো বিমানবন্দরে অবতরণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

এ্যাই-ই যাঃ জনাব চৌধুরীর সবচেয়ে বড় যোগ্যতার কথাটাই তো বলা হয়নি। ভারত বিভাগ হওয়ার পর পূর্ব বাংলায় মুসলিম লীগ সরকারের ইনি কিছুদিন অর্থমন্ত্রী ছিলেন। সে এক ভয়াবহ ব্যাপার। পুকুর চুরি চেনেন! দিনে দুপুরে সেই পুকুর চুরি শুরু হলো। শেষ পর্যন্ত এ্যালেন বেরির ড্রাম চুরির ব্যাপারে ভদ্রলোক অক্করে হাতে-নাতে ধরা পড়ে গেলেন।

এই বিদিকিছছি ব্যাপারের ঠ্যালাতেই ভদ্রলোকের অবস্থা একেবারে কেরাসিন হয়ে উঠলো। হামিদুল হক চৌধুরীর অবস্থা একেবারে ছেরাবেরা হয়ে গেল। এখন নোয়াখালীর এহেনো হরিবল হক চৌধুরী আর চাটিগার ফ.কা. চৌধুরীর মতো Former লোকেরাই পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর স্যাংগাৎ হয়েছেন। চোরের সাক্ষী গাঁট কাটা আর কি? কিন্তু আর কতদিন? বয়স তো হলো। বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান এইবারে ঘুঘু তোমার বধিব পরাণ’।

চরমপত্র, ৩১ মে ১৯৭১ :

মাস ছয়েক আগেকার কথা। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপর দিয়ে তখন এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আর সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস হয়ে গেছে। সে এক ভয়ংকর দৃশ্য। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এরকম প্রাকৃতিক ধ্বংসলীলা আর হয়নি বললেই চলে। এই ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশের আট হাজার বর্গমাইল এলাকার প্রায় দশ লাখ লোক নিহত আর প্রায় ত্রিশ লাখ লোক গৃহহারা হয়েছিল।

তাই বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী নেতা থেকে শুরু করে সংবাদপত্রগুলো পর্যন্ত সাহায্যের জন্যে করুণ আবেদন করলেন। একমাত্র পশ্চিম পাকিস্তান ছাড়া বিশ্বের সমস্ত সভ্যদেশ থেকে সাহায্য ও রিলিফ দ্রব্য এসে পৌঁছাতে শুরু করলো। শেষ পর্যন্ত বৃটিশ সরকার দুর্গম দ্বীপাঞ্চলের গলিত লাশ দাফন আর রিলিফের কাজের জন্য সিঙ্গাপুর থেকে দুই জাহাজ ভর্তি সৈন্য পাঠালো।

অমনি ইসলামাবাদের জঙ্গি সরকারের টনক নড়লো। কয়েক কোম্পানি পাক সৈন্যকে দ্রুত ঘূর্ণিবিধ্বস্ত এলাকায় হাজির হওয়ার নির্দেশ এল। দুটো উদ্দেশ্য; এক নম্বর হচ্ছে- বৃটিশ সৈন্যদের কাজকর্মের উপর কড়া নজর রাখা। আর দু’নম্বর বিশ্বকে বোঝানো যে, পাকিস্তানী সৈন্যরাও রিলিফ কাজে লেগে পড়েছে। এধরণের পাকিস্তানী এক কোম্পানি সৈন্যের সংগে ঘূর্ণিঝড়ের দিন দশেক পর নোয়াখালীর চর বাটায় দেখা হলো। তখন বেলা প্রায় চারটা বাজে।

সমস্ত ভৌতিক এলাকাটার উপর বিকেলের পড়ন্ত রোদ এসে পড়েছে। শ’দুয়েক গজ দুরে কিছু ছাত্র আর স্বেচ্ছাসেবকের দল একটা ভেঙ্গে যাওয়া মসজিদ মেরামত করছে। হঠাৎ করে লক্ষ্য করলাম সৈন্যদের মধ্যে খানিকটা চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। কোম্পানির কমান্ডার এগিয়ে যেয়ে ছাত্র আর স্বেচ্ছাসেবকদের একটু দূরে সরে যেতে বললেন আর নিজের সৈন্যদের মসজিদ মেরামতের কাজে হাত লাগাবার নির্দেশ দিলেন।

দেখে মনটা খুশিতে ভরে উঠলো। একটু ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলাম আর্মির একজন ফটোগ্রাফার দৌড়ে যেয়ে সৈন্যদের মসজিদ মেরামতের বেশ কয়েকটা ছবি তুললো। এখানেই ঘটনার ইতি হয়ে গেল।

মিনিট পনেরোর মধ্যেই সৈন্যরা হাত ধুয়ে নোয়াখালীর দিকে ডবল মার্চ করে ফিরে চললো। আর কমাণ্ডার সাহেব ছাত্র আর স্বেচ্ছাসেবকদের আবার তাদের কাজে হাত দেয়ার নির্দেশ দিলো। দিন দু’য়েকের মধ্যেই এসব ফটো ঢাকা, করাচী, লাহোর আর পিন্ডির সমস্ত কাগজে ফলাও করে ছাপা হলো। পাকিস্তানী সৈন্যরা নাকে কর্পূরের পোটলা বেঁধে কি সোন্দর ভাবে রিলিফের কাজ করছে। এটাই হচ্ছে পাকিস্তানীদের Propaganda লাইনের একটা ধারা।

এধরনের Propaganda চালাবার জন্য ইসলমাবাদ কর্তৃপক্ষের যতগুলো মাধ্যম রয়েছে, তার মধ্যে A.P.P. সংবাদ সংস্থা অন্যতম। পশ্চিম পাকিস্তান সরকার বছরে এই সংবাদ সরবরাহ সংস্থাকে বারো লাখ টাকা সাহায্য দিচ্ছে। এর একমাত্র কাজই হচ্ছে সরকারের সমস্ত মিথ্যা প্রচারণাগুলেকে সাজিয়ে গুছিয়ে টেলিপ্রিন্টরের মাধ্যমে খবরের কাগজ আর রেডিও অফিসে পৌঁছে দেয়া।

তাই ২৫শে মার্চ থেকে দু’মাস ধরে অবিরামভাবে এই A.P.P. একটা খবরই দিয়ে চলেছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ঢাকা এবং প্রদেশের সর্বত্র দোকান-পাট অফিস-আদালত চালু হয়েছে।

আর অমনি ঢাকার দখলকৃত বেতারকেন্দ্র থেকে তারস্বরে চিৎকার শুরু হয়ে গেল ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে দোকানপাট সব খুলে গেছে। হ্যাঁ ঢাকার দোকানপাট সবই খোলা রয়েছে। নবাবপুর ইসলামপুর রোড দিয়ে হেঁটে গেলেই তো তা বোঝা যায়। কেননা এসব এলাকার সমস্ত দোকানগুলো হয় ছাই হয়ে গেছে, না হয় খোলা রয়েছে।

দোকানগুলোর দরজা নেই কিনা? তাই দূর থেকে খোলাই মনে হয়। দোকানের দরজাগুলো ভেঙ্গে লুট করাতেই দোকানগুলো এখন হা-করে খুলে আছে। তা দেখেই আমী পি.আর.ও মেজর সিদ্দিক সালেক ঢাকার পুরানা পল্টনের A.P.P. অফিসের দোতলায় বসে নিউজ দিচ্ছেন- পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

আর ঢাকার দু’হাজার সার্কুলেশনওয়ালা কাগজগুলো বগল বাজিয়ে সেই সব সংবাদ আজও পর্যন্ত পরিবেশন করে বেড়াচ্ছে। প্রতিদিন সকালে আবার মেজর সিদ্দিকের মতো লোকেরাই ছাপার অক্ষরে সে সংবাদ পড়ে খুশিতে গদগদ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আহম্মক আর কাকে বলে।

এর সঙ্গে আবার জুটেছে হারু মিয়ার দল। হারু মিয়াদের চিনলেন না? এবারের নির্বাচনে বাঙালিদের জ্বালায় যারা হেরে গেছেন তাদেরই Shortcut-এ ‘হারু’ মিয়া বলা হয়। হানাদার দখলকৃত এলাকায় এসব হারু মিয়ার দল এখন দারুণ active হয়েছে। সামরিক প্রহরায় কোনো বাড়ির মধ্যে একদল অবাঙ্গালির সংগে বেঠক করেই এঁরা মেজর সিদ্দিকের কাছে দৌড়াচ্ছেন। আর অমনি সিদ্দিক সাহেব A.P.P-র মাধ্যমে সে সংবাদ জায়গা মতো পৌঁছে দিচ্ছেন।

অবশ্য কয়েকটা লাইন সেখানে এই বলে জুড়ে দেয়া হচ্ছে যে, বিরাট জনসভা আর জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা। এবারের সাধারণ নির্বাচনের সময়েও এই হারু মিয়ার দল হাজারে হাজার বিরাট জলসা করেছিলেন আর জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা পেয়েছিলেন।

খালি ইলেকশনের result টা out হওয়ার পর জানতে পারলেন যে, তারা লাড্ডু পেয়েছেন। সমস্ত বাঙালিরা দেশের শত্রু হওয়াতেই তাদের এই কুফা অবস্থা। তাই তো এখন এই হারু মিয়ার দল নিরস্ত্র আর নিরীহ বাঙালির উপর প্রতিশোধ নেয়ার কাজে নেমেছে। কিন্তু হ্যালো, হারু মিয়ার দল একটা কথা কাইয়্যা রাখি- ওস্তাদের মাইর কিন্তু বিয়্যান রাইতে। হপায় তো খেলার শুরু!

আরও পড়ুন :

 

কলা চাষের কথা – মহিউদ্দীন খান আলমগীর

কলা চাষের কথা : ছেলে বেলায় মুরুব্বিদের সাথে কয়েক বার শীত মৌসুমে আমাদের এলাকার কাছের নদী ডাকাতিয়াতে মাছের পোনা সংগ্রহ করার জন্য নৌকা করে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তখন দেখেছিলাম সাত সকালে আটিয়া কলা খেয়ে জেলেরা নদীতে পোনা ধরতে নামতেন। বলা হয়েছিল আটিয়া কলা শীতে তাদের শরীরকে গরম রাখে। এর পরে গ্রাম থেকে ঢাকায় কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার কালে যাওয়ার পথে মুন্সিগঞ্জে স্টিমার ঘাটে স্টিমার থামার সাথে সাথে সাগর কলা নিয়ে বিক্রির জন্য অসংখ্য ছোট ছোট নৌকা স্টিমারকে ঘিরে ফেলতে দেখেছি।

Dr. Mohiuddin Khan Alamgir, ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর

মুন্সিগঞ্জের সাগর কলা যেমনি পুষ্ট তেমনি মিষ্টি বলে দেখেছি ও অনুভব করেছি। আরো পরে কর্ম জীবনে দেখেছি যে সাগর কলা উৎপাদনের মূল কেন্দ্র মুন্সিগঞ্জ থেকে নরসিংদী এবং তার পরে বগুড়ায় স্থানান্তরিত হয়েছে। আমাদের এলাকায় এই সময়ে সবরি কলার উৎপাদন বা লভ্যতা তেমন চোখে আসেনি। আনাজ কলার উৎপাদন ও লভ্যতা অবশ্য দেশের সব এলাকায়ই প্রত্যক্ষ করেছি। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন এলাকায় একটি নামকরা ভারতীয় বিভাগীয় বিপণীতে আমি গিয়েছিলাম। সেখানে কাঁচা-পাকা কলার সাথে সাথে কলার পাতা, মোচা এমনকি, আলকা বা কলা গাছের শাস বিক্রি হতে দেখেছি। বিক্রেতা বলেছেন খাওয়ার বাইরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এসবের প্রয়োজন অভিবাসী ভারতীয় ও চীনেদের মধ্যে বিদ্যমান।

আমরা এ দেশে এখন পর্যন্ত কলার পাতা, মোচা এবং আলকা বা শাঁসকে তেমন বিক্রয়যোগ্য পণ্য হিসেবে মনে করিনা। অধুনা ঢাকায় কিছু কিছু বিভাগীয় বিপণীতে কলার মোচা এবং আলকা বিক্রয়ের জন্য মজুত রাখা শুরু হয়েছে। কয়েক যুগ আগ পর্যন্ত কলার পাতায় কাংগালী ভোজের আয়োজন দেখেছি। কলার পাতা অবশ্য দেশের উন্নয়নের এই পর্যায়ে তেমন ভাবে ব্যবহৃত হয়না। কলার পাতা, কলা গাছের ডাল ও আলকার আচ্ছাদন শুকিয়ে এখনও জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কলার খোসা উত্তম পশু খাদ্য হিসাবে ব্যবহার্য। পাকা কলা ভেজে সংরক্ষণ করাও স্থান বিশেষে নজরে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশে কলা চাষ ও বিপণন বিষয়ক তথ্যাদি সম্পর্কে অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে আমায় বেশ কৌতুহলী করেছে।

২০১৪ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো দেশে কলা চাষের উপর একটি জরিপলব্ধ প্রতিবেদন প্রকাশ করে এই কৌতুহল অনেকাংশে মিটিয়েছে। দেশের ১১৮ টি অপ্রধান ফসলের মধ্যে কলা অন্যতম। প্রকৃত পক্ষে কলা এই দেশের উৎপাদিত সকল ফলের মধ্যে প্রধান। এই প্রেক্ষিতে এই জরিপে প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্তাদি নীতি নির্ধারকদের জন্য কলা চাষের বিস্তারণে গুরুত্বপূর্ণ ও বিবেচনীয় উপকরণ।

দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫টি পার্বত্য জেলা যথা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন ও খাগরাছড়িকে ভাগে নিয়ে বাকী ৫৯ সমতল ভূমির জেলাকে ২য় ভাগে অন্তর্ভূক্ত করে গৃহস্থালী প্রতি ন্যূনপক্ষে শতাংশ জমি কলা চাষে প্রযুক্তকৃত খামারগুলো ২০১৩ সালে দৈবচয়নের ভিত্তিতে জরিপ হয় । পরিসংখ্যানের তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ এভাবে পরিচালিত দৈবচয়ন ভিত্তিতে সম্পাদিত জরিপে তথ্য-উপাত্তাদি সারা দেশে চাষের প্রকৃতি অনুধাবন বলে যেতে পারে।

বাংলাদেশের কৃষি পরিসংখ্যানের বর্ষপুস্তকের প্রাক্কলন আনুযায়ী দেশে দাগে ১৩০০০০ জমিতে কলা উৎপাদনের খামার বিদ্যমান। ২০০৮ সালে উৎপাদনের খামার আবৃত জমির পরিমাণ ২০০৬-২০০৭ সালের ১৪৫০০০ থেকে ১৩১০০০ একরে নেমে গিয়েছিল বিদিত হয়েছে। ২০১১-২০১২ সালে এই খামারে আবৃত জমির পরিমান আরও নীচে- ১২২০০০ একরে- নেমে এসেছিল। এভাবে নেমে আসার কারণ ঝড়ের বিপর্যস্ততা এবং ক্রমান্বয়ে চাষযোগ্য ভূমিতে বাসগৃহ ও শিল্পের প্রসার ধারণা করা যায়। ন্যূনপক্ষে শতাংশ আয়তন বিশিষ্ট খামারে কলার বাণিজ্যিক উৎপাদন হয় বলে হয়।

এ ছাড়া গৃহস্থালীর কোনাকানা সংলগ্ন পতিত জমিতে খোরপোষের কলা উৎপাদিত হয়। খোরপোষে উৎপাদিত কলার জন্য ব্যবহৃত সর্বমোট জমি সম্ভবত বাণিজ্যিক উৎপাদিত কলার চাষে প্রযুক্ত সর্বমোট জমির সমপরিমাণ। এই ধারণায় বাংলাদেশে মোট দাগে ২৬০০০০ একর জমিতে চাষ হয় ধরে নেয়া যায়। এই জরিপে কলার বানিজ্যিক চাষের আওতায় এই সমকালে যে ১৯২৮৭৭ একর জমি আছে বলে বিদিতি হয়েছে তার মধ্যে চট্রগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দারবণে বিদ্যমান প্রায় শতকরা ২৩ ভাগ। বাকি ৫৯ টি জেলায় রয়েছে শতকরা ৭৭ ভাগ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রাক্কলন অনুযায়ী কলা দেশে উৎপাদিত ফলাদির প্রায় শতকরা ২০ ভাগ এবং বাণিজ্যিক ভাবে ফল উৎপাদনে প্রযুক্ত জমির প্রায় শতকরা ৩৬ ভাগ বাংলাদেশে উৎপাদিত কলার মধ্যে প্রধান হলো সাগর, সবরি, চম্পা, বাংলা, আটি বা আটিয়া, আনাজি, কাঠালী, সিংগাপুরী ও নেপালী ।

জরিপে দেখা গেছে যে সারা বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ভাবে কলা চাষে প্রযুক্ত জমির শতকরা ২.৪৮ ভাগে আনাজি কলা, শতকরা ২০.৩৯ ভাগে বাংলা কলা, শতকরা ১৫.৪৬ ভাগে চম্পা কলা, শতকরা ৩১.৬৪ ভাগে সবরি কলা এবং শতকরা ২৪.১৩ ভাগে সাগর কলা উৎপাদিত হয়। মনে হয় সময়াত্তরে আটিয়া কলার চাহিদা আপেক্ষিক ভাবে কমে এসেছে। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ৩টি পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলায়, শতকরা ১৭ ভাগের চাইতে বেশি জমিতে বাংলা কলা উৎপাদিত হয়।

আর অন্যান্য জেলা বা সমতল ভ’মিতে শতকরা প্রায় ৩২ ভাগে উৎপাদিত হয় সবরি কলা, শতকরা ২৪ ভাগ উৎপাদিত হয়। বাংলা কলা চাপা কলার উৎপাদন হয়। ভূমিতে প্রায় শতকরা ১১ ভাগ জমিতে। অথচ পার্বত্য জেলা সমূহে এর উৎপাদন সীমিত শতকরা প্রায় ৫ ভাগ জমিতে। কলা চাষে প্রযুক্ত জমির এই পরিমাণ নির্দেশ করে যে সবরি, সাগর, চাপা ও বাংলা কলা চাষীদের কাছে আকর্ষণীয় উৎপাদন। কাঠালী, সিংগাপুরী ও নেপালী কলার চাষ খুবই কম।

জরিপে দেখা গেছে, বাণিজ্যিক ভাবে কলা চাষে প্রযুক্ত জমির শতকরা প্রায় ৮৭ ভাগ চাষীদের নিজস্ব মালিকানা ভুক্ত। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ৩টি পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলার বাইরে ৫৯ টি জেলায় কলা চাষে প্রযুক্ত জমির প্রায় শতকরা ৮২ ভাগ নিজস্ব মালিকানা ভুক্ত । চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও ৩টি পার্বত্য জেলায় স্বমালিকানাধীন কলার খামারের আওতায় চাষলভ্য জমির তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম জমির বিদ্যমানতা সম্ভবত এসব এলাকায় সাম্প্রতিক কালে এসব খামারিদের অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যায় অবস্থানের দ্যোতক।

ধারণা করা যায় যে এসব পার্বত্য জেলায় লোকসংখ্যা ও অভিবাসন বৃদ্ধির সাথে সাথে স্ব মালিকানাধীন কলার খামারের সংখ্যা বাড়বে। সারা বাংলাদেশে সকল চাষীর শতকরা ৩.৩ ভাগ বাণিজ্যিক ভাবে ভাগ চাষী হিসাবে কলা উৎপাদন করেন। এদের মধ্যে ইজারা নেয়া জমিতে কলা উৎপাদন করেন প্রায় শতকরা ৮ ভাগ। কলার বাণিজ্যিক চাষে প্রযুক্ত জমির শতকরা ১.৫ ভাগ বন্ধকী জমি । এর প্রেক্ষিতে কার্যকরণ সূত্র অনুযায়ী বলা চলে যে কলা চাষের উন্নয়ন বা উৎপাদনশীলতা দেশের কৃষি জমির নিজস্ব মালিকানা ভিত্তিক এবং এই কারণে ভাগ চাষ ও ইজারা পদ্ধতির আকার বা তার সীমিত করণের উপর নির্ভরশীল নয়।

জরিপে দেখা গেছে যে শতকরা প্রায় ৭৪ ভাগ কলার খামারে কলা একক ফল বা ফসল হিসাবে উৎপাদিত হয়। আর শতকরা ২৫ ভাগ খামারে কলা অন্যান্য ফল ফসলের সাথে মিশ্রভাবে উৎপাদিত হয়। জরিপে জানা গেছে যে এক একর জমিতে কলা উৎপাদনে রোপনের জন্য প্রয়োজন হয় প্রায় শ্রমদিবস, আগাছা পরিস্কারের জন্য প্রয়োজন হয় প্রায় ২২ শ্রমদিবস এবং ফসল তোলার জন্য প্রয়োজন হয় প্রায় ৮ শ্রমদিবস এক একর জমিতে কলা চাষের জন্য সর্বমোট প্রয়োজন হয় ২৯ শ্রমদিবস। এও দেখা গেছে সমতল ভূমিতে এক একর কলা চাষে প্রযুক্ত হয় প্রায় ৪১ শ্রমদিবস।

কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ৩টি পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলায় প্রয়োজন হয় একর প্রতি ২৩ শ্রমদিবস। অন্য কথায় এ সব পার্বত্য জেলায় কলা চাষ তেমন শ্রম নিবিঢ় নয়: এসব জেলায় রোপনের পর কলা গাছের বেড়ে উঠা অনেকাংশে প্রকৃতির উপর ছেড়ে দেয়া হয়।

জরিপে জানা গেছে যে সারা দেশে গড়ে কলা চাষে প্রযুক্ত জমির বাৎসরিক ইজারা মূল্য একর প্রতি ২১৬১৪ টাকা। পার্বত্য এলাকায় একর প্রতি বাৎসরিক ইজারা মূল্য ৮০৯১ টাকা এবং অন্যান্য জেলা অর্থাৎ সমতল ভূমিতে ২১৬২৪ টাকা এতে মনে হয় যে ভূপ্রকৃতির কারণে পার্বত্য এলাকায় চাষে ইজারায় জমি নেয়ার চাহিদা সমতল ভূমি কম।

জরিপ অনুযায়ী সাগর কলার একর প্রতি উৎপাদন খরচ সবচাইতে বেশি ৫৫৫৫৮ উৎপাদন হয়েছে। আর অন্যান্য জেলায় উৎপাদন খরচ হিসাবকৃত হয়েছে ৫৫৯৬৭ টাকা। বোঝা যাচ্ছে কলা পার্বত্য জেলা সমূহে অনেকটা অনাদরে উৎপন্ন হয়। সবরি কলার একর গড় উৎপাদন ব্যয় হিসাবকৃত হয়েছে ৪০৪০৮ টাকা। পার্বত্য জেলায় এই উৎপাদন হিসাবকৃত হয়েছে গড়ে টাকায় এবং অন্যান্য জেলায় এর পরিমাণ হিসাবকৃত হয়েছে ৪০৮৪৩ টাকায়। ক্ষেত্রে প্রতীয়মান হচ্ছে যে পার্বত্য জেলায় সবরি কলার উৎপাদন অনেকটা প্রকৃতির উপর নির্ভর সমতল ভূমিতে সবরিকে এর বিপরীতে যত্ন সহকারে লালন করা হয়।

সারাদেশে চাপা একর প্রতি গড় উৎপাদন ব্যয় জরিপকৃত হয়েছে ৩৫৩৭৩ টাকা। পার্বত্য জেলায় কলার একর গড় উৎপাদন বিদিত হয়েছে ১০৪৫৯ টাকা। সমতল ভূমি অন্যান্য জেলায় এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬৬৮২ টাকায়।

দেশে বাংলা কলার একর প্রতি উৎপাদন বিদিত হয়েছে ১২০৮৭ টাকায় যার মধ্যে পার্বত্য জেলায় ব্যয়ের পরিমাণ হিসাবকৃত হয়েছে ১০২৫৩ টাকা এবং অন্যান্য জেলা বা সমতল ভূমিতে ২১৪৬৯ টাকা। আনাজি কলার ক্ষেত্রে সারা দেশে একর প্রতি গড় উৎপাদন ব্যয় বিদিত হয়েছে ৩৭১৮৪ টাকা। এর মধ্যে ৫টি পার্বত্য জেলায় একর প্রতি উৎপাদন ব্যয় হিসাবকৃত হয়েছে ১০৯৫২ টাকায় এবং অন্যান্য জেলায় ৩৯২৭৫ টাকায়। এসব ক্ষেত্রেও এ কথা স্পষ্ট হয়েছে যে পার্বত্য এলাকায় উৎপাদনের তুলনায় সমতল ভূমিতে সকল রকম কলার উৎপাদনে অধিকতর বিনিয়োগ করা হয়।

জরিপে দেখা গেছে যে সারা দেশে কলা চাষে জমি তৈরি করণে ব্যয় হয় গড়ে একর প্রতি ৪৪৭০ টাকা, চারা আহরণে ব্যয়ের পরিমাণ একর প্রতি ২১৭৫ টাকা, চারা লাগানোয় ব্যয় হয় একর প্রতি ১৫৬৮ টাকা, সেচে ব্যয় হয় একর প্রতি ৩৩৯২ টাকা, কীটনাশকে ব্যয় হয় একর প্রতি ১৮৮১ টাকা। সারে ব্যয় হয় একর প্রতি ১৩৮০৩ টাকা, ফসল আহরণে ব্যয় হয় একর প্রতি ১৭৩৬ টাকা, পরিবহণে ব্যয় হয় একর প্রতি ৮১৩ টাকা। এবং অন্যান্য ব্যয় সহ মোট উৎপাদনের ব্যয় দাঁড়ায় একর প্রতি ৩৭৩৬৪ টাকা।

এর বিপরীতে দেখা গেছে যে পার্বত্য ৫টি জেলায় একর প্রতি উৎপাদন ব্যয় ১০৩০৭ টাকা যার মধ্যে সেখানে সবচাইতে কম ব্যয় হয় সেচে (১৩ টাকা)। কীটনাশকাদী (৩১ টাকা) এবং সারে (২৫৮ টাকা) একর প্রতি ব্যয়ের পরিমাণ ও আপেক্ষিক ভাবে কম। এর তুলনায় সমতল ভূমিতে কলা চাষে একর প্রতি উৎপাদন ব্যয় হয় ৪৫২৯৪ টাকা যার মধ্যে সবচাইতে বেশি ব্যয় হয় (১৭৭৭৩ টাকা) সারে। সমতল এলাকায় প্রতি একরে সেচ বাবদ ব্যয় হয় ৪৩৮২ টাকা এবং আগাছা পরিস্কার করণে ব্যয় হয় ৪৫৫১ টাকা । দৃশ্যত সমতল ভূমিতে কলা উৎপাদনে অধিকতর যত্ন প্রযুক্ত হয় ।

এই জরিপে সারা দেশে কলার একর প্রতি উৎপাদন মূল্য বা দাম ১১৪৬০৬ টাকায় হিসাবকৃত হয়েছে। এর মধ্যে পার্বত্য ৫টি জেলায় উৎপাদন মূল্য বিদিত হয়েছে ২৮৮৭৮ টাকা। বাকী ৫৯ জেলার ক্ষেত্রে উৎপাদন মূল্য হিসাবকৃত হয়েছে ১৪০৫৮২ টাকায়। একর প্রতি উৎপাদন মূল্য সাগর কলার ক্ষেত্রে বিদিত হয়েছে ১৫৮৩৮২ টাকা, সবরি কলার ক্ষেত্রে ১৩৭৯২৯ টাকা। চাপা কলার ক্ষেত্রে ১০৮৫৩২ টাকা, এবং আনাজি কলার বেলায় ১১০৯৬২ টাকা ।

সব প্রকৃতির কলার একর প্রতি গড় উৎপাদন মূল্য সমতল ভূমিতে হিসাবকৃত হয়েছে ১৪০৫৮২ টাকা। আর ৫টি পার্বত্য জেলার ক্ষেত্রে গড় উৎপাদন মূল্য ২৮৮৭৮ টাকায় বিদিত হয়েছে। পার্বত্য এলাকার উৎপাদন মূল্য অন্যান্য এলাকার একর প্রতি উৎপাদনের চেয়ে শতকরা প্রায় ২১ ভাগ কম। এর কারণ সম্ভবত পার্বত্য জেলা সমূহে কলার বিপণন দূর্বল হাটবাজারে চাহিদা কম এবং নগর এলাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিবহনে অপর্যাপ্ততা বিদ্যমান।

জরিপে প্রাপ্ত উপাত্তাদির আলোকে আনাজি কলার ক্ষেত্রে একর প্রতি উৎপাদনশীলতা বিদিত হয়েছে ২.৭৬ এ। দেশের অন্যান্য ফলের এই উৎপাদনশীলতা ক্ষেত্রে পরিমাণ হিসাবকৃত হয়েছে ৩.০৫ এ, চাপা ক্ষেত্রে সবরি কলার ক্ষেত্রে ৩.৩৮ সাগরের ক্ষেত্রে ২.৭৩ এ। সমতল বাংলা কলার উৎপাদনশীলতা হিসাবকৃত হয়েছে ৪.২১ এ এবং জেলা সমূহে আনাজির উৎপাদনশীলতা বিদিত হয়েছে ৫.১৮ এ বা বেশীতে। এর কারণ সম্ভবত: সে এলাকায় আনাজি কলার খাদ্য বিস্তৃত ব্যবহার।

উৎপাদনশীলতার নিরীখে সবরির সর্বোচ্চ সত্ত্বেও চাষ অন্যান্য এলাকায় দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে বলে মনে হয়। কারণ সম্ভবত বিভিন্ন জাতের কলা চাষে বিভিন্ন প্রকৃতির ভূমির লভ্যতা। আটিয়া কলার ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা এ হয়েছে। নিম্নতর উৎপাদন মূল্য সত্ত্বেও একর প্রতি উৎপাদনশীলতায় কলার আপেক্ষিক ভাবে উঁচু স্থানে অবস্থান উৎপাদন প্রকৃয়ায় বেশী নয় বরং কম ব্যয়ের দ্যোতক।

আমাদের দেশ থেকে বিদেশে বার্ষিক কলা কলাজাত পণ্যাদির মূল্য ১১৯২১৩৫ টাকা দেশে কলার চাহিদা বিস্তৃত বলে রফতানি বাড়ছেনা বলে মনে হয়। কলার বহুবিধ ব্যবহার ও সেই লক্ষ্যে বাজারজাতকরণের নজর দেয়া প্রয়োজন। পার্বত্য ৫টি বাণিজ্যিক ভাবে কলা উৎপাদনে যথা প্রয়োজন নজর দেয়া হচ্ছে না প্রতিভাত হয়। পুষ্টির নিরীখে কলা চাষ দেশে বাড়ানো প্রয়োজন।

পার্বত্য এলাকায় বাণিজ্যিক ভাবে কলা চাষের বিস্তৃতি বাড়ানোর বিদ্যমান। এদেশে কলা পরিবহণ ও সংরক্ষণে থাইল্যান্ড গোয়াতেমেলার আপেক্ষিকতায় প্রযুক্তিয় উপকরণ কম প্রয়োগ করা হয়। এ কলার তার সংরক্ষণ পরিবহনে যথাযথ প্রযুক্তিয় উপকরণ করতে হবে। সাম্প্রতিক কালে দেশের কলা বিপণনে মাত্রায় ফরমালিনের ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ যথা প্রয়োজন নজর দেয়া জনস্বার্থিক

বহুবিধ ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও নজর দেয়া কলা চাষের সার্থক হবে। সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন কলা চাষে গবেষণা প্রযুক্তি করে এর প্রাকৃতিক উৎপাদন, মিষ্টতা অন্যান্য গুণাবলী উন্নীত করণ এর সংরক্ষণ বহুবিধ ব্যবহার বাড়ানো। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানী করণের বিপুল সম্ভাবনা বিদ্যমান। আশা করি উপর এই জরিপ প্রতিবেদন এদিকে প্রযুক্তিবিদদের যথার্থ দাবিদার হবে।

কলা চাষের কথা

লেখক – মহিউদ্দীন খান আলমগীর

মহিউদ্দীন খান (মখা) আলমগীর (জন্মঃ ১৯৪২) বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ, লেখক, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রী। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেছিলেন।

আরও পড়ুন:

মেয়েদের আধুনিক নাম ও  ইসলামিক নাম অর্থসহ

মেয়েদের ইসলামিক নাম মুসলিমদের কাছে খুবই গুরুত্বপুর্ন বিষয়। শিশুর নাম, সুন্দর নাম ঠিক রাখার জন্য বাবা মায়ের অনেক মধুর তর্ক বিতর্ক হয়। সবাই চায় তার সন্তানের সুন্দর নাম হোক। তবে অনেক সময় দেখা যায় অভিজ্ঞতা না থাকায়, সুন্দর নাম রাখতে গিয়ে অনেককেই উল্টা পাল্টা নাম রাখেন যা আজীবনের কষ্ট হয়ে থাকে। সুন্দর নাম না হলে মা বাবা হয়ত সাময়িক কষ্ট পায় কিন্তু সন্তানটা কষ্ট পায় আজীবন। তাই অবশ্যই ভালো ভাবে জেনে বুঝে নাম রাখুন। সুন্দর নাম রাখুন। আপনাদের সাহায্য করতেই আমাদের এই উদ্যোগ।

মেয়েদের ইসলামিক নাম রাখার আগে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন:

  • নামের অর্থটি যেন সুন্দর হয়। শুধু নামটা শুনতে ভালো হলেই হবে না, অর্থও ভালো হতে হবে।
  • নামটি উচ্চারণ করা খুব কঠিন যেন না হয়। উচ্চারণ করা কঠিন নাম সবাই বিকৃত করে উচ্চারণ করে। তাতে সবার মন খারাপ হয়।
  • নামের বানানের ক্ষেত্রে যেন “শ,স”ষ” এর ধরনের অক্ষরের কনফিউশন না হয়।
  • দুটি শব্দের নাম হওয়া ভালো। তবে আপনি চাইলে ৪ শব্দ পর্যন্ত রাখতে পারেন।
  • আরবি নাম রাখতে চাইলে নামের সাথে “বিনতে” ব্যবহার করে পিতার নাম যুক্ত করতে পারেন।

 

অ দিয়ে মেয়েদের আধুনিক নাম ও  ইসলামিক নাম অর্থসহ

  • অজিফা = মজুরী বা ভাতা
  • অজেদা = প্রাপ্ত, সংবেদনশীল
  • অনান =একটি রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে একটি মেঘের ছায়া
  • অনিন্দিতা =সুন্দরী
  • অনীশা =কেউ রহস্যময় বা খুব ভাল বন্ধু বলতে পারেন
  • অশীতা=অনেকের দ্বারা পছন্দ করা হয় এমন কেউ
  • অসিলা = উপায় বা মাধ্যম
  • অসীমা = রমনীয়া, সুন্দরী, সুন্দর মুখশ্রী
  • অহিদা = অদ্বিতীয়, অনুপমা
  • অহিনুদ = একক বা অদ্বিতীয়

আ দিয়ে মেয়েদের আধুনিক নাম ও  ইসলামিক নাম অর্থসহ

  • আইদা = বাড়ি ফিরে আসার পুরস্কার
  • আইদাহ = সাক্ষাৎকারিনী
  • আইদাহ =সাক্ষাৎকারিনী
  • আকলিমা = দেশ
  • আকিলা = বুদ্ধিমতি
  • আক্তার = ভাগ্যবান
  • আছীর = পছন্দনীয়
  • আজরা = কুমারী আজরা
  • আজরা আকিলা = কুমারী বুদ্ধিমতী
  • আজরা আতিকা = কুমারী সুন্দরী
  • আজরা আদিবা = কুমারী শিষ্টাচার
  • আজরা আদিলা = কুমারী ন্যায় বিচারক
  • আজরা আনতারা কুমারী বীরাঙ্গনা
  • আজরা আফিয়া = কুমারী পুণ্যবতী
  • আজরা আসিমা = কুমারী সতী নারী
  • আজরা গালিবা = কুমারী বিজয়ীনি
  • আজরা জামীলা = কুমারী সুন্দরী
  • আজরা তাহিরা =কুমারী সতী
  • আজরা ফাহমিদা = কুমারী বুদ্ধিমতী
  • আজরা বিলকিস = কুমারী রানী
  • আজরা মাবুবা = কুমারী প্রিয়া
  • আজরা মায়মুনা = কুমারী ভাগ্যবতী
  • আজরা মালিহা = কুমারী নিস্পাপ
  • আজরা মাসুদা = কুমারী সৌভাগ্যবতী
  • আজরা মাহমুদা = কুমারী প্রশংসিতা (আ দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম)
  • আজরা মুকাররামা = কুমারী সম্মানিত
  • আজরা মুমতাজ = কুমারী মনোনীত
  • আজরা রায়হানা = কুমারী সুগন্ধী ফুল
  • আজরা রাশীদা =কুমারী বিদুষী
  • আজরা রুমালী = কুমারী কবুতর
  • আজরা শাকিলা = কুমারী সুরূপা
  • আজরা সাজিদা =কুমারী ধার্মিক
  • আজরা সাদিয়া =কুমারী সৌভাগ্যবতী
  • আজরা সাবিহা =কুমারী রূপসী
  • আজরা সামিহা = কুমারী দালশীলা
  • আজরা হামিদা = কুমারী প্রশংসাকারিনী
  • আজরা হামোয়রা = কুমারী সুন্দরী
  • আজিজা =সাহসী একটি মেয়ের জন্য একটি জনপ্রিয় নাম
  • আতকিয়া আজিজাহ =ধার্মিক সম্মানিত
  • আতকিয়া আতিয়া = ধার্মিক দানশীল
  • আতকিয়া আদিবা = ধার্মিক শিষ্টাচারী
  • আতকিয়া আদিলা = ধার্মিক ন্যায় বিচারক
  • আতকিয়া আনজুম = ধার্মিক তারা
  • আতকিয়া আনতারা = ধার্মিক বীরাঙ্গনা
  • আতকিয়া আনিকা = ধার্মিক রূপসী
  • আতকিয়া আনিসা = ধার্মিক কুমারী
  • আতকিয়া আবিদা = ধার্মিক ইবাদতকারিনী
  • আতকিয়া আমিনা = ধার্মিক বিশ্বাসী
  • আতকিয়া আয়মান = ধার্মিক শুভ
  • আতকিয়া আয়েশা = ধার্মিক সমৃদ্ধিশালী (মুসলিম মেয়ে শিশুর আধুনিক নাম)
  • আতকিয়া আসিমা = ধার্মিক কুমারী
  • আতকিয়া গালিবা = ধার্মিক বিজয়ীনি
  • আতকিয়া জামিলা = ধার্মিক রূপসী
  • আতকিয়া জালিলাহ = ধার্মিক মহতী
  • আতকিয়া ফাইজা = ধার্মিক বিজয়ীনি
  • আতকিয়া ফাইরুজ = ধার্মিক সমৃদ্ধিশালী
  • আতকিয়া ফাওজিয়া = ধার্মিক সফল
  • আতকিয়া ফাখেরা = ধার্মিক মর্যাদাবান
  • আতকিয়া ফান্নানা = ধার্মিক শিল্পী
  • আতকিয়া ফাবলীহা = ধার্মিক অত্যন্ত ভাল
  • আতকিয়া ফারজানা = ধার্মিক বিদূষী
  • আতকিয়া ফারিহা = ধার্মিক সুখী
  • আতকিয়া ফাহমিদা = ধার্মিক বুদ্ধিমতি
  • আতকিয়া বাশীরাহ = ধার্মিক সুসংবাদ
  • আতকিয়া বাসিমা = ধার্মিক হাস্যোজ্জ্বল
  • আতকিয়া বাসিমা =ধার্মিক হাস্যোজ্জ্বল
  • আতকিয়া বিলকিস = ধার্মিক রানী
  • আতকিয়া বুশরা = ধার্মিক শুভ নিদর্শন
  • আতকিয়া মাদেহা = ধার্মিক প্রশংকারিনী
  • আতকিয়া মায়মুনা = ধার্মিক ভাগ্যবতী
  • আতকিয়া মালিহা =ধার্মিক রূপসী
  • আতকিয়া মাসুমা = ধার্মিক নিষ্পাপ
  • আতকিয়া মাহমুদা = ধার্মিক প্রশংসিতা
  • আতকিয়া মুকাররামা = ধার্মিক সম্মানিত
  • আতকিয়া মুনাওয়ারা = ধার্মিক দীপ্তিমান
  • আতকিয়া মুনাওয়ারা =ধার্মিক দীপ্তিমান
  • আতকিয়া মুরশিদা = ধার্মিক প্রশংসিতা
  • আতকিয়া মুরশিদা =ধার্মিক প্রশংসিতা
  • আতকিয়া মোমেনা = ধার্মিক বিশ্বাসী
  • আতকিয়া মোমেনা =ধার্মিক বিশ্বাসী
  • আতকিয়া লাবিবা = ধার্মিক জ্ঞানী
  • আতকিয়া লাবিবা =ধার্মিক জ্ঞানী
  • আতকিয়া সাঈদা = ধার্মিক পুণ্যবতী
  • আতকিয়া সাদিয়া = ধার্মিক সৌভাগ্যবতী।
  • আতকিয়া সামিহা= ধার্মিক দানশীলা
  • আতকিয়া সাহেবী = ধার্মিক বান্ধবী
  • আতকিয়া হামিদা = ধার্মিক প্রশংসাকারিনী
  • আতকিয়া হামিনা = ধার্মিক বান্ধবী
  • আতিকা = সুন্দরী
  • আতিকা =সুন্দরি।
  • আতিকা তাসাওয়াল = সুন্দর সমতা
  • আতিয় = আগমনকারীণী
  • আতিয়া = উপহার
  • আতিয়া =আগমনকারিণী (মেয়েদের ইসলামিক নাম)
  • আতিয়া আকিলা = ধার্মিক বুদ্ধমতী
  • আতিয়া আজিজা = দানশীল সম্মানিত
  • আতিয়া আদিবা = দালশীল শিষ্টাচারী
  • আতিয়া আনিসা = দালশীলা কুমারী
  • আতিয়া আফিফা = দানশীল সাধবী বান্ধবী
  • আতিয়া আফিয়া = দানশীল পূর্নবতী
  • আতিয়া আফিয়া = ধার্মিক পুণ্যবতী
  • আতিয়া আয়েশা =দানশীল সমৃদ্ধিশালী
  • আতিয়া ইবনাত =দানশীল কন্যা
  • আতিয়া উলফা = সুন্দর উপহার
  • আতিয়া ওয়াসিমা =দানশীল সুন্দরী
  • আতিয়া তাহিরা =দানশীল সতী
  • আতিয়া ফিরুজ = দানশীল সমৃদ্ধিশীলা
  • আতিয়া বিলকিস = দানশীল রানী
  • আতিয়া মাসুদা = দানশীল সৌভাগ্যবতী
  • আতিয়া মাহমুদা = দানশীল প্রসংসিতা
  • আতিয়া যয়নব = দানশীল রূপসী
  • আতিয়া রাশীদা = দানশীল বিদূষী
  • আতিয়া শাকেরা = দানশীল কৃতজ্ঞ
  • আতিয়া শাহানা = দানশীল রাজকুমারী
  • আতিয়া সানজিদা = দানশীল বিবেচক
  • আতিয়া সাহেবী = দানশীল রূপসী |
  • আতিয়া হামিদা = দানশীল প্রশংসাকারিনী
  • আতিয়া হামিনা = দানশীল বান্ধবী
  • আতেরা =সুগন্ধী
  • আদওয়া = আলো
  • আদারা = একটি কুমারী হিসাবে বিশুদ্ধ একটি মেয়ে
  • আদিবা = লেখিকা
  • আদিলা =যে সবার প্রতি সমান
  • আদীবা = মহিলা
  • আদীবা =মহিলা সাহিত্যিক।
  • আদীভা =একটি মহিলার স্পর্শ যা সুন্দর নম্রতা
  • আনওয়ার = জ্যোতিকাল
  • আনজুম = তারা।
  • আনতারা = বীরাঈনা।
  • আনতারা আজিজাহ =বীরাঙ্গনা সম্মানিতা
  • আনতারা আনিকা =বীরাঙ্গনা সুন্দরী
  • আনতারা আনিসা = বীরাঙ্গনা কুমারী
  • আনতারা আসীমা =বীরাঙ্গনা সতীনারী
  • আনতারা খালিদা =বীরাঙ্গনা অমর
  • আনতারা ফায়রুজ =বীরাঙ্গনা সমৃদ্ধিশালী
  • আনতারা ফাহমিদা =বীরাঙ্গনা বুদ্ধিমতী
  • আনতারা বিলকিস = বীরাঙ্গনা রানী
  • আনতারা মালিহা = বীরাঙ্গনা রূপসী
  • আনতারা মাসুদা = বীরাঙ্গনা সৌভাগ্যবতী
  • আনতারা মুকাররামা =বীরাঙ্গনা সম্মানীতা
  • আনতারা মুরশিদা = বীরাঙ্গনা পথ প্রদর্শিকা
  • আনতারা রাইদাহ =বীরাঙ্গনা নেত্রী
  • আনতারা রাইসা = বীরাঙ্গনা রানী
  • আনতারা রাশিদা = বীরাঙ্গনা বিদূষী
  • আনতারা লাবিবা = বীরাঙ্গনা জ্ঞানী
  • আনতারা শাকেরা =বীরাঙ্গনা কৃতজ্ঞ
  • আনতারা শাহানা =বীরাঙ্গনা রাজকুমারী
  • আনতারা সাবিহা =বীরাঙ্গনা রূপসী
  • আনতারা সামিহা = বীরাঙ্গনা দানশালী
  • আনতারা হামিদা =বীরাঙ্গনা প্রশংসাকারিনী
  • আনতারা হোমায়রা = বীরাঙ্গনা সুন্দরী
  • আনবার উলফাত = সুগন্ধী উপহার
  • আনিকা = রূপসী
  • আনিফা = রুপসী
  • আনিফা = রূপসী
  • আনিসা = কুমারী
  • আনিসা = বন্ধু সুলভ
  • আনিসা গওহর =সুন্দর মুক্তা
  • আনিসা তাবাসসুম = সুন্দর হাসি
  • আনিসা তাহসিন = সুন্দর উত্তম
  • আনিসা নাওয়ার =সুন্দর ফুল
  • আনিসা বুশরা =সুন্দর শুভনিদর্শন
  • আনিসা রায়হানা = সুন্দর সুগন্ধী ফুল।
  • আনিসা শামা =সুন্দর মোমবাতি
  • আনিসা শার্মিলা =সুন্দর লজ্জাবতী
  • আফনান = গাছের শাখা-প্রশাখা
  • আফয়া নাওয়ার =পুণ্যবতী ফুল
  • আফরা = সাদা।
  • আফরা আনজুম = সাদা তারা
  • আফরা আনিকা = সাদা রূপসী
  • আফরা আবরেশমী =সাদা সিল্ক
  • আফরা আসিয়া = সাদা স্তম্ভ
  • আফরা ইবনাত = সাদা কন্যা
  • আফরা ইয়াসমিন = সাদা জেসমিন ফুল
  • আফরা ওয়াসিমা = সাদা রূপসী
  • আফরা গওহর = সাদা মুক্তা
  • আফরা নাওয়ার = সাদা ফুল
  • আফরা বশীরা = সাদা উজ্জ্বল
  • আফরা রুমালী = সাদা কবুতর
  • আফরা সাইয়ারা = সাদা তারা
  • আফরিন = ভাগ্যবান
  • আফরোজা = জ্ঞানী।
  • আফসানা = উপকথা
  • আফাফ =একটি সহজ এবং শুদ্ধ মেয়ে
  • আফিফা = সাধ্বী
  • আফিফা সাহেবী =সাধবী বান্ধবী
  • আফিয়া =পুণ্যবতী।
  • আফিয়া আকিলা = পুণ্যবতী বুদ্ধিমতী
  • আফিয়া আজিজাহ = পুণ্যবতী সম্মানিত
  • আফিয়া আদিবা = পুণ্যবতী শিষ্টাচারী
  • আফিয়া আদিলাহ = পুণ্যবতী ন্যায়বিচারক
  • আফিয়া আনজুম = পুণ্যবতী তারা
  • আফিয়া আনতারা = পুণ্যবতী বীরাঙ্গনা
  • আফিয়া আনিসা = পুণ্যবতী কুমারী
  • আফিয়া আফিফা = পুণ্যবতী সাধ্বী আফিয়া
  • আফিয়া আবিদা = পুণ্যবতী ইবাদতকারিনী
  • আফিয়া আমিনা =পুণ্যবতী বিশ্বাসী
  • আফিয়া আয়মান =পুণ্যবতী শুভ
  • আফিয়া আসিমা =পুণ্যবতী সতী নারী
  • আফিয়া ইবনাত = পুণ্যবতী কন্যা
  • আফিয়া জাহিন = পুণ্যবতী বিচক্ষন
  • আফিয়া নাওয়ার = পুণ্যবতী ফুল
  • আফিয়া ফাহমিদা = পুণ্যবতী বুদ্ধিমতী
  • আফিয়া বিলকিস = পুণ্যবতী রানী
  • আফিয়া মাজেদা = পুণ্যবতী মহতি
  • আফিয়া মালিহা = পুণ্যবতী রূপসী
  • আফিয়া মাসুমা = পুণ্যবতী নিস্পাপ
  • আফিয়া মাহমুদা = পুণ্যবতী প্রশংসিতা
  • আফিয়া মুকারামী =পুণ্যবতী সম্মানিতা
  • আফিয়া মুতাহারা =পুণ্যবতী পবিত্র
  • আফিয়া মুনাওয়ারা = পুণ্যবতী দিপ্তীমান
  • আফিয়া মুবাশশিরা = পুণ্যবতী সুসংবাদ বহনকারী
  • আফিয়া মুরশিদা = পুণ্যবতী পথ প্রদর্শিকা
  • আফিয়া যয়নাব =পুণ্যবতী রূপসী
  • আফিয়া শাহানা =পুণ্যবতী রাজকুমারী
  • আফিয়া সাইয়ারা = পুণ্যবতী তারা
  • আফিয়া সাহেবী অর পুণ্যবতী বান্ধবী
  • আফিয়া হামিদা = পুণ্যবতী প্রশংসাকারিনী
  • আফিয়া হুমায়রা = পুণ্যবতী রূপসী
  • আফ্রা = জীবনের রঙ এবং পৃথিবী মা
  • আবিদা = কুমারী ইবাদতকারিনী
  • আবিদা ঈশ্বরের অনুগত উপাসক
  • আবির =একটি মাতাল করা সুবাস
  • আব্লা =সম্পূর্ণরূপে গঠিত একটি মহিলা
  • আমতুল্লা =ঈশ্বরের প্রিয় সেবিকা
  • আমাল =বিশ্বের আশা যে বহন করে আনে
  • আমিনা = নিরাপদ।
  • আমিনাহ = বিশ্বাসী
  • আমীনা = আমানত রক্ষাকারণী
  • আমীরা =উপাসনা ও উর্ধ্বতন কেউ
  • আমীরাতুন নিসা = নারীজাতির নেত্রী
  • আয়মান = শুভ
  • আয়মান উলফাত = শুভ উপহার
  • আয়মানা = শুভ।
  • আযহা উজ্জল আজিজা = সম্মানিতা
  • আয়েশা = সমৃদ্ধিশালী
  • আরজা = এক
  • আরজু = আকাঙ্ক্ষা।
  • আরমানী =আশাবাদী।
  • আরিফা = প্রবল বাতাস
  • আরীকাহ =কেদারা।
  • আরো = সুগন্ধী
  • আলমাস = একটি মেয়ে যে একটি হীরার মত জ্বলজ্বলে
  • আলিমা = একজন অত্যন্ত শিক্ষিত এবং বুদ্ধিমান নারী
  • আলিয়া = উচ্চমর্যাদা সম্পন্না
  • আশরাফী = সম্মানিত।
  • আশেয়া = সমৃদ্ধিশীল
  • আসমা = অতুলনীয়।
  • আসমা আকিলা = অতুলনীয় বুদ্ধিমতী
  • আসমা আতিকা = অতুলনীয় সুন্দরী
  • আসমা আতিয়া = অতুলনীয় দানশীল
  • আসমা আতেরা = অতুলনীয় সুগন্ধী
  • আসমা আনিকা = অতুলনীয় রূপসী
  • আসমা আনিসা = অতুলনীয় কুমারী
  • আসমা আফিয়া =অতুলনীয় পুণ্যবতী
  • আসমা আরো = অতুলনীয় সুগন্ধী
  • আসমা উলফাত = অতুলনীয় উপহার
  • আসমা গওহার = অতুলনীয় মুক্তা
  • আসমা তাবাসসুম = অতুলনীয় হাসি
  • আসমা নাওয়ার = অতুলনীয় ফুল
  • আসমা মালিহা = অতুলনীয় রূপসী
  • আসমা মাসুদা = অতুলনীয় সৌভাগ্যবতী
  • আসমা রায়হানা = অতুলনীয় সুগন্ধী ফুল
  • আসমা সাদিয়া = অতুলনীয় সৌভাগ্যবতী
  • আসমা সাবিহা = অতুলনীয় রূপসী
  • আসমা সাহানা =অতুলনীয় রাজকুমারী
  • আসমা সাহেবী =অতুলনীয় বান্ধবী
  • আসমা হোমায়রা = অতুলনীয় সুন্দরী
  • আসমাহ = সত্যবাদীনী।
  • আসিফা = শক্তিশালী।
  • আসিয়া = শান্তি স্থাপনকারী
  • আসিলা = নিখুঁত
  • আসীলা = চিকন
  • আহলাম = স্বপ্ন
  • আহলাম = স্বপ্ন আতিকা
  • আহাদ =একটি মহিলা যিনি সবসময় তার প্রতিশ্রুতি রাখেন
  • আহ্লাম =একটি স্বপ্রতিভ এবং চালাক মহিলা
মেয়েদের আধুনিক নাম, মেয়েদের ইসলামিক নাম, মুসলিম মেয়েদের নাম [ Name of Girls, Name of Muslim Girls ]

ই দিয়ে মেয়েদের আধুনিক নাম ও  ইসলামিক নাম অর্থসহ

  • ইকমান = এক আত্মা এক মন হৃদ
  • ইজদিহার = সমৃদ্ধা, উন্নতশীল, প্রস্ফুটিত
  • ইজরা = উদার হৃদয়, সাহায্যকারিণী
  • ইজা = অভিবাদন, সম্মান
  • ইজাহ = শক্তি
  • ইজ্জত = প্রতিপত্তি / সম্মান
  • ইতিকা = অশেষ
  • ইদবা = উদ্ভাবনী, নতুনত্ব
  • ইদেন্যা = প্রশংসনীয় নারী
  • ইনবিহাজ = সকলকে আনন্দদায়িনী নারী
  • ইনসিয়া = যে সকলের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকে
  • ইনায়া =যে সবার ভাল মঙ্গল সম্পর্কে উদ্বিগ্ন
  • ই-নিকা = প্রত্যাশা পূরণ, উত্তর-পূর্ব কোণের অন্তর্গত
  • ইনিভির = বুদ্ধিমতী, মেহবৎসল
  • ইন্তিজার =ইন্তেজারের সঙ্গে বিভ্রান্ত হবেন না, এই শব্দ বিজয় বোঝায়
  • ইফতিখারুন্নিসা = নারী সমাজের গৌরব
  • ইফতিখারুন্নিসা = নারীসমাজের গৌরব
  • ইফফাত = পবিত্রা নারী
  • ইফফাত ওয়াসীমাত = সতী সুন্দরী
  • ইফফাত কারিমা = সতী দয়াবতী
  • ইফফাত তাইয়িবা = সতী পবিত্রা
  • ইফফাত ফাহমীদা = সতী বুদ্ধিমতী
  • ইফফাত মুকাররামাহ = সতী সম্মানিতা
  • ইফফাত যাকিয়া = পবিত্ৰা বুদ্ধিমতী
  • ইফফাত সানজিদা = সতী চিন্তাশীলা
  • ইফফাত হাসিনা = সতী সুন্দরী (মুসলিম মেয়ে শিশুর নাম ই দিয়ে)
  • ইফাত = উত্তম / বাছাই করা
  • ইফাত হাবীবা = সতী প্রিয়া
  • ইবতিসাম = হাসি, সকলের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলে যে
  • ইবতেহাজ = পুলক, আনন্দ
  • ইবশার = সুসংবাদ প্রাপ্ত হওয়া
  • ইবা = শ্রদ্ধা, সম্মান, গর্ব
  • ইবাবল্লী = সুখী রমণী
  • ইব্বানি = কুহেলী, কুয়াশা
  • ইমান = আস্থা, বিশ্বাস
  • ইমান =বিশ্বাস রাখার পূর্ণ
  • ইমানী = ভরসাযোগ্য, সৎ, বিশ্বাসযোগ্য
  • ইমিনা = সৎ, সম্ভ্রান্ত মহিলা
  • ইয়াকীনাহ = নিশ্চয়তা | দৃঢ়বিশ্বাস
  • ইয়াকূত = মূল্যবান পাথর
  • ইয়াসমিন = ফুলের নাম / জেছমিন
  • ইয়াসমীন জামীলা = সুগন্ধিফুল সুন্দর
  • ইয়াসমীন যারীন = সানোলী জেসমীন ফুল
  • ইয়াসীরাহ = আরাম / স্বাচ্ছন্দ
  • ইয়ুমনা = আশীষ / সৌভাগ্য
  • ইয়ামামা =বনের মধ্যে থাকা চঞ্চল প্রকৃতির ঘুঘু
  • ইয়ামীনা =একটি মহিলা যাকে সঠিক পথে আনা হয়েছে
  • ইয়ারা =একটি প্রজাপতির মতো সুন্দর এবং নমনীয়
  • ইরতিজা = অনুমতি
  • ইরফানা = বিশ্বাসী
  • ইরাম = স্বর্গ, স্বর্গের দরজা।
  • ইলহাম = যে নারী তার চারপাশের সকলের জন্য এক
  • ইলহাম =তার চারপাশে সবার জন্য অনুপ্রেরণা একটি মেয়ে
  • ইলিজা = বহুমূল্য, সবচেয়ে আলাদা, মূল্যবান
  • ইল্মীরিয়া = মহিয়সী, মহামান্বিতা, প্রতাপশালিনী
  • ইশতিমাম = ঘ্রাণ নেয়া
  • ইশফাক = করুণা
  • ইশফাকুন নেসা = মাতৃ / জাতির দয়া
  • ইশরত = অন্তরঙ্গতা / বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক
  • ইশরাত = উত্তম আচরণ
  • ইশরাত জামীলা = সদ্ব্যবহার সুন্দরী
  • ইশরাত সালেহা = উত্তম আচরণ পুণ্যবতী
  • ইশাআত = আলোক রশ্মির বিকিরণ
  • ইশাত = বসবাস
  • ইশানা = সমৃদ্ধশালিনী
  • ইসতিনামাহ = আরাম করা
  • ইসমত = প্রতিরোধ / সাধুতা / সতী
  • ইসমত সাবিহা = সতী সুন্দর
  • ইসমাত = বিশুদ্ধতা, পূণ্যবতী
  • ইসমাত আফিয়া = পূর্ণবতী।
  • ইসমাত আফিয়া = সতী / পুণ্যবতী
  • ইসমাত আবিয়াত = সতী সুন্দরী স্ত্রীলোক
  • ইসমাত বেগম = সতী-সাধ্বী মহিলা
  • ইসমাত মাকসুরাহ = সতী পর্দানিশীন স্ত্রীলোক
  • ইসমাত মাহমুদা = সতী প্রশংসিতা
  • ইসরা = নৈশ যাত্রা
  • ইহীনা = আবেগ, উৎসাহ শক্তি
মেয়েদের আধুনিক নাম, মেয়েদের ইসলামিক নাম, মুসলিম মেয়েদের নাম [ Name of Girls, Name of Muslim Girls ]

ঈ দিয়ে মেয়েদের আধুনিক নাম ও  ইসলামিক নাম অর্থসহ

  • ঈফাত = উত্তম বা বাছাই করা
  • ঈফাত হাবীব = সতী প্রিয়া
  • ঈশরাত = উত্তম আচরণ
  • ঈশরাত সালেহা = উত্তম আচরণ পুণ্যবতী
  • ঈশাত = সুসংবাদ প্রাপ্ত হওয়া
  • ঈসমাত মাকসুরাহ = সতী, পর্দানিশীল মহিলা
মেয়েদের আধুনিক নাম, মেয়েদের ইসলামিক নাম, মুসলিম মেয়েদের নাম [ Name of Girls, Name of Muslim Girls ]

উ দিয়ে মেয়েদের আধুনিক নাম ও  ইসলামিক নাম অর্থসহ

  • উক্তি = কথা, বাণী
  • উগ্বাদ = গোলাপ ফুল
  • উগ্রগন্ধা = এক ঔষধি
  • উগ্রতেজসা = শক্তি, এনার্জি, শক্তি
  • উচ্চলা = অনুভূতি, সংবেদন
  • উজমা = সব থেকে মহান, সবচেয়ে ভালো
  • উজয়াতি = বিজয় লাভ করেছে যে, বিজয়ী
  • উজালা = যে আলো ছড়ায়
  • উজেশ = জয়, বিজয়
  • উজ্জয়িনী = প্রাচীন শহর
  • উজ্জীতি = বিজয়, জয় লাভ
  • উজ্জীবনী = আশাবাদী, জীবনে পূর্ণ
  • উজ্জীয়ো = ভগবানের শক্তি
  • উজ্জ্বলতা = বৈভব, দীপ্তিমান, সৌন্দর্য
  • উজ্জ্বলরূপা = একজন পবিত্র ও ধর্মবতী নারী
  • উজ্জ্বলা = উজ্জ্বল, যার থেকে জ্যোতি বেরোয়
  • উঞ্জালী = আশীর্বাদ
  • উডেলা = সম্পন্ন, ধনী, ধনবান
  • উৎকলা = উৎকল অর্থাৎ উড়িষ্যার সাথে সম্বন্ধিত
  • উৎকলিকা = একটি তরঙ্গ, কৌতূহল, কুঁড়ি
  • উৎকলীনা = ভব্য, চমৎকার
  • উৎকাশনা = প্রভাবশালী
  • উৎপত্তি = সৃষ্টি, রচনা, নির্মাণ
  • উৎপন্না = উৎপন্ন হওয়া, এক একাদশীর নাম
  • উৎপলা = পদ্ম ফুল, একটি নদীর নাম
  • উৎপলিনী = পদ্ম ফুলে পূর্ণ পুকুর
  • উৎপালা = কমল, পদ্ম
  • উৎপোলাক্ষী = যার চোখ পদ্মের মতো, দেবী লক্ষ্মী
  • উৎলিকা = স্রোত, জলের স্রোতের সঙ্গে এগিয়ে আসে যে
  • উৎসা = বসন্ত ঋতু
  • উৎসুকা = কিহু জান্র ইচ্ছা আছে যার (উ দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম)
  • উতাইকা = উদারতা, ধার্মিকতা, পূণ্য
  • উতারা = উচ্চতর, উত্তর, একটি তারা, রাজা বিরটের কন্যা
  • উত্তমজ্যোতি = দিব্য আলো
  • উত্তমপ্রীত = ঈশ্বরের ভক্তিতে পূর্ণ
  • উত্তমলীনা = পরমাত্মার প্রেমে ডুবে থাকে যে
  • উত্তরা = উত্তর দিক, মহাভারতে অভিমন্যুর স্ত্রীর নাম, উচ্চতর
  • উত্তরিকা = কিছু দেওয়া, প্রদান করা
  • উত্তরীকা = নদী পার করা
  • উথমা = অসাধারণ, বিশেষ
  • উথমী = যে বিশ্বাসযোগ্য
  • উথামী = সৎ, সত্য, কপটহীন
  • উথীশ = সত্যবাদী, সৎ
  • উদন্তিকা = সমাধান, সন্তুষ্টি
  • উদয়জোত =বাড়তে থাকা আলো
  • উদয়তি = উপরে ওঠা, উত্থান
  • উদয়শ্রী = সূর্যোদয়
  • উদয়া = সূর্যের উদয় হওয়া
  • উদরঙ্গা = যার শরীর সুন্দর
  • উদারমতি = বুদ্ধিমান, উদার
  • উদিতা = যার উদয় হয়েছে
  • উদিশা = নতুন ভোরের প্রথম আলো
  • উদীচী = যে সমৃদ্ধির সাথে উন্নতি লাভ করে
  • উদীতী = উদিত হচ্ছে যে, উন্নতি, ওঠা, বৃদ্ধি
  • উদীপ্তি = আলো থেকে বেরিয়ে আসে যে
  • উদুলা = উচিত, ন্যায়
  • উদেষ্ণা = সূর্যরশ্মি
  • উদ্গীতা = একটি মন্ত্র, ভগবান শিবের নাম
  • উদ্বিতা = পদ্ম ফুলে ভরা দীঘি
  • উদ্বুদ্ধা = জাগরিত, প্রবুদ্ধ
  • উদ্ভবী =সৃষ্টি, প্রতিষ্ঠার সাথে উন্নতি করে যে
  • উদ্ভুতি = অস্তিত্ব, যা আসতে চলেছে
  • উদ্যতি = উঁচু, ক্ষমতা
  • উধয়রনী = সম্রাজ্ঞী, যে রাণী সবসময় সফল হয়
  • উনজা = একমাত্র, যার মতো কেউ নেই
  • উনশিকা = দেবী দুর্গার আর এক নাম
  • উনাইজি = সৌন্দর্য এবং নমনীয়তায় – যিনি একটি ছোট মহিলা হরিণের মতো
  • উনিতা = এক, অখণ্ডতা
  • উনীসা = অমায়িক, বন্ধুত্বপূর্ণ
  • উনৈসা = প্রিয়, আদরের পাত্রী
  • উন্নতা = বেশি ভাল, শ্রেষ্ঠ
  • উন্নয়া = যার স্রোত আছে, রাত
  • উন্নিকা = স্রোত, তরঙ্গ
  • উন্নী = নেতৃত্ব, বিনয়ী
  • উন্মুক্তি = মুক্তি, উদ্ধার
  • উন্মেষা = লক্ষ্য, উদ্দেশ্য
  • উপকীরণ = মহিমা, স্তুতি
  • উপকোষা = ধন, নিধি
  • উপদা = উপহার, উদার
  • উপধৃতি = আলোর ছটা
  • উপমা = প্রশংসা, সবথেকে ভালো
  • উপমিতি = জ্ঞান
  • উপলা = পাথর, গহনা, একটি রত্ন
  • উপশ্রুতি = দেবদূত
  • উপাজ্ঞা = আনন্দ, প্রসন্নতা
  • উপাধি = স্তর, পদবী, উপনাম
  • উপাসনা = পূজা, অর্চনা
  • উপাস্তি = পূজা করা, শ্রদ্ধা
  • উবাব = তরঙ্গ, ভারী বৃষ্টি
  • উবায়া = সুন্দর
  • উবিকা = বৃদ্ধি, বিকাশ, প্রগতি
  • উমতি = যে অন্যদের সাহায্য করে
  • উমনিয়া = আশা, ইচ্ছা, অভিনব
  • উমরাহ = গৌণ তীর্থযাত্রা
  • উমরাহ্‌ = হজের দিন ছাড়া মক্কায় যাত্রা
  • উমা = দেবী পার্বতী, অনন্ত জ্ঞান, আলো, শান্তি
  • উমাইরা = ওমরাহ করতে
  • উমাঙ্গী = আনন্দ, খুশী, প্রসন্নতা (মেয়ে শিশুর নাম তালিকা)
  • উমামা = তিনশো উট
  • উমায়ের = দীর্ঘায়ু বৃক্ষ
  • উমায়জা = সুন্দর, উজ্জ্বল, যার হৃদয় কোমল
  • উমায়রা = দীর্ঘ আয়ু যার
  • উমায়া = দেবী পার্বতীর নাম
  • উমারাণী = রাণীদের রাণী, মহারাণী
  • উমালক্ষ্মী = দেবী পার্বতীর নাম
  • উমিকা = দেবী পার্বতী
  • উমীকা = সুন্দর নারী
  • উমৈমা = সুন্দর, যার মুখ খুব সুন্দর
  • উম্মিদ =অপ্রত্যাশিত আশার জন্য আরেকটি শব্দ
  • উম্মুল হানা = সুখ এবং শান্তির উৎস
  • উম্মে আইমান = আশীর্বাদ
  • উম্মে হামদি = এমন এক মহিলা যিনি সৃষ্টিকর্তার প্রশংসা করেন এবং প্রায়ই ধন্যবাদ জানান
  • উম্রিয়া = উপহার
  • উম্লোচা = অপ্সরা
  • উযরাত = কুমারীত্ব, সতীত্ব, বিশুদ্ধতা
  • উযাইয = শক্তি, সম্মান
  • উযাইযা = পরাক্রমশালী, শক্তিশালী
  • উরা = হৃদয়, পৃথিবী
  • উরাইদা = ছোট ফুল
  • উরাইফা = ভাল গন্ধ
  • উরুদ = ফুল, গোলাপ
  • উরুষা = উদার, ক্ষমা, পর্যাপ্তভাব
  • উরূষা = বধূ, খুশী
  • উর্ণা = যাকে বেছে নেওয়া হয়েছে, আবরণ, আচ্ছাদন
  • উর্বরা = এক অপ্সরা, পৃথিবীর এক নাম, উর্বর
  • উর্বশী = স্বর্গের অপ্সরা, খুব সুন্দর নারী
  • উর্বিজয়া = গঙ্গা নদীর এক নাম
  • উর্বী = নদী, পৃথিবী, স্বর্গ এবং পৃথিবী একযোগে
  • উর্ভী = রাজকুমারী
  • উর্শিতা = দৃঢ়, মজবুত
  • উলানী = সুখ, প্রসন্নতা
  • উলিমা = চতুর, বুদ্ধিমান
  • উলুপী = মহাভারতে অর্জুনের চার স্ত্রীর মধ্যে একজন
  • উল্কা = আগুন, প্রদীপ, মহাজাগতিক বস্তু, প্রতিভাশালী
  • উল্ফাহ = সদ্ভাব, অন্তরঙ্গতা, প্রেম
  • উল্বিয়ত = গৌরব, প্রতিষ্ঠা
  • উল্লসিতা = আনন্দিত, হর্ষ, আশায় পূর্ণ
  • উল্লাসিতা = মত্ত, খুশী, সুখ
  • উশসী = ভোর বা সকাল
  • উশিকা = দেবী পার্বতীর একটি নাম
  • উশিজা = যে অলস নয়, সুখকর, ইচ্ছুক, ইচ্ছা থেকে জন্ম হয়েছে যার
  • উশী = ইচ্ছা, মনস্কামনা
  • উষতা = রশ্মি, সবসময় সুখ
  • উষানা = ইচ্ছুক
  • উষ্ণা = সুন্দর নারী
  • উষ্তা = সবসময় খুশী, আলো
  • উসমানা = শিশু সাপ
  • উসরী = একটি নদী
  • উসোয়া = প্রেম, সাদা পায়রার মতো সুন্দর যে
  • উস্টীন্যা = উচিত, সত্য
  • উস্রা = প্রথম রশ্মি, সূর্যোদয়, পৃথিবী
  • উহাইবা = উপহার/দান
মেয়েদের আধুনিক নাম, মেয়েদের ইসলামিক নাম, মুসলিম মেয়েদের নাম [ Name of Girls, Name of Muslim Girls ]

ঊ দিয়ে মেয়েদের আধুনিক নাম ও  ইসলামিক নাম অর্থসহ

  • ঊজূরী = সৌন্দর্য
  • ঊনী = যে সাথে থাকে
  • ঊন্যা = তার, স্রোতযুক্ত, তরঙ্গময়
  • ঊবাহ = এক ফুল
  • ঊর্জা = এনার্জি, শক্তি, ক্ষমতা, শ্বাস
  • ঊর্বা =বৃহৎ, বিশাল
  • ঊর্বীনা = সখী, বন্ধু
  • ঊর্মিমালা = তরঙ্গের মালা, স্রোতময়ী, নদী
  • ঊর্মিলা = তরঙ্গের মালা
  • ঊর্মিলা = রামায়ণে লক্ষ্মণের স্ত্রী, বিনমত্র
  • ঊর্মিষা = সংবেদনায় পূর্ণ নারী
  • ঊলা = সমুদ্রে পাওয়া যায় এমন রত্ন
  • ঊষা = সকাল, ভোর
  • ঊষাকিরণ = ভোরের সূর্যের কিরণ
  • ঊষার্বী = সকালে গাওয়া হয় এমন রাগ
  • ঊষাশ্রী = সুন্দর, সুখদায়ী
মেয়েদের আধুনিক নাম, মেয়েদের ইসলামিক নাম, মুসলিম মেয়েদের নাম [ Name of Girls, Name of Muslim Girls ]

এ দিয়ে মেয়েদের আধুনিক নাম ও  ইসলামিক নাম অর্থসহ

  • এনা = প্রদীপ্ত, মাধুর্যমন্ডিত
  • এরিনা = রঙ্গভূমি, কর্মক্ষেত্র, শান্তি
  • এরিশা = বক্তৃতা বা ভাষণ
  • এলিনা = উন্নত চরিত্রের নারী, বুদ্ধিদীপ্ত, দয়ালু, শুদ্ধ
  • এশা = পবিত্র, সমৃদ্ধ জীবন
মেয়েদের আধুনিক নাম, মেয়েদের ইসলামিক নাম, মুসলিম মেয়েদের নাম [ Name of Girls, Name of Muslim Girls ]

ঐ দিয়ে মেয়েদের আধুনিক নাম ও  ইসলামিক নাম অর্থসহ

  • ঐশানী = সাহসী, পবিত্র
  • ঐশিতা = পবিত্র জল, নদী, যমুনা
মেয়েদের আধুনিক নাম, মেয়েদের ইসলামিক নাম, মুসলিম মেয়েদের নাম [ Name of Girls, Name of Muslim Girls ]

ও দিয়ে মেয়েদের আধুনিক নাম ও  ইসলামিক নাম অর্থসহ

  • ওমায়রা =সাহস এবং শক্তির রঙ, লাল
  • ওয়াকীলা = প্রতিনিধি
  • ওয়াজদিয়া = আবেগময়ী / প্রেমময়ী
  • ওয়াজিয়া = সুন্দরী
  • ওয়াজীহা = সুন্দরী
  • ওয়াজীহা মুবাশশিরাহ = সম্ভ্রান্ত সুসংবাদ বহন কারিণী
  • ওয়াজীহা শাকেরা = সম্ভ্রান্ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারিণী
  • ওয়াজেদাহ = সংবেদনশীল
  • ওয়াদীফা = সবুজঘন বাগান
  • ওয়াদীয়াত = কোমলমতি / আমানত
  • ওয়াদীয়াত খালিসা = কোমলমতী উত্তম স্ত্রীলোক
  • ওয়াফা = অনুরক্ত
  • ওয়াফিয়া আত্বিয়া = অনুগতা দানশীলা।
  • ওয়াফিয়া তায়িবা = অনুগতা পবিত্রা
  • ওয়াফিয়া সাদিকা = অনুগতা সত্যবাদিনী
  • ওয়াফিয়া সানজিদা = অনুগতা সহযোগিনী
  • ওয়াফিয়াহ = অনুগত / যথেষ্ট
  • ওয়াফীকা = সামঞ্জস্য
  • ওয়াফীয়া জিন্নাত = অনুগতা সম্রান্ত স্ত্রীলোক
  • ওয়াফীয়া মুকারামা = অনুগতা সম্মানিতা
  • ওয়ামিয়া = বৃষ্টি
  • ওয়ারিসা = উত্তরাধিকারিনী
  • ওয়ালীজা = বাংলা অর্থ – প্রকৃত বন্ধু
  • ওয়ালীদা = বালিকা
  • ওয়ালীয়া = বান্ধবী / হিতকারী
  • ওয়াশিজাত = পরস্পরের আত্মীয়তা
  • ওয়াসামা = চমৎকার
  • ওয়াসিজা = উপদেশ দাতা
  • ওয়াসিফা = প্রশংসাকারিণী
  • ওয়াসিফা আনিকা = গুনবতী রূপসী
  • ওয়াসিলা = সাক্ষাৎ কারিণী
  • ওয়াসীকা = প্রমাণ / বিশ্বাস, প্রত্যয়পত্র
  • ওয়াসীমা = সুন্দরী / লাবণ্যময়ী
  • ওয়াসীমা জিন্নাত = সুন্দরী সম্রান্ত স্ত্রীলোক
  • ওয়াসীমা তায়্যেবা = সুন্দরী পবিত্রা
  • ওয়াসীমা মাকসূরা = সুন্দরী পর্দানশীন স্ত্রীলোক
  • ওয়াস্বীকা = বিশ্বাসী
  • ওয়াহফাত = আওয়াজ / কালো পাথর
  • ওয়াহফুন = ঘন কালো কেশ
  • ওয়াহিদা = এক / একলা / একাকী
  • ওয়াহীদা = একক / চিরণ
  • ওরদাহ কাসিমাত = গোলাপী চেহারা
  • ওরাত = গোলাপী
মেয়েদের আধুনিক নাম, মেয়েদের ইসলামিক নাম, মুসলিম মেয়েদের নাম [ Name of Girls, Name of Muslim Girls ]

ক দিয়ে মেয়েদের আধুনিক নাম ও  ইসলামিক নাম অর্থসহ

  • করিনা = সঙ্গিনী
  • করিনা হায়াত = জীবন সঙ্গিনী
  • করিবা = নিকটবর্তী, ঘনিষ্ঠ
  • করিরা = আনন্দিতা
  • কাওকাব = তারকা
  • কাওকাব হাসনা = চমৎকার তারকা
  • কাওছার = জান্নাতের ঝরনা
  • কাওয়াবাত = সন্ধ্যা তাঁরা
  • কাজেমা = ক্রোধ সম্বরণকারিণী
  • কাতরুন = মহত্ত্ব
  • কাতৃরুন্নাদা = মহত্ত্বের বিন্দু
  • কাতেমা = যে নারী অপরের দোষ গােপন রাখে
  • কাদিমা = অগ্রসর, আগত
  • কাদিরা = কিছু অর্জন করতে সক্ষম এমন একজন মহিলা
  • কাদিরা = শক্তশাললা
  • কাদীরা = শক্তিশালী, সমর্থ
  • কানিজ = অনুগতা
  • কানিজ = অনুগতা
  • কানিজ ফাতিমা = অনুগতা নিস্পাপ শও
  • কানিজ মাহফুজা = অনুগতা সুরক্ষিতা
  • কাবশা = দুম্বা
  • কামরা = জোৎস্না, শুভ্র
  • কামরুন = ভাগ্য
  • কামরুন = ভাগ্য
  • কামরুন্নিসা = মহিলাদের চাঁদ
  • কামারুন = চাঁদ
  • কামেলা = পরিপূর্ণ, পূর্নাঙ্গ (মুসলিম মেয়ে শিশুর নাম ক দিয়ে)
  • কায়েদা = নেত্রী, প্রধান, লিডার
  • কারিমা =একটি মেয়ে যে অত্যন্ত উদার
  • কারিমা দিলশাদ = উচ্চমনা মনােহারিনী
  • কারীনা = সঙ্গিনী স্ত্রী
  • কারীমা = দানশীলা, উচ্চমনা
  • কালিমা = কথোপকথন কারিনী
  • কালিমা মুশতারী = কথোপকথন কারি বৃহস্পতি গ্রহ
  • কালিমাতুনমুন্নিসা = কথোপকথন কারি রমণী
  • কালিলা =সব সবচেয়ে প্রিয় একজন
  • কাসি মাতুত তায়্যিবাহ = পবিত্র চেহারা
  • কাসিদা মুকাররামা = সংবাদ বহনকারিনী সম্মানিত
  • কাসিমাত = সৌন্দর্য, চেহারা
  • কাসিমাতুন নাযীফাহ = পরিচ্ছন্ন চেহারা
  • কাসীদা = গীত, কবিতা
  • কাসীবা = উপার্জনকারী
  • কিনানা = সাহাবির নাম
  • কিসমত গালিবা = ভাগ্য বিজয়ীনি
  • কিসমাত = ভায়, অংশ, ভাগ
  • কুদওয়া = আদর্শ
  • কুদরত = শক্তি, ক্ষমতা
  • কুবরা = বৃহৎ, বড়
  • কুবরা মারজানা = বড়মুক্তা, বৃহৎ প্রবাল
  • কুররাতুল আইন = নয়নমনি
  • কুরুন্নাদা = সুগন্ধময়কাঠের টুকরো
  • কুলছুম = দানশীলা
  • কুলছুম বেগম = দানশীলা মহিলা
  • কুহল = সুরমা
মেয়েদের আধুনিক নাম, মেয়েদের ইসলামিক নাম, মুসলিম মেয়েদের নাম [ Name of Girls, Name of Muslim Girls ]

খ দিয়ে মেয়েদের আধুনিক নাম ও  ইসলামিক নাম অর্থসহ

  • খাইরাতুন = সৎকর্মশীলী নারী
  • খাইরিয়া = দানশীলা
  • খাওয়ালা = সাহবীয়ার নাম / খেদমতগার
  • খাতিজা = অন্ধভাবে যে বিশ্বাস করতে পারে
  • খাতীবা বাংলা অর্থ = বাগ্মী
  • খাতীবা মাজীদা = বাগ্মী
  • খাদিজাতুল কুবরা = জ্যেষ্ঠ খাদিজা / বড় খাদিজা
  • খাদিজাতুল সায়মা = রোজা পালনকারী খাদিজা
  • খাদীজা = রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রথম স্ত্রী
  • খাদেমা = সেবিকা
  • খাদেমা হুসনা = পূণ্যবতী সেবিকা
  • খানসা = সাহাবীয়ার নাম / খাঁদানাক
  • খানেছা দিলরুবা = বিশুদ্ধ প্রেমিকা
  • খাবীনা = ধন ভাণ্ডার
  • খাবীরা = অবগত | অভিজ্ঞ
  • খামিরা = আটার খামিরা
  • খায়রুন নিসা = উত্তম রমণী
  • খালিদ মাহযু = অমর ভাগ্যবতী
  • খালিদা রিফাত = অমর উচ্চ মর্যাদাবান
  • খালীলা = বান্ধবী / সখী
  • খালীলা রেফা = উত্তম বান্ধবী
  • খালেছা = বিশুদ্ধা / সরল
  • খালেদা = অমর / চিরন্তর
  • খালেদা মাহফুজা = চির সংরক্ষিত
  • খালেদা সাদিয়াহ = অমর সৌভাগ্যশালিনী
  • খীফাত = হালকা
  • খীফাত আনজুম = হালকা তাঁরা
  • খুরশিদা = সূর্য / আলো
  • খুরশিদা জাহান = সুর্য রশ্মিনী পৃথিবী
  • খেলআত = উপহার

 

*** এই আর্টিকেলটির উন্নয়ন চলমান। নিয়মিত নতুন নাম যুক্ত করা হচ্ছে। তাই আবারো ভিজিট করার অনুরোধ রইলো।

আরও পড়ুন:

আজ শুরু হচ্ছে বুস্টার ডোজ এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ,মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সই এবং বেনাপোলএক্সপ্রেস পরিবর্তনে ক্ষোভ যাত্রীদের

ঢাকা-মালে এর আজ শীর্ষ বৈঠক এবং বিশ্বব্যাংক,বাংলাদেশকে ৪২৫০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে

ঢাকা-মালে এর আজ শীর্ষ বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছয় দিনের সফরে গতকাল বুধবার বিকেলে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে পৌঁছেছেন। মালদ্বীপের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আহমেদ খলিল ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহর আমন্ত্রণে তিনি এ সফর করছেন।

ঢাকা-মালে এর আজ শীর্ষ বৈঠক

এদিকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহর সঙ্গে বৃহস্পতিবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালেতে আজ বৈঠক শেষে দুই দেশ দুটি চুক্তি ও দুটি সমঝোতা স্মারক সই করতে পারে। সম্ভাব্য চুক্তি দুটি দ্বৈত কর পরিহার এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়ে। সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকগুলো বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা বিজ্ঞান (নবায়ন) এবং দুই দেশের যুব ও ক্রীড়া ক্ষেত্রের উন্নয়নে সহযোগিতা বিষয়ে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আজ বাংলাদেশ মালদ্বীপকে ১৩টি সামরিক যান উপহার দেবে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ দুটির মধ্যে বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে মালদ্বীপের চাহিদা অনুযায়ী সামরিক যানগুলো উপহার দেওয়া হচ্ছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজ মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানাবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল নাসিম, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ নাশিদ এবং সে দেশের প্রধান বিচারপতি উজ আহমেদ মুতাসিম আদনান সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপের পার্লামেন্টে ভাষণ দেবেন। এ ছাড়া আজ সন্ধ্যায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজ সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরসূচি অনুযায়ী শেখ হাসিনা আগামীকাল শুক্রবার মালেতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া সংবর্ধনায় ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী আগামী সোমবার বিকেলে ঢাকা পৌঁছবেন।

বিশ্বব্যাংক,বাংলাদেশকে ৪২৫০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে

দেশে আধুনিক, নির্ভরযোগ্য এবং টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়তে বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে)।

(২২ ডিসেম্বর)বুধবার  বিশ্বব্যাংক এর ওয়াশিংটন অফিস এই ঋণটির জন্য অনুমোদন দিয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক এর ঢাকা অফিস।

ঢাকা অফিস হতে জানানো হয়েছে, বিশ্বব্যাংক এর ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন মডার্নাইজেশন কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে এই ঋণটি অনুমোদন দিয়েছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যান ড্যান চেন বলেন, গত দশকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা চারগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৯৯ শতাংশেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক উৎপাদনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি। এই প্রোগ্রামটি বিতরণ নেটওয়ার্কের আধুনিকীকরণ এবং টেকসহ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে, যা একটি নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য পাওয়ার সিস্টেমের মেরুদণ্ড।

প্রোগ্রামটি একটি আধুনিক গ্রিড সিস্টেম চালু করবে, যা বিদ্যুৎ এবং তথ্যের দ্বিমুখী প্রবাহকে সমর্থন করতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনাসহ জলবায়ু এবং সাইবার ঝুঁকি থেকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করবে প্রকল্পটি। এটি সুপারভাইজরি কন্ট্রোল এবং ডেটা অধিগ্রহণ সিস্টেমের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি চালু করবে এবং উন্নত মিটারিং অবকাঠামো চালু করবে। এটি বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কে নবায়ন শক্তি এবং ব্যাটারি শক্তি স্টোরেজ সিস্টেমের একীকরণের সুবিধার মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন করবে। এই সবই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার টেকসই রূপান্তর ঘটাবে।

বিশ্বব্যাংক এর সিনিয়র এনার্জি স্পেশালিস্ট আর প্রোগ্রামের টিম লিডার বিপুল সিং বলেছেন, ২০০৯ সাল হতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এর  বিশ্বের বৃহত্তম গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেতে সক্ষম হয়েছে। ৯ কোটির বেশি মানুষের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে দিয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। এই প্রোগ্রামটি নির্ভরযোগ্যভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ আর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এর ক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে।

বিশ্বব্যাংকের অঙ্গভুক্ত প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) নমনীয় শর্তে এ ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশকে। এখানে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরের মেয়াদ রয়েছে। এছাড়াও, প্রোগ্রামটিতে ক্লিন টেকনোলজি ফান্ড হিসেবে ১৫ মিলিয়ন অনুদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই কর্মসূচিসহ, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণের জন্য বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিশ্বব্যাংকের ১৮০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ চলমান সহায়তা রয়েছে। ১৯৮১ সাল থেকে বিশ্বব্যাংক পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এর বিদ্যুতায়ন ব্যবস্থা শক্তিশালীভাবে করতে কাজ করছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা চলমান রেখে আইডিএ। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। স্বাধীনতার পর থেকে সংস্থাটি বাংলাদেশে ৩৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অনুদান, সুদ-মুক্ত ঋণ, ঋণ এবং শহত শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

[ঢাকা-মালে এর আজ শীর্ষ বৈঠক এবং বিশ্বব্যাংক,বাংলাদেশকে ৪২৫০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে]

অন্যান্য খবর সম্পর্কে জানুন:

প্রথম আলো: ওয়ারীতে ময়লাবাহী ট্রাকের চাপায় আবার গেল প্রাণ

বাংলাদেশের খবর সাইটটি ব্যবহার করায় আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে “যোগাযোগ” আর্টিকেলটি দেখুন, যোগাযোগের বিস্তারিত দেয়া আছে।