জয়পুরহাট জেলা হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেন্টারের উদ্বোধন আগামীকাল

জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেন্টারের উদ্বোধন করা হবে আগামীকার মঙ্গলবার ।

জয়পুরহাটে  আধুনিক জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: সরদার রাশেদ মোবারক জানান, জাতীয় সংসদের হুইপ ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি মঙ্গলবার আধুনিক জেলা হাসপাতালে ওই ডায়ালাইসিস সেন্টারের উদ্বোধন করবেন।

এতে  অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল জয়-পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতাল। মেডিক্যাল কলেজের বাইরে জেলা হাসপাতাল গুলোতে ডায়া-লাইসিস সেন্টারের উদ্বো-ধন দ্বিতীয় হচ্ছে জয়-পুরহাট। প্রথম জেলা হাস-পাতালে ডায়া-লাইসিস সেন্টারের উদ্বো-ধন করা হয়েছিল সিরাজগঞ্জে।

ডা: সরদার রাশেদ মোবারক আরও জানান, জয়-পুরহাটের কিডনী রোগীদের ডায়ালাইসিস করার জন্য দিনাজপুর, বগুড়া অথবা নওগাঁতে যেতে হতো। এতে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হতো রোগীদের।  এসব মিলে জয়-পুরহাট আধুনিক জেলা হাস-পাতালে ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু করার জন্য দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল জেলা বাসীর।

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির  সার্বিক তত্বাবধানে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জয়-পুরহাট আধুনিক জেলা হাস-পাতালে চালু হতে যাচ্ছে ডায়া-লাইসিস সেন্টারের।

বিনা চিকিৎসায় একজন মানুষও যেন মারা না যায় এবং স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোর গোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বর্তমান সরকারের  নির্বাচণী অঙ্গীকার পূরণে কাজ করে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সরকার।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, জেলা আধুনিক হাসপাতালে ইতোমধ্যে ১০ বেডের আইসিইউ ইউনিট চালু করা হয়েছে। আর্টিফিসিয়াল শ্বাস প্রশ্বাস চালানোর জন্য ভেনটিলেটর মেশিন, অটোমেটিক শিরিঞ্জ পাম্প মেশিন, কার্ডিয়াক মনিটর স্থাপন এখানে পালস, প্রেসার, অক্সিজেন সেচুরেশন এবং ইসিজি করা যাবে।

৬০ থেকে ৮০ লিটার পার মিনিটে অক্সিজেন সাপ্লাই দেওয়ার জন্য হাইফ্লোনেজাল ক্যানোলা স্থাপন, শ্বাসনালী পরিষ্কার করার জন্য সাকার মেশিন, শ্বাস প্রশ্বাস ঠিক রাখার জন্য বিপেপ এবং সিপেপ, হঠাৎ বন্ধ হওয়া হার্টকে শক দিয়ে সচল করার জন্য ডিফিব্রিলেটর স্থাপন এবং প্রতিটি বেডের বিপরীতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন, একটি ইয়ার ও একটি ভ্যাকিউম লাইন সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

ফলে এখন থেকে আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন এমন রোগীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আর বাইরের কোন হাসপাতালে যেতে হবে না। ১০ বেডের কোভিড ইনটেনসিভ কেয়ার ইফনিট ( আইসিইউ) প্রস্তুত করার জন্য সরকারের বরাদ্দের পাশাপাশি স্থানীয় সহায়তায়  প্রায় সোয়া কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র বাসস’কে জানায়, ৫০ শয্যা থেকে  ১৯৯৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারিী ১০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে এর কার্যক্রম শুরু করা হয়। অবকাঠামোগত সুবিধা থাকায় একই জনবল দিয়ে ২০০৬ সালের ১৬ জুলাই ১শ ৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু করা হয়।

জেলার ১২ লক্ষাধিক লোকের জন্য জেলা আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হলেও আধুনিক সুযোগ সুবিধা ও স্বাস্থ্য সেবার মান ভাল হওয়ায় পার্শবর্তী নওগাঁ জেলার ধামুইরহাট, বদলগাছী উপজেলা, দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট উপজেলা, গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা ও বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ রোগী আসে জয়-পুরহাট জেলা হাস-পাতালে।

ফলে ১০০ বেডের হাসপাতাল হলেও সব সময় আড়াইশ থেকে তিনশ রোগী ভর্তি থাকেন এখানে। জেলাবাসীর ২৫০ শয্যায় উন্নীত করনের দাবির প্রেক্ষিতে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী জয়-পুরহাট জেলা হাসপাতালকে ১০০ থেকে ২৫০ বেডে উন্নীত করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

অনুমোদিত প্রাক্কলন মূল্য হচ্ছে ৩৬ কোটি ৩৩ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৩ টাকা। এখানে ১২ তলা ফাউন্ডেশনে ৭তলা পর্যন্ত অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে।

৪০ টি গাড়ি রাখার পাকিং বেজমেন্টসহ, ৪টি লিফ্ট, অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন জরুরী বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজি, রেডিওলজি বিভাগ, এ্যানেসথেসিয়া, ইমেজিং বিভাগ, মেল-ফিমেল সার্জারী বিভাগ, গাইনী অবসসহ ক্যান্টিন ও মেডিক্যাল ষ্টোর রয়েছে।

জেলা গণপূর্ত বিভাগের তত্বাবধানে জয়েন্ট ভেন্সার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিবিএল-কেটি নির্মাণ কাজ করছেন। ইতোমধ্যে  অবকাঠামো  নির্মাণ কাজ ও   যন্ত্রপাতিও বসানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

জেলা আধুনিক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য বিশিষ্ট্য সমাজসেবক রাজা চৌধুরী বলেন, জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতে সরকার ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এতে জেলার সাধারণ মানুষ উন্নত মানের চিকিৎসা সেবা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

২৫০ শয্যার এ জেলা হাস-পাতালের ৯৮ ভাগ কাজ সমাপ্ত হয়েছে এটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল পদায়নের কাজ চলছে বলে জানান, জেলা আধুনিক হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: সরদার রাশেদ মোবারক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫০ শয্যার এ জেলা হাসপাতাল ভবনের উদ্বো-ধন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও দেখুনঃ

গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্য ফেরাতে অনন্য ভূমিকা রাখছেন ভারতী রাণী সেন

রংপুরের গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হতদরিদ্র সনাতন পরিবারে জন্মগ্রহণকারী  এক সংগ্রামী নারী ভারতী রাণী সেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নারী সমাজকে সংগঠিত করে  গ্রামবাসীদের ভাগ্য পরিবর্তনের এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তিনি এখন ঐ অঞ্চলে নারীর ক্ষমতায়নের আইকন হয়ে উঠেছেন।রংপুর সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়নের গ্রামীণ প্রত্যন্ত এলাকা গঙ্গাদাস বরাইপাড়া গ্রামে  ১৯৭৭ সালে তার জন্ম। নয় সদস্যের পরিবারে ভারতী রাণী সেন তার তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে পঞ্চম।

গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চরম দারিদ্র্যের কারণে শৈশব থেকেই  ভারতী রাণী সেনকে অনেক কষ্টে বেড়ে উঠতে হয়েছে। অসংখ্য বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করে তাকে এগুতে হয়েছে। মাত্র ছয় বছর বয়সে বাড়ীর উঠানে খেলার সময় একটি তীর ভারতীর ডান চোখে আঘাত করলে  ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান তিনি।

সম্প্রতি বাসস’র সাথে তার জীবনের কঠিন পথপরিক্রমার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভারতী রাণী সেন বলেন, “ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর, আমার বাবা-মা আমার ভবিষ্যত নিয়ে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়েন। স্কুলের সহপাঠীরা আমাকে এড়িয়ে চলত। ফলে, হতাশার মধ্যেই আমাকে জীবনকে বয়ে নিতে  হয়।”

১৯৯৩ সালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার আগে পরিবারে চরম অভাব-অনটনের কারণে, হতদরিদ্র বাবা-মা প্রতিবেশী দরিদ্র দিনমজুর শুশীল চন্দ্র সেনের সাথে তার বিয়ে দেন। তার পড়াশোনার সমাপ্তি ঘটে।” ১৯৯৫ সালে তার প্রথম সন্তান কন্যা সঞ্চিতা রানী সেনের জন্ম  হয়। পরে আরো দুই পুত্র সাগর চন্দ্র সেন এবং প্রদীপ চন্দ্র সেনের জন্ম হয়।

ভারতী  বলেন, “পরিবারের পাঁচ সদস্যের জন্য প্রতিদিন খাবারের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। আমার স্বামী প্রায়শ:ই অসুস্থ হওয়ায় নিয়মিত কাজে যেতে পারতেন না।”

এমন পরিস্থিতিতে ভারতীর সহোদর এক বড় ভাই তার মেয়ে সঞ্চিতাকে লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহন করেন এবং এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাকে পাত্রস্থ করেন। পরিবারে অভাবের কারণে তার বড় ছেলে সাগরকে ক্লাস সেভেনেই পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে এবং একটি হোটেলে মাসিক ৫০০ টাকা বেতনে চাকরি নিতে হয়।

তিনি বলেন “আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। কারণ আমি আশা করেছিলাম, আমার সন্তানরা লেখাপড়া শেষ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে।”

২০০৫ সালে ভারতী স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের একটি মাটি কাটা প্রকল্পে সুপারভাইজার হিসাবে চাকরি পান।  তিনি বলেন, “আমি প্রতি মাসে ১,৮০০ টাকা বেতনে উক্ত প্রকল্পে দু’বছর কাজ করেছি।

প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পরে আমার জীবনে আবারো ভোগান্তি বেড়ে যায়।” ২০০৭ সালে ভারতী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি প্রকল্পের অধীনে স্থানীয় এক কিলোমিটার রাস্তার পাশে রোপণ করা আম, তাল, কাঁঠাল, জলপাই, বরই এবং খেজুর গছের চারা পরিচর্যা করার আরেকটি কাজ পান।

তিনি বলেন, “প্রকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি দু’বছর রোপণ করা চারাগুলোর যতœ করে প্রতি মাসে ৭০০ টাকা আয় করেছি। গাছগুলি এখন স্থানীয় গ্রামবাসীদেরকে প্রচুর পরিমানে ফল দিচ্ছে।”

প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পর বেঁচে থাকার জন্য জীবন সংগ্রাম ছেড়ে না দিয়ে, ভারতী জীবিকা অর্জনের জন্য কাজের সন্ধান অব্যাহত রাখেন।

২০০৯ সালে এসকেএস ফাউন্ডেশন নমের একটি এনজিও’র কর্মকর্তারা কেয়ার বাংলাদেশের ’সোস্যাল এন্ড ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন অব দি আল্ট্রা পুওর (সেতু)’ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী একটি অংশীদার সংস্থা হিসাবে অত্যন্ত দরিদ্র এলাকা নির্বাচন করতে উক্ত গ্রামে গিয়েছিলেন।

প্রকল্পটি তার এলাকার দরিদ্রদের জীবনযাত্রার উন্নতি করতে পারে ভেবে, ভারতী প্রকল্পটির সাথে জড়িত হতে চান। তার দৃঢ আগ্রহ দেখে এসকেএস কর্মকর্তারা ভারতীকে প্রকল্পের জন্য বেছে নেন।

ভারতী রাণী সেন তার এলাকার মানুষের জন্য কমিউনিটি নেতৃত্ব, সঞ্চয়ী দল ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ  আরও কয়েকটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এনজিও-টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ‘পাড়া’ থেকে ১৪০ জন স্থানীয় নেতাদের নিয়ে হরিদেবপুর ইউনিয়ন ন্যাচারাল লিডারস অর্গানাইজেশন (এনএলও) গঠন করে।

ভারতী এটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এতে করে জনগণের দাবি বাস্তবায়নের জন্য ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তার যোগাযোগ ও যাতায়াত বৃদ্ধি পায়। এসময় তিনি তার গ্রামবাসীদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে তাদের জীবনে একটি রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনার কথা ভাবেন।

কারণ তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম দারিদ্র্য এবং সামাজিক অভিশাপের দুষ্ট চক্রে আটকা পড়েছিলেন। প্রকল্পটির কমিউনিটি নেতৃত্বাধীন সমন্বিত উন্নয়ন পদ্ধতি মানবসম্পদ, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক মূলধন বৃদ্ধির মাধ্যমে রূপান্তরমূলক পরিবর্তনের জন্য পরিবেশকে সহজতর করে।

বাসস’র সাথে আলাপকালে গ্রামবাসীদের মুখেই ভারতীর সংগ্রামী জীবনের বর্ণনা মিলে। তারা জানান যে, কীভাবে তারা ২০০৯ সালে ভারতী’র নেতৃত্বে কাজ করে  চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

ঐ গ্রামের গৃহবধু মংলি রানী সেন বলেন, “আমরা প্রথমে আমাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে সেগুলো সমাধানের সিদ্ধান্ত নিতাম।” গ্রামবাসীরা শুধু প্রকল্পের অনুদানই ব্যবহার করেননি বরং স্থানীয় সম্পদ, সম্ভাবনাকে একত্রিত করে ব্যবহার এবং সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহন করেন।

রোগের প্রধান কারণ হিসাবে উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগের অনুশীলনকে চিহ্নিত করেন। মাত্র তিন মাসের মধ্যে ভারতীর নেতৃত্বে গ্রামবাসীরা নিজস্ব সংগঠন গড়ে তোলেন এবং গ্রামের ৬২টি হতদরিদ্র পরিবারকে নিজেদের উদ্যোগে শতভাগ স্যানিটেশন কভারেজের আওতায় আনতে সক্ষম হন।

সেসময় প্রতিবছর আশ্বিন-কার্তিক মাসে মাঠে ফসল না থাকায় গ্রামবাসীদের সাময়িক অভাব-অনটনে পড়তে হত। তা মোকাবিলা করার জন্য তারা ৩৭ জন সদস্য নিয়ে ভারতীকে সাধারণ সম্পাদক করে ‘বরাইপাড়া উইমেন সেভিংস গ্রুপ গঠন করেন।

প্রকল্পটির অন্যান্য সুবিধাভোগীদের মতো যমুনা রানী সেন জানান, তিনি ২০১১ সালে বিডব্লিউএসজি থেকে ৮,০০০ টাকা সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে পার্শ্ববর্তী পানবাজারে তার স্বামী অন্ন চন্দ্র সেনের পান ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। যমুনা রানী বলেন, “আমরা এখন স্বচ্ছল জীবন যাপন করার জন্য ভাল উপার্জন করছি।

আমাদের ছেলে অর্জুন এবং গৌতম হাঁস-মুরগির খামারে কাজ করে এবং ছোট ছেলে অজয় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।” অপর এক উপকারভোগী শ্যামল চন্দ্র সেন জানান, তিনি ২০১১ সালে প্রকল্প থেকে একটি রিকশা ভ্যান পেয়েছিলেন।

এখন স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপনের জন্য মালামাল ও যাত্রী বহন করে ভালো আয় করছেন। এছাড়াও, বিভিন্ন ধরণের আয়বর্ধক কার্যক্রম শুরুর জন্য তাদের দক্ষতার উপর নির্ভর করে প্রকল্পটি প্রতিটি নির্বাচিত পরিবারকে ৭,৫০০ থেকে ১৪,০০০ টাকা পর্যন্ত অনুদান প্রদান করে।

ভারতীর সঠিক নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় তাদের সবাই এখন ভালো আয় করে স্বচ্ছল জীবন-যাপন করছেন এবং তাদের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে।  ভারতী নিজ উদ্যোগে তখন স্কুলের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে কোচিং চালু করেন। তার অনেক শিক্ষার্থী এখন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর শ্রেনীতে অধ্যয়নরত।

স্থানীয় জনগণের অনুরোধে ভারতী ২০১৫ সালে হরিদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মহিলা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। তিনি কোন খরচ ছাড়াই উক্ত পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন ভাতা, ভিজিডি, ভিজিএফসহ অন্যান্য সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রামবাসীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন।

ফলে, উক্ত গ্রামে কেউ এখন আর অভাবী নেই। এভাবে ভারতী রাণী সেন জীবনের প্রতিটি বাধাকে জয় করে নারীর ক্ষমতায়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

আরও দেখুনঃ

জয়পুরহাট জেলা হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেন্টারের উদ্বোধন আগামীকাল

বরিশাল নগরীকে মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে বিসিসি

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মবার্ষিকী আগামীকাল

গ্রামীণ ইতিহাস

ভাগ্য

 

ভোজ্যতেলের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

খুচরা পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ভোজ্যতেল বিক্রয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেন, ‘আমরা সকল সংস্থাকে বলেছি-সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য, কোথাও যেন কোন কারচুপি না হয়। যে দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে, সেই দামে যেন তেল বিক্রি হয়।’

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে  বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজার এবং পাশর্^বর্তী দেশগুলোর বাজার  পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের দাম যতদূর কম রাখা যায়, আমরা সেই চেষ্টা করব।’

সোমবার সচিবালয়ে ভোজ্য-তেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

টিপু মুনশি জানান, ঈদের সময় ভোজ্য-তেলের সরবরাহ ঘাটতি হওয়ার পেছনের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা গেছে। তিনি বলেন, ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে তেল মজুদ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ফলে, সরবরাহের ক্ষেত্রে ঘাটতি তৈরি হয়। সেজন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দোকানে দোকানে ও ডিলার পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করছে, তারা জরিমানাও করছে। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের এসোসিয়েশনকে আমরা বলেছি-যারা এই অসাধু কাজ করেছে তাদের ডিলারশিপ বাতিল করতে। এমনকি তাদেরকে মনিটরিং করতেও বলেছি আমরা।

তিনি আরও জানান, ভোজ্য-তেলের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাবের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে, সেটিও নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে মুল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সরকার গত ৫ মে বোতলজাত সয়াবিন তেল ১ লিটার ১৯৮ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮০ এবং পামতেল ১৭২ টাকা নির্ধারণ করে। সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির পাশাপাশি ভোক্তারা দোকানে গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাণিজ্য-মন্ত্রী জানান, গরীব মানুষের উপর থেকে মূল্য বৃদ্ধির চাঁপ কমানোর জন্য ১ কোটি পরিবারকে সাশ্রয়ী মূল্যে ভোজ্য-তেল সরবরাহ করা হবে। তিনি বলেন, ১ কোটি পরিবারকে যেভাবে টিসিবির মাধ্যমে অন্যান্য নিত্যপণ্য দেওয়া হয়েছে।

সেভাবে তাদেরকে ভোজ্য-তেল দেওয়া হবে। তিনি মনে করেন ১ কোটি পরিবার সহায়তা পাওয়ার অর্থ হলো ৫ কোটি মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।
ভোজ্য-তেলের দাম নির্ধারণের পদ্ধতির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে টিপু মুনশি বলেন, সরকার চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করেছিল ১৬৮ টাকায়।

জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে কি পরিমান পণ্য, কত দামে খালাস হয়, এর সাথে ভ্যাট, ট্যাক্স এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে একটা গড় দাম নির্ধারণ করা হয়। তিনি জানান, এরপর সয়াবিন তেলের উপর থেকে ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলে ৮ টাকা কমিয়ে ১৬০ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়।

মন্ত্রী জানান, রমজান মাসে ভোজ্য-তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং মূল্য না বাড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি ব্যবসায়ীরা সরকারকে দিয়েছিল সেটি তারা সঠিকভাবে পালন করেননি। তবে, সামনের দিনগুলোতে যেন কোন ধরনের সমস্যা তৈরি না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক আছি।
আন্তর্জাতিক বাজার ও পাশর্^বর্তী দেশের ভোজ্যতেলের মূল্য পরিস্থিতি তুলে ধরে টিপু মুনশি জানান, ভারতে বর্তমানে ১ লিটার সয়াবিন তেল বাংলাদেশী টাকায় ২১৩ থেকে ২২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, পাকিস্তানে ২৩৬ থেকে ২৩৮ টাকা, নেপালে ১৯৭ থেকে ২১৪ টাকায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি মেট্রিক টন সয়াবিন তেল ২০০০ মার্কিন ডলার।

আর প্রতি মেট্রিক টন পামতেল ১৯৫০ ডলার। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের মুল্য বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে দেশবাসীকে সচেতন করার ব্যাপারে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।


বাংলাদেশে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সরকারের এই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী জানান, তারা রমজান মাসের কারণে পামতেল রপ্তানি বন্ধ রেখেছিল। তবে, আবার তারা রপ্তানি শুরু করবে বলে জানিয়েছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আফজাল হোসেন, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও দেখুনঃ

উন্নয়নে শ্রমিক-মালিকের পরিপূরক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন ও দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে শ্রমিক-মালিকদের একে অপরের প্রতি দায়িত্বশীল ও পরিপূরক ভূমিকা পালনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

কোন সমস্যার সৃষ্টি হলে অহেতুক বিদেশিদের পিছনে না ছুটে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘কোন একটি কারখানা যদি তৈরী হয় তাহলে মালিক সেখানে পুঁজি দেয় আর শ্র-মিক শ্রম দেয়। মা-লিকের পুঁজি এবং শ্র-মিকের শ্রম নিয়েই কারখানা চালু থাকে, উৎপাদন বাড়ে এবং দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধশালী হয়।’

‘একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করতে গেলে  সকলের দায়িত্ব থাকে আর সেক্ষেত্রে মালিকের দায়িত্ব থাকে শ্রমিকের ওপর অন্যদিকে শ্রমিকের দায়িত্ব থাকে মালিকের ওপর,’ উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধান-মন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান মে দিবস উদযাপন উপলক্ষে  শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আজ প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

তিনি বলেন, যে কারখানা পরস্পরের রুটি রুজি এবং জীবন জীবিকার ব্যবস্থা করে তা যেন ভাল ভাবে সচল থাকে সেটা যেমন শ্র-মিকের দেখার দায়িত্ব, তেমনি শ্র-মিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি পাচ্ছে কিনা এবং তাদের জীবন মান উন্নত হচ্ছে কি না বা কাজের পরিবেশ পাচ্ছে কি না সেটাও মা-লিকদের দেখতে হবে। তাহলেই উৎপাদন বাড়বে এবং মা-লিক, দেশ এবং শ্র-মিক সকলেই লাভবান হবে।

আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে এদেশের শ্র-মিক, কৃষক, মেহেনতি জনতার ভাগ্য পরিবর্তনে এবং জাতির পিতার যে আকাঙ্খা এদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো- সে প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধান-মন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমাদের দেশকে উন্নত করার ক্ষেত্রে  এই শ্র-মিক শ্রেনীর অবদানটা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। শ্র-মিক এবং মা-লিকদের মধ্যে যদি সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক না থাকে তবে কখনই উন্ন-য়ন হয় না।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মুজিবুল হক এবং বাংলাদেশে আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পটিয়ানেন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।

জাতীয় শ্র-মিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নূর কুতুব আলম মান্নান শ্র-মিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি আর্দাশির কবির মা-লিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. এহছানে এলাহী স্বাগত বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকান্ডের ওপর একটি ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান-মন্ত্রীর পক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ১০ শ্র-মিক পরিবারের মধ্যে শ্র-মিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তার চেকও বিতরণ করেন।

তাঁর সরকার শ্র-মিকদের জীবন মান উন্ন-য়নে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও কতিপয় শ্র-মিক নেতার বিদেশিদের কাছে নালিশ জানানো প্রবনতার সমালোচনাও করেন প্রধান-মন্ত্রী।

প্রধান-মন্ত্রী অনুষ্ঠানে আরো বলেন, আমরা যে শ্র-মিকদের জন্য এত কাজ করেছি তারপরেও আমরা দেখি যে, আমাদের দেশে কিছু কিছু শ্র-মিক নেতা আছেন তারা কোন বিদেশি বা সাদা চামড়া দেখলেই তাদের কাছে নালিশ করতে খুব পছন্দ করেন।

প্রধান-মন্ত্রী বলেন, আমি জানি না এই মানসিক দৈন্যতা কেন, নাকি এরসঙ্গে অন্য কোন স্বার্থ জড়িত আছে, সেটা আমি জানি না।
আওয়ামী লীগ যতক্ষণ সরকারে রয়েছে এবং প্রধান-মন্ত্রী হিসেবে তিনি যতক্ষণ ক্ষমতায় রয়েছেন সে সময় দেশের ভেতর শ্র-মিকদের যে কোন সমস্যা তিনি সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমি এটা বিশ্বাস করি-কোন সমস্যা হলে আমাদের দেশের মা-লিক এবং শ্র-মিকরা একসঙ্গে বসে সেটা সমাধান করতে পারেন। কাজেই কেন নিজের দেশের বিরুদ্ধে অন্যের কাছে বলতে বা কাঁদতে যাব। আমরাতো এটা চাই না। কেননা, বাংলাদেশ তার আত্মমর্যাদা নিয়েই চলবে।

প্রধান-মন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি সেই সব শ্র-মিক নেতাদের বলব- আপনারা বিদেশের কাছে গিয়ে কান্নাকাটি না করে আপনাদের যদি সমস্যা থাকে আমার কাছে আসবেন। আমি শুনব। মা-লিকদের কাছ থেকে যদি কিছু আদায় করতে হয় তাহলে আমি আদায় করে দেব। আমিই পারব। এটা আমি বলতে পারি।

শ্র-মিকদের কয়েক দফায় মজুরি বৃদ্ধি এবং মা-লিক-শ্র-মিক কল্যাণে গৃহীত তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধান-মন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্র-মিক ও তাঁদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষা, কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনাজনিত কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে অথবা মৃত্যুবরণ করলে এবং জরুরি ও দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানে ‘বাংলাদেশ শ্র-মিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল’ গঠন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ শ্র-মিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে অনেক মা-লিকের টাকা না দেওয়াকে দুঃখজনক বলেও উল্লেখ করেন সরকার প্রধান।


তিনি বলেন, মা-লিকদের যেটা এখানে নির্দিষ্ট রয়েছে তারা তা এখানে জমা দেবেন। কিন্তু অনেকে তা দেন না। এটা খুব দুঃখজনক। আমি মনে করি, এটা যথাযথভাবে দেওয়া উচিত। একজন যখন বিপদে পড়ে তখন তার পাশে দাঁড়াতে হবে।

শিশু শ্রম বন্ধে তাঁর সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধান-মন্ত্রী বলেন, আমাদের শিশুরা শ্রম না দিয়ে তারা আগে শিক্ষা গ্রহণ করবে। এটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। শিশু শ্রম যাতে বন্ধ হয় তার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। তাদেরকে আমরা স্কুলে পড়ানোর ব্যবস্থা নিচ্ছি, ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ ব্যাপারে আমাদের যে নীতিমালা ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোন শিশু শ্রম থাকবে না।

তিনি বলেন, এখানে একটু ব্যতিক্রম আছে। কিছু কিছু ট্রেডিশনাল কাজ থাকে সেগুলো যদি ছোট বেলা থেকে রপ্ত না করে তবে তাদের পৈত্রিক যে কাজগুলো বা ব্যবসাগুলো সেগুলো চালু থাকবে না। কারণ, এটা হাতে কলমে কিছু শিক্ষা।

কিন্তু সেটা কোন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ নয়। কোন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কোন শিশুকে ব্যবহার করা যাবে না। সেটা আমরা বন্ধ করেছি। কিন্তু তাদের যে ট্রেডিশনাল ট্রেনিং সেটা বাবা-মায়ের সঙ্গে বসে তারা করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে তিনি পারিবারিক তাঁত শিল্পে জড়িত অনেক শিশুকে ছোটবেলা থেকেই কাজে সম্পৃক্ত হতে হয় বলে উদাহারণ দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার এই আদর্শই তাঁর সরকারের আদর্শ এবং এই আদর্শ নিয়েই তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সেই সোনার বাংলাদেশও একদিন ইনশাল্লাহ গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।

প্রধানমন্ত্রী মে দিবস উপলক্ষ্যে সকল শ্রমজীবী মানুষকে তাঁর অভিনন্দন জানান এবং  ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে আত্মাহুতি দানকারি শ্র-মিকদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন, তাঁরা রক্তের অক্ষরে এই দিবসটি লিখে রেখে গেছে বলেই তাঁদের অবদানের জন্য শ্র-মিকরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার পাচ্ছে।

কাজেই আমাদের শ্র-মিক মা-লিক উভয়েই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলবেন সেটাই আমি চাই।

যে কারণে এবারের মে দিবসের মূল প্রতিপাদ্য- ‘শ্র-মিক মালিক একতা, উন্ন-য়নের নিশ্চয়তা’ যথোপযুক্ত হয়েছে এবং এই প্রতিপাদ্য নিয়েই আগামীতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আরও দেখুনঃ

গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্য ফেরাতে অনন্য ভূমিকা রাখছেন ভারতী রাণী সেন

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে শহীদজননীর কর্মজীবন আমাদের পাথেয় : মোস্তাফা জব্বার

অনলাইনে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন অনেকেই

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস

উন্নয়নের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (বাংলাদেশ)

বরিশাল নগরীকে মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে বিসিসি

শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বরিশাল নগরীকে মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ও নগরবাসীর উন্নয়নে কাজ করছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)।
বি-সিসি-এর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নগরীর ভৌত অবকাঠমো উন্নয়নে প্রকৌশল বিভাগের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে টেকসই উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে রাস্তা, ড্রেন, ব্রিজ, কালভার্ট ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠমো নির্মাণ হচ্ছে।

“আমরাই গড়বো আগামীর বরিশাল নগরী” এ স্লেøাগানকে সামনে রেখে বিসিসি-এর বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সুনির্দিষ্ট নেতৃত্বে সুপরিকল্পিত মডেল নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিসিসি’র সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র আরো জানায়, জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক (কেএফডাব্লিউ)-এর ৮০ ভাগ অর্থায়নে ও ২০ ভাগ সরকারী অর্থায়নে বি-সিসি কর্তৃপক্ষ নগরীর যানজট নিরসন ও জনকল্যাণমুখী যে সব প্রকল্প হাতে নিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম প্রকল্প হচ্ছে।

যথাক্রমে, প্রায় ১০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ নং ওয়ার্ডস্থ নগরীর পলাশপুর সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প (সম্পন্ন) এবং ভাটিখানা সড়ক ও ড্রেন সংস্কার প্রকল্পের কাজ (সম্পন্ন)।

বি-সিসি’র নিজস্ব অর্থ্যায়নে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর সোনালী আইসক্রিম মোড় সড়ক সংস্কার (চলমান), প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বান্দ রোড সড়ক  সংস্কার (চলমান) কাজ ও প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ্যাপোল সড়ক নির্মাণ প্রকল্প (চলমান), প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সেবক কলোনী নির্মাণ প্রকল্প (সম্পন্ন), প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর চৌমাথা সিএমবি সড়কে শহীদ জননী বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহান আরা বেগম পার্ক নির্মাণ কাজ (চলমান),

২ কোটি টাকা ব্যয়ে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরসড়কস্থ (সদর রোড) ৭ তলা সুপার মার্কেট নির্মাণ কাজ (চলমান), শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ঘেরা নগরীর অশ্বিনী কুমার হল সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধনে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে টাউন হলটি আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সংস্কার কাজ করছে বিসিসি ও নগরীর যানজট নিরসনে কুয়াকাটা-পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কে সাগরদী বেইলি ব্রীজ নির্মাণ প্রকল্প (সম্পন্ন)।

এ বেইলি ব্রীজ নির্মাণ প্রকল্পটি বি-সিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবুল্লাহ অনুরোধে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সহযোগতিা করে।


এছাড়াও সদর উপজেলার সাধারণ  মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ তার ব্যাক্তিগত অর্থায়নে ঐতিহ্যবাহী চরকাউয়া খেয়াঘাট নির্মাণ ও সৌন্দর্য  বর্ধনে একটি খেয়াঘাট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

যা বর্তমানে দৃষ্টিনন্দন পার্কে পরিণত হয়েছে। খেয়াঘাটের উপর অংশ ও যাত্রীছাউনী সাজানো হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির শোভাবর্ধক গাছ, ফ্লোর টাইলস, নানা রং’র আলোকসজ্জার মাধ্যমে। অবহেলিত চরকাউয়া খেয়াঘাটটি এখন শুধু খেয়া পাড়াপারের স্থান নয়, এটি এখন পরিণত হয়েছে এক বিনোদন কেন্দ্রে।

এবিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল বাশার বলেন, বি-সিসি’র বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ মেয়রের দায়িত্ব গ্রহন করার পর থেকে নগরীর বাসিন্দাদের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করে যাচ্ছে।


নগরীর দুূর্বিসহ যানজট নিরসন ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করেই মেয়র দ্রুত নগরীর সাগরদী বেইলি ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তার নির্দেশে সড়ক জনপদের সহযোগিতায় মূল সেতুর পাশে স্টিলের দুটি বেইলি ব্রজ দ্রুত সময়ের ভেতর শেষ করা হয়। বর্তমানে এ সড়কটিতে যানজট অনেকাটা কম। অপরদিকে, বরিশালের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় নিজ অর্থায়নে চরকাউয়া খেয়াঘাটের উন্নয়ন এবং সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবি একেএম জাহাঙ্গির বলেন, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বি-সিসি) মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ নির্বাচিত হওয়ার পর নগরীর বেশ কয়েকটি রাস্তা, ড্রেন, ব্রিজ, কালভার্ট ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ কাজ জরুরী ভিত্তিতে টেকসই সংস্কার করেছেন।

আর এ নির্মাণ কাজে আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন ও আধুনিকতার ছোঁয়া। বর্তমান মেয়র নগরবাসীরকে সাথে নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে বরিশাল নগরীকে একটি আধুনিক মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন।

আরও দেখুনঃ

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন

Exit mobile version